সওয়াবের আশা দুঃখ-কষ্ট লঘু করে
আবু রুশায়দ
সব মানুষেরই দুঃখ কষ্ট হয়। নানান রকমের পেরেশানী থাকে। আল্লাহ তাআলা এভাবেই ইহজীবনের রীতিনীতি সাজিয়েছেন। মুসলমান কাফের সবাই এই নিয়মের অধীন।
কিন্তু মুসলমান ও কাফেরের মধ্যে এই ক্ষেত্রে একটা বিরাট পার্থক্য আছে। মুসলমানের জীবন যেহেতু আখেরাতমুখী, তাই মুসলমানের জীবনে দুঃখ-কষ্টের একটা পরকালীন ফলাফলও আছে। দুঃখ-কষ্টে মুসলমান যে সবর করে ও আল্লাহমুখী হয়, সেজন্য আখেরাতে সে বিপুল সওয়াব পাবে।
উহুদ যুদ্ধের পরে সাহাবীগণ যখন ক্লান্তশ্রান্ত, সেসময় কাফেররা আবার তাদের ওপর আক্রমণ করার ফন্দি করল। তখন আল্লাহ মুসলমানদের বললেন, তোমরাই আগে বেড়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন কর।
আরও বললেন–
اِنْ تَكُوْنُوْا تَاْلَمُوْنَ فَاِنَّهُمْ یَاْلَمُوْنَ كَمَا تَاْلَمُوْنَ وَ تَرْجُوْنَ مِنَ اللهِ مَا لَا یَرْجُوْنَ .
তোমাদের যদি কষ্ট হয়ে থাকে, তবে তাদেরও তো তোমাদেরই মতো কষ্ট হয়। আর তোমরা আল্লাহর কাছে এমন জিনিসের আশা কর, যার আশা তারা করে না। –সূরা নিসা (০৪) : ১০৪
অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে গেলে হয়তো তোমাদের কষ্ট হবে। তো এই জাগতিক কষ্ট তো তারাও ভোগ করে। কিন্তু এর বিনিময়ে তোমরা আখেরাতে যে বিপুল প্রতিদান পাওয়ার আশা কর এবং তা তোমরা পাবেও, সেটা তারা পাবে না। তাদের তো সেই বিশ্বাসই নেই।
সূরা বাকারার ১৫৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা বিপদাপদে সবরের পরিচয় দেবে, আল্লাহমুখী হবে তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর বিশেষ করুণা, দয়া ও পুরস্কার।
সূরা হাদীদের ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের যে বিপদ-মসিবত দেখা দেয়, তা পূর্ব নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ীই হয়। এটা এই জন্য জানালাম, যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য দুঃখিতও না হও এবং যা পেয়েছ তার জন্য উল্লসিতও না হও।
সুতরাং বিপদ-মসিবতে এতটা দুঃখিত হওয়া উচিত নয় যে, তা বহুমাত্রিক অশান্তি ও পেরেশানীর কারণ হয়ে যায়। বরং এই ভেবে সান্ত্বনা লাভ করা উচিত, এটা তাকদীরে ছিল, তাই হয়েছে। এ কষ্ট দুনিয়ার নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। এখন যদি আমি আল্লাহমুখী হই, তাহলে আখেরাতে এর বিনিময়ে অনেক সওয়াব ও অজস্র নিআমত লাভ করব। এভাবে চিন্তা করলে দুনিয়ার কষ্ট লঘু হয়ে যাবে। ঈমানও সুদৃঢ় হবে।