খবর ... অতঃপর ...
জাতীয়
■ প্রথম আলো-ডেইলি স্টার যারা পুড়িয়েছে, তারা জাতির শত্রু : মির্জা আব্বাস
জনকণ্ঠ, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
● বিএনপির নেতাদের এসব কথা কাজে দিয়েছে। বিগত দুয়েক সপ্তাহ থেকে প্রথম আলো-ডেইলি স্টার পড়লে মনে হবে, বিএনপির বি শেষ মুখপত্র। যদিও আজ পর্যন্ত বিএনপি একটা মিডিয়া হাউস দাঁড় করাতে পারেনি।
অনেকেই মনে করেন, বিএনপির ব্যর্থতার মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হল, তাদের কোনো মিডিয়া হাউস দাঁড়ায়নি। তো আপাতত বিএনপি খুশি হতে পারে যে, কয়েক সপ্তাহের জন্য হলেও এই দুই পত্রিকা তাদের মুখপত্রের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু মির্জা আব্বাসদের মনে রাখতে হবে, এই ধরনের পত্রিকা কখনো বিএনপির হয় না। এরা শুধু সময়ের অপেক্ষায় থাকে। এরপর তারা স্বরূপে ফিরে যায়। এদেশে মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে জঘন্য বিষোদ্গার বিগত সময়ে হয়েছে প্রিন্ট মিডিয়াতে, সেগুলোর প্রায় সবগুলোরই মূল জায়গা ছিল প্রথম আলো-ডেইলি স্টার। জানি না মির্জা আব্বাস ও তাঁর দলের লোকেরা এসব পত্রিকা পড়েন কি না!
■ শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সদ্যবিদায়ী বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশ, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
● জুলাই পূর্ববর্তী বাংলাদেশ অর্থাৎ গত ১৫-১৬ বছরে তো বাংলাদেশের উচ্চ আদালত একটা খেল-তামাশায় পরিণত হয়েছিল। গণতন্ত্রীরা বলে থাকে, গণতন্ত্রের মধ্যে রাষ্ট্রের অন্যতম একটি স্তম্ভ হচ্ছে আদালত। বিচার বিভাগ। সেই বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকবে এবং মানুষের মধ্যে ইনসাফ নিশ্চিত করবে। কিন্তু প্রচলিত ব্যবস্থায় এগুলোর ব্যাপকভাবে অনুপস্থিতি দেখা যায় এবং বিচারহীনতা, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা ব্যাপকভাবে আছেই।
এই সমস্যা দেশে দেশে আছে। যেটা এই ব্যবস্থার অত্যন্ত বড় দুর্বলতা। এর চেয়েও বড় ব্যাপার যা ঘটেছিল বিগত সময়ে, সেটা হল, বিচারক নিয়োগের নামে এবং বিচারের নামে তামাশা। সেখানে এমন অনেক বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যাদের নামে বড় বড় ফৌজদারী মামলা এমনকি হত্যা মামলাও ছিল। যাদেরকে শপথ পড়াতেও রাষ্ট্রপতিদের বিব্রত হতে হত।
এটা অনুমেয় ছিল, বিচার বিভাগের কলঙ্ক বিচারপতি পদধারী এ ব্যক্তিরা সরকারের কিছু হলেই একেবারে তুরুপের তাসের মতো ভেঙে পড়বে। ঘটেছেও তাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেখা গেল প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের অনেক বিচারপতি সরে দাঁড়িয়েছেন। আসলে তারা সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। অনেকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত হয়েছেন। কেউ কেউ পদত্যাগ করেছেন, পালিয়েও গেছেন।
এমনই একটি সময়ে দেশের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন সাবেক আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশতিয়াকের ছেলে বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি ইতিমধ্যেই অবসরে চলে গেছেন। তিনি চেষ্টা করেছেন বিচার বিভাগের মধ্যে পরিবর্তন আনতে। যেই কালো দাগ বিচার বিভাগে পড়েছে, সেটা কিছুটা ঘোচাতে। তাঁর জায়গায় নতুন বিচারপতি নিয়োগ হয়েছেন।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাতের ক্ষেত্রে যেটা দেখা গেছে, তাঁকে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে উঠিয়ে এনে সরাসরি প্রধান বিচারপতি করা হয়েছে। যেটা আগের রেওয়াজে ছিল না। আপিল বিভাগ থেকে সিনিয়র একজন হতেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু যেহেতু আপিল বিভাগের প্রায় সকল বিচারপতি ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত। সম্ভবত একজন ছাড়া তাদের সকলেই চলে গিয়েছিলেন, সে কারণে বিচারপতি সৈয়দ রেফাতকে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে উঠিয়ে এনে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল।
সম্প্রতি শপথ নেওয়া প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর কাছে বাংলাদেশের জনগণ আশা করবে, তিনি যেন রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটিকে মানুষের জন্য সহজতর করেন। বিচার বিভাগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণাগুলো আছে, মানুষ যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হয়, সেগুলো তিনি কাটিয়ে উঠবেন।
সবচেয়ে বড় কথা হল, মানুষের আস্থার জায়গা যেন বিচার বিভাগ হয়ে ওঠে। মানুষ যেন বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের তল্পিবাহক মনে না করে। নির্বাহী বিভাগের লোকেরা মানুষের ওপরে চাপ সৃষ্টি করলে, মানুষকে অধিকার বঞ্চিত করলে যেন বিচার বিভাগ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সাহস দেখাতে পারে। যেটা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এই দেশে তো এগুলো প্রায় অনুপস্থিত। নতুন প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগকে এদিকে যদি নিতে পারেন, তবেই জনগণ বিচার বিভাগের প্রতি আস্থাবান হবে বলে আশা করা যায়।
ইতিমধ্যে সদ্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার ব্যাপারে কিছু কাজ অগ্রসর করেছেন। কিন্তু নিজেদের স্বাধীনতা এবং নিজেদের স্বকীয়তা তখনই জনগণের জন্য উপকারী হয়, যখন তা ইনসাফের পথকে সুগম করে এবং এর দ্বারা জনগণ উপকৃত হয়। যদি ক্ষমতাবানেরা তাদের যাচ্ছেতাই-করণ, সংবিধান বিরোধী কাজ করা এবং বেআইনি কাজ করা থেকে বিরত থাকে, আদালত যদি সক্রিয় হয়ে ওঠে এসমস্ত ক্ষেত্রে, তখন বোঝা যাবে, বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়ে জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে এনেছে। দেখা যাক, নতুন প্রধান বিচারপতি এদেশ এবং এদেশের জনগণের পক্ষে কতটুকু ইনসাফের ভূমিকা রাখতে পারেন।
■ জকসু নির্বাচনে ভোট টানতে শিক্ষার্থীদের মাওয়া ভ্রমণে নিল ছাত্রদল
আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন সামনে রেখে ভোট টানতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাওয়া ভ্রমণ আয়োজন করেছে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেল। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মাওয়া ফেরিঘাট এলাকায় প্রকাশ্য প্রচারণা ও আপ্যায়ন করা ১১ (ঙ)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ থেকে পাঁচটি (০৫) বাসে করে দুই শতাধিক জবি শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া হয় মাওয়া ফেরিঘাটে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে নদী ভ্রমণ ও খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের প্রার্থীরা।
জকসু নির্বাচন আচরণবিধি ১১ -এর ঙ -তে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘ভোটারগণকে কোনোরকম পানীয় বা খাদ্য পরিবেশন বা কোনোরূপ উপঢৌকন প্রদান করতে পারবেন না।’
গণকণ্ঠ, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
● মাওয়া ভ্রমণের উৎকোচ শিক্ষার্থীদের মন গলাতে পারবে বলে মনে হয় না।
■ আজীবন আওয়ামী লীগের পাশে থাকার ঘোষণাদাতা জসিম উদ্দিন এবার বিএনপির প্রার্থী
আজীবন আওয়ামী লীগের পাশে থাকার ঘোষণা দেওয়া ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন আহমেদ এবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন– এমন খবরে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা পোস্ট, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
● বিএনপির পাশে থেকেও তিনি আওয়ামী লীগের সেবা করে যেতে চান হয়তো।
■ আওয়ামী সুবিধাভোগী জয় গ্রুপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন মজিবর রহমান শামীম। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি চরমোনাই পীরের দলে যোগ দেন। গত সরকারের সময়ে মজিবরের মালিকানাধীন জয় গ্রুপ একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা পরিশোধ করেনি। এ কারণে ট্রাস্ট ব্যাংক গ্রুপটিকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষণা করে।
তবুও রাজনৈতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণীত নীতির ব্যাখ্যা ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংক জয় গ্রুপকে বিশেষ এক্সিট সুবিধা দিয়েছে– যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, জয় গ্রুপ আগের সরকারের আমলেই সুবিধাভোগী ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরীর চাপেই এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।
নয়া দিগন্ত, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
● এভাবেই দেশের বিভিন্ন সেক্টরে পতিত আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসররা ঘাঁটি গেড়ে আছে। যারা বিভিন্নভাবে তাদের লোকজনকে সহায়তা দেওয়া, সুবিধা দেওয়া এবং তাদেরকে ক্ষমতায়নের চেষ্টায় লিপ্ত। প্রয়োজন এদেরকে চিহ্নিত করা এবং শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর দেউলিয়াত্বের বড় প্রমাণও এধরনের ঘটনা।
■ মুজিবের ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিও বাদ গেল পাঠ্যবই থেকে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিমার্জন করা হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে বিতরণের জন্য প্রস্তুত পুস্তকগুলোতে শেখ মুজিবের উপাধি ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’সহ নানা বিতর্কিত বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশ, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
● তা তো যাওয়াই উচিত। জোর করে কি কোনো উপাধি কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায়? বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর পর মুজিব কি এ দেশের জন্য কোনো অবদান রাখতে পেরেছেন? তিনি তো শুধু একনায়কতন্ত্র এবং জুলুমেরই স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
■ রাষ্ট্রীয় শোক উপেক্ষিত, ঢাকায় থার্টি ফার্স্ট উদ্যাপন
ডিএমপির নির্দেশনা উপেক্ষিত, বাসা-বাড়ির ছাদে ফুটছে আতশবাজি। হ্নসাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশে শোকের মাতম চলছে। এই সময়ে থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতজবাশি ও সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে এ নির্দেশনা উপেক্ষিত করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে বাড়ির ছাদ। প্রস্তুত করা হয়েছে আতশবাজির জন্য। সন্ধ্যার পর থেকেই আতশবাজি ফুটানো শুরু হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাজধানীর সমস্ত এলাকায় এমন দৃশ্যের খবর পাওয়া যায়।
যাযাদি, ১ জানুয়ারি ২০২৬
● এই খবর যায়যায়দিন পত্রিকায় দেখে একটু অবাকই লাগল। যদিও এই যায়যায়দিন সে যায়যায়দিন না। যায়যায়দিন পত্রিকা একসময় সাপ্তাহিক ছিল। সেটার সম্পাদক ছিলেন শফিক রেহমান। এই ভদ্র লোক বাংলাদেশে যত খারাপ বিদেশি ও পশ্চিমা সংস্কৃতি আছে, সেগুলোর প্রধান আমদানিকারকদের একজন। এখানে ভ্যালেন্টাইনস ডে, থার্টি ফার্স্ট নাইট এরকম হাবিজাবি যত ধরনের পশ্চিমা শয়তানীর যত পদ্ধতি, অর্থের অপচয় এবং এদেশীয় সভ্যতা সংস্কৃতিকে বিলীন করে দিয়ে সেই জায়গায় পশ্চিমা দুর্গন্ধযুক্ত বেহায়াপনার সংস্কৃতিকে বসানোর কাজে এ দেশে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হল এই ব্যক্তি। তিনি হয়তো বেঁচে আছেন। বুড়ো হয়ে গেছেন। যায়যায়দিন পত্রিকা পরে দৈনিক হয়েছে। বিএনপি সরকার তাঁকে দিয়েছিল।
যাইহোক, সেই পত্রিকা এখন থার্টি ফার্স্ট নাইটের বিরুদ্ধে বলল। কথাটা শুনতেও একটু পুলকিত হওয়ার মতো ব্যাপার। যদিও এখানে শিরোনাম করা হয়েছে ‘রাষ্ট্রীয় শোক উপেক্ষিত’। রাষ্ট্রীয় শোক উপেক্ষার বিষয় তো আছেই। রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে আবার আনন্দ কীসের? তার থেকেও বড় ব্যাপার হল, রাষ্ট্রীয় শোক থাক না থাক, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদ্যাপন তো এদেশীয় কালচার নয়। এটা উদ্যাপনের নামে যে অপচয় করা হয়, সে অপচয়ের কোনো অর্থই নেই। এছাড়া যে ধরনের বেহায়াপনা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষত বড়লোকি পাড়াগুলোতে তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীরা এ রাতে করে থাকে, সেগুলো জঘন্যতম হারাম হওয়ার পাশাপাশি আবহমান কাল থেকে চলে আসা এদেশের সভ্যতা-সংস্কৃতির সাথেও সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। যারা এই দেশের তরুণ-যুবকদেরকে এসমস্ত পথে নামিয়েছে, এগুলোর জন্য তো তারাই আসলে দায়ী। এখন সমাজে যাদের নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ আছে, সমাজে যাদের কাজ করার সুযোগ আছে, তাদের উচিত তরুণ-যুবকদেরকে এসমস্ত অহেতুক ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখার প্রতি সচেষ্ট হওয়া।
■ গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য হাহাকার মিলছে না বেশি দামেও
হঠাৎ লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। বেশি দাম দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন আগের ১২৫৩ টাকার এলপিজি গতকাল শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১৮০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। এর পরও অনেক এলাকায় মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকেই সরবরাহ নেই, তাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাইনের গ্যাসেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ক্যাব বলছে, বিইআরসির নীরবতায় বাজারে বড় ধরনের কারসাজি চলছে। শুধু রাজধানী নয়, দেশজুড়েই এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আমার দেশ, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
● ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশি পদ্ধতির আগ্রাসন। এগুলো তো বিগত সময়, বিগত সরকারের আমলে খুবই দেখা যেত। কারণ অধিকাংশ ব্যবসাপাতির নিয়ন্ত্রণই আওয়ামী লীগারদের হাতে আগেও ছিল, এখনো আছে। এই যে কয়দিন আগে দেখা গেল, নোয়াবের প্রেসিডেন্ট বানিয়ে দেওয়া হল আওয়ামী লীগের এ কে আজাদকে, যিনি কিনা ডামি নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে এমপি হয়েছিলেন। এমপি হওয়ার পরে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাদেরকে যেভাবে থাকতে বলেন সেভাবে থাকব। নেত্রী যদি বলেন আওয়ামী লীগে যোগ দিতে আমরা আওয়ামী লীগে যোগ দেব। স্বতন্ত্র থাকতে বললে আমরা স্বতন্ত্র থাকব।’
সে ব্যক্তি কিন্তু তাঁর দলের পতনের দেড় বছর যেতে না যেতেই একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে গেছেন এবং হাঁকডাক দিচ্ছেন। বিভিন্ন ব্যবসা ক্ষেত্রেও সরকারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলেন।
এই যে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে এই তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা– এগুলো ব্যবসায়ীদের অধিক ক্ষমতার মালিক হওয়া, সরকারের বাইরে আরেক সরকারের কথা যে বলা হয়, সেটারই প্রমাণ তারা দিচ্ছেন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে সরকারের হাত যে অত্যন্ত দুর্বল সেটারও প্রমাণ বহন করছে। জনগণের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস জ্বালানি। এখনকার সময়ে গ্যাস সিলিন্ডার অন্যতম জ্বালানি ব্যবস্থা। এমনকি যেসমস্ত জায়গায় লাইনের গ্যাসের সাপ্লাই আছে, সেখানেও সারা বছরই গ্যাসের চাপ কম থাকে। শীতকালে তো মানুষ গ্যাস পায় না বললেই চলে। সুতরাং সব বাসাতেই সিলিন্ডারের ব্যবস্থা রাখতে হয়। তো তাদের যে কি কষ্টের সময় যাচ্ছে, সেটার খবর কি সরকারের নেই?
ব্যবসায়ীদের কথা তো বলে লাভ নেই। তাদের কাজই তো হল, মানুষের গলা টিপে মুনাফা কামানো। সাধারণ জনগণ এসব থেকে কবে মুক্তি পাবে, তা জনগণ জানে না।
■ নির্বাচনের আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ছেড়েছেন শামা ওবায়েদ
ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত ২০ নভেম্বর তিনি সেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ইত্তেফাক, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
● তাঁর বাবা তো এদেশের জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। বিএনপির সেক্রেটারিও ছিলেন একসময়। কিন্তু মেয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিতে। যারা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের নাগরিকত্বের জন্য হেঁটে বেড়ায়, যারা ভিন দেশের নাগরিক হয়ে যায়, ভিন দেশের আনুগত্য প্রকাশ করে, তাদের আবার এ দেশে রাজনীতি করতে আসার কী দরকার? যে ভিন দেশের নাগরিক সে ভিন দেশেই থাকুক। এদেশের যিনি নাগরিক, এ দেশে যিনি নির্বাচন করবেন, তার তো এই দেশের হয়েই থাকা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করার পরেও যারা আবার এমপিত্বের জন্য এদেশে দৌড়ে আসেন, ভিন দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন, এর মাধ্যমে তারা কী জানান দিতে চান? এখানকার হালুয়া রুটির স্বাদ অনেক বেশি? সুযোগ সুবিধা বেশি? শামা ওবায়েদ হয়তো একাই নন, এরকম আরও অনেকেই থাকবেন, যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এবং ছিল, যারা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবেন।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র
■ মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সাম্প্রতিক সামগ্রিক পরিস্থিতি ও দুই দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিসিআইয়ের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা। একই সঙ্গে মোস্তাফিজের বদলে নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতিও ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
● ভারতে এসব ঘটে গেলেও হিন্দুত্ববাদ নিয়ে এদেশে তেমন কোনো শব্দ নাই। ওখানে হিন্দুরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। একজন মুসলিম বাংলাদেশি খেলোয়াড়, মুসলিম খেলোয়াড় কেন একটা দলে থাকবে, এজন্য ভারতীয় বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্দেশ দিয়েছে এবং মোস্তাফিজকে বেরও করে দেওয়া হয়েছে।
এটা তো খেলার জগতের কথা; কিন্তু সাধারণ জনগণের দৃষ্টিতে বিষয়টা দাঁড়াল, ভারত কতটা হিন্দুত্ববাদী এবং কতটা বাংলাদেশ-বিদ্বেষী। এখানে মুসলিম-বিদ্বেষের সাথে কিন্তু যোগ হচ্ছে বাংলাদেশ-বিদ্বেষ। বাংলাদেশি একটা খেলোয়াড় থাকতে পারবে না, সেখানে ভারত মুসলিম-বিদ্বেষ বাংলাদেশ-বিদ্বেষ সব একাকার করে ফেলছে। একটা হল হিন্দুত্ববাদীরা জোর করে করছে, তারা প্রতিবাদ করছে বা তারা আগ্রাসী হয়ে উঠছে; কিন্তু বোর্ড থেকে নির্দেশ দেওয়ার মানে হল, ভারতের সরকারের সিদ্ধান্ত এটা। তো ভারতীয় সরকার প্রকাশ্যেই বাংলাদেশ-বিদ্বেষ দেখিয়ে দিল।
যেসমস্ত ঠুনকো অজুহাত উঠিয়েছে, সেগুলো ঠুনকো বললেও বেশি বলা হয়ে যায়। সেখানে বলা হয়েছে কোথায় কোন্ হিন্দুকে মেরেছে। কোনো হিন্দুকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা তো দূরে থাক, কারও ওপর জুলুম করাও অসমর্থনযোগ্য। এটা তো কেউই সমর্থন করবে না। কাউকে এরকম হত্যা করা হয়ে থাকলে অবশ্যই সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত এবং দোষীকে কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। কিন্তু যদি একজন হিন্দুকে মারার জন্য একটা দেশের বিরুদ্ধে, একটা দেশের নির্দিষ্ট লোকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়; তাহলে ভারতে যে নিয়মিতই কোথাও না কোথাও মুসলমানদেরকে হত্যা করা হচ্ছে, হেনস্তা করা হচ্ছে, এজন্য কি ভারতীয়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? বাংলাদেশে যে ভারতীয়রা আছে, চাকরি-বাকরি করছে, ভারতীয় মিশন এখানে আছে; তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে? কেউ কোনো কথা উঠিয়েছে? এমন আচরণ করে আসলে ভারতীয়রা নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেরাই এগুলো করার অনুমোদন দিচ্ছে!
সামনে নির্বাচন। যারা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার প্রত্যাশা রাখে, তাদের স্পষ্ট করতে হবে, নির্বাচনে জয়ী হলে ভারতের বিষয়ে তাদের নীতি কী হবে? ভারতের আগ্রাসনকে এভাবে তারা সমর্থন দিয়ে যাবে, না নিজেদের স্বকীয়তা, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উদ্যোগী হবে? এসব বিষয় দলগুলোকে পরিষ্কার করতে হবে।
আন্তর্জাতিক
■ হাদির হত্যাকারীদের ধরতে ৫৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা মার্কিন শিখ সংগঠনের
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ধরতে ৫৫ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে শিখ ধর্মাবলম্বিদের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন শিখস ফর জাস্টিস (এসএফজে)।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রদত্ত বক্তব্য অনুযায়ী, হাদি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা ভারত পালিয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে হত্যাকারীদের বর্তমান অবস্থান, গ্রেফতার ও প্রত্যর্পণে সহায়ক যেকোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদান করলে ঘোষিত পুরস্কার দেওয়া হবে।
সংগঠনটির জেনারেল কাউন্সেল গুরপতবন্ত সিং পান্নুন বলেন, ‘ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ভারত সরকারের নির্দেশে সংঘটিত হয়েছে। এটি সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত ভারতীয় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অংশ, যা কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের সাথে মিল রয়েছে।’
নয়া দিগন্ত, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
● এভাবে যদি পৃথিবীর মজলুমরা এবং অধিকার বঞ্চিতরা একে অন্যের জন্য এগিয়ে আসে, তাহলে একসময় জালিম ও আগ্রাসীদের পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে। ভারতে সংখ্যালঘুদের মধ্যে মুসলমানরা দীর্ঘ জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকলেও অন্যান্য সংখ্যালঘু শিখ এমনকি খ্রিস্টানরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্যাতিত। তাদের ওপরও ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হয়।
একারণেই ভারতে শিখরা বহু বছর থেকে স্বাধীনতা চেয়ে আসছে। অনেকের মতে এটি তাদের অধিকারও বটে। সে শিখদের ওপর শুধু ভারতের ভেতরে নির্যাতন হয় না; গত বছর কানাডাতেও শিখদের বড় এক নেতা হত্যার শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে বিগত সময়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সাথে ঝগড়াও হয়েছে মোদি সরকারের সাথে। তখন কানাডা সুস্পষ্টভাবেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’কে দায়ী করেছিল। সেই নির্যাতিত শিখ গোষ্ঠী ঘোষণা দিয়ে জানান দিল, তারা নির্যাতিত ও মজলুম হলেও অন্যান্য দেশের মজলুমদের প্রতিও সহানুভূতিশীল থাকবে এবং যেকোনো অন্যায় হত্যার বিরোধিতা তারা করবে।
■ ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রস্তাব
ফ্রান্স সরকার ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্সেস নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। সরকারের নতুন খসড়া আইনে অনলাইন নিরাপত্তা ও শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে রক্ষা করার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্যকর হতে পারে।
আমার দেশ, ১ জানুয়ারি ২০২৬
● ভালো প্রস্তাব। এর আগে অস্ট্রেলিয়াও নিষিদ্ধ করেছে। যে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো এসব চালু করে পুরো বিশ্বকে অধঃপতনে ঠেলে দিয়েছে, শুধু অধঃপতনে ঠেলে দেয়নি; বরং নিজেরাও এগুলোর চাপে পড়েছে এবং এগুলোর ক্ষতিকর দিক তারা প্রত্যক্ষ করছে; এখন সেটা বন্ধ করতে পারবে কি না, নিষিদ্ধ করতে পারবে কি না বা নিষিদ্ধ করলে ঠেকাতে পারবে কি না– সেটা ভিন্ন কথা। তবুও এটা ভালো উদ্যোগ। দেশে দেশে অস্ট্রেলিয়াকে অনুসরণ করা দরকার। ফ্রান্স যদি এই কাজ করে, তাহলে সেটা ভালো। শুধু ১৫ বছরের ছেলেমেয়েদের জন্যই নিষিদ্ধ করা নয়, বরং বড়দেরকেও একটা নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসা দরকার। অযথা কাজে সময় ব্যয় করা এবং অর্থ ব্যয় করার পথ থেকে বিরত রাখা দরকার। সবচেয়ে বেশি দরকার এসকল মাধ্যমে অযথা ও দ্বীনধর্ম, সভ্যতা পরিপন্থি পোস্ট প্রদানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সরকার তো তাদের বিরুদ্ধে দেয়া পোস্ট নিয়ন্ত্রণ করতে আইন করছে। তারচেয়েও বেশি প্রয়োজন অযথা ও অন্যায় পোস্ট থেকে আইনগত বাধা প্রদান করা।
■ স্ত্রীসহ মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে মার্কিন বাহিনীর ডেল্টা ফোর্স। শুক্রবার দিবাগত রাতে ভেনেজুয়েলায় হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। কারাকাসের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
এদিকে আটকের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আটকের কথা জানান।
আমার দেশ, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
● আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব খুশির সাথে এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি যেরকম টিভি লাইভ শো দেখি, সেভাবেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি।’
সামরিক দিক থেকে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার কোনো তুলনা হয় না। সুতরাং আমেরিকার মতো একটি রাষ্ট্র আক্রমণ করলে ভেনেজুয়েলা সহজে প্রতিরোধ করতে পারবে না, খুব স্বাভাবিক এবং হয়েছেও তাই।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে ট্রাম্পের বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখানে তাদেরকে তথাকথিত বিভিন্ন ফৌজদারী অপরাধের কারণে মামলার সম্মুখীন হতে হবে। তাদেরকে সেই বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে আমেরিকান সিনেটর মাইক ঘোষণা দিয়েছেন। এইসব ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে, বর্তমান পৃথিবী কাগজে-কলমে এবং সাধারণ দৃষ্টিতে যতই ভদ্রতা ও সভ্যতা দেখাচ্ছে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক আইন-কানুন যত কিছুর হাওয়ালা দেওয়া হচ্ছে, সবই আসলে লোক দেখানো। এগুলোর কোনোই মৌল ভিত্তি নেই। এখনো সেই ‘জিসকি লাঠি উসকি বাহিস–জোর যার মুল্লুক তার’ এখনো রয়ে গেছে। এখনো একেবারে সভ্যতার আগের যুগে যে মানুষ ছিল, ইসলামপূর্ব মধ্যযুগে বর্বরতা যেটাকে বলা হয়, সে যুগে রয়ে গেছে। শক্তি বেশি আছে বলে একজনকে ধরে নিয়ে আসা হল। কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করা হল না।
যদি মাদুরো বা ভেনেজুয়েলার লোকেরা কোনো অন্যায় করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ আছে। সেখানে অভিযোগ আনা যেতে পারত। অন্য পদক্ষেপও নেওয়া যেত। এটাও ঠিক যে মাদুরো ভেনেজুয়েলায় অনেকটা একনায়কতন্ত্র কায়েম করে রেখেছিলেন। সেখানে তাঁর ইচ্ছাই অনেকটা শেষ কথা ছিল। কিন্তু সেটির প্রতিকার তো ভেনেজুয়েলার জনগণ করার অধিকার রাখে। অন্য দেশ কেন সেখানে হস্তক্ষেপ করবে? এর আগে যে আমেরিকা, ইরাক, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশের একনায়কদের ক্ষমতাচ্যুত করেছে, সেখানে কোন্ গণতন্ত্র কায়েম হয়েছে? জনগণ কি সেসব দেশে তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে? সুতরাং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে উঠিয়ে নেয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরেক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবেই ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে। অনেকেই বলছেন, খোদ ভেনেজুয়েলা সরকারের লোকেরাও বলছে, আমেরিকার আসলে লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে খনিজ সম্পদের প্রতি।
আমেরিকার নিকটতম রাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা। সেখানে পৃথিবীর প্রায় সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেলের খনি রয়েছে এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদও আছে। আমেরিকা চায় সে দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খনিজ সম্পদ কব্জা করতে। সেজন্যেই মাদুরোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা। আমেরিকা আর কোন্ কোন্ স্বার্থ অর্জন করতে চায়, সেগুলো হয়তো ভবিষ্যতে আরও বেরিয়ে আসবে; কিন্তু এই হামলা এবং এই গ্রেফতারি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তিধর রাষ্ট্রটি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না।
ট্রাম্পের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ, তিনি যা মনে চায়, তা-ই করেন। ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘এই হামলা প্রমাণ করেছে, ট্রাম্প নিজে যা বলেন, তা-ই করেন।’ এহেন আচরণকে হঠকারিতা বলা হয়; দায়িত্বশীলতা বলা হয় না। অথচ এটাকেই এখন ভালো হিসেবে প্রমাণ করা হচ্ছে।
খবরে এসেছে, ট্রাম্প তাঁর এই ইচ্ছার কথা সবার আগে যাকে জানিয়েছেন, তিনি হলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক সংবাদে প্রচার হয়েছে, এই হামলার জন্য রাস্তা তৈরি করেছে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ মিলে। যাবতীয় আগ্রাসনের মধ্যেই এখন আমেরিকা ও ইসরাইলকে পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে।
গ্রন্থনা : ওয়ালিউল্লাহ খান