এগুলোও কুরআন অবমাননা
আল্লাহ তাআলা কুরআন কারীমে বলেছেন–
أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ.
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ.
وَ اِذْ صَرَفْنَاۤ اِلَیْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ یَسْتَمِعُوْنَ الْقُرْاٰنَ فَلَمَّا حَضَرُوْهُ قَالُوْۤا اَنْصِتُوْا فَلَمَّا قُضِیَ وَلَّوْ اِلٰی قَوْمِهِمْ مُّنْذِرِیْنَ، قَالُوْا یٰقَوْمَنَاۤ اِنَّا سَمِعْنَا كِتٰبًا اُنْزِلَ مِنْۢ بَعْدِ مُوْسٰی مُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیْهِ یَهْدِیْۤ اِلَی الْحَقِّ وَاِلٰی طَرِیْقٍ مُّسْتَقِیْمٍ، یٰقَوْمَنَاۤ اَجِیْبُوْا دَاعِیَ اللهِ وَاٰمِنُوْا بِهٖ یَغْفِرْ لَكُمْ مِّنْ ذُنُوْبِكُمْ وَ یُجِرْكُمْ مِّنْ عَذَابٍ اَلِیْمٍ، وَ مَنْ لَّا یُجِبْ دَاعِیَ اللهِ فَلَیْسَ بِمُعْجِزٍ فِی الْاَرْضِ وَلَیْسَ لَهٗ مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءُ اُولٰٓىِٕكَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ.
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ করে বলেছেন–
وَ اِذْ صَرَفْنَاۤ اِلَیْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ.
আপনি যখন কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন, তখন জিনদের একটি দলকে আমি আপনার কাছে পাঠিয়েছি।
یَسْتَمِعُوْنَ الْقُرْاٰنَ .
কুরআনের তিলাওয়াত শোনার জন্য।
فَلَمَّا حَضَرُوْهُ قَالُوْۤا اَنْصِتُوْا.
অর্থাৎ যখন তারা তিলাওয়াতের পরিবেশে এসে পৌঁছল, তখন একে অপরকে বলল– এই, তোমরা চুপ হও! মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে!
فَلَمَّا قُضِیَ وَ لَّوْ اِلٰی قَوْمِهِمْ مُّنْذِرِیْنَ.
অর্থাৎ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিলাওয়াত যখন সমাপ্ত হল, তখন তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ গোত্রের কাছে চলে গেল ‘মুনযির’ হিসেবে। অর্থাৎ আখেরাতের বিষয়ে সতর্ক করার জন্য। তারা নিজ দায়িত্বে কুরআনের বাণী অন্য জিনদের কাছে পৌঁছে দিতে গিয়েছে। অন্য জিনদের কাছে গিয়ে তারা বলল–
یٰقَوْمَنَاۤ اِنَّا سَمِعْنَا كِتٰبًا اُنْزِلَ مِنْۢ بَعْدِ مُوْسٰی.
হে আমাদের জাতি! আমরা এমন এক কিতাব শুনে এসেছি, যেটি মূসা আলাইহিস সালামের পরে অবতীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ মূসা আলাইহিস সালামের ওপর যে তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছে, এটি তারপরে আরেকটি কিতাব, যা শেষনবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।
مُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیْهِ.
এই কিতাব তার আগের অবতীর্ণ কিতাবেরও সমর্থন করে।
یَهْدِیْۤ اِلَی الْحَقِّ وَ اِلٰی طَرِیْقٍ مُّسْتَقِیْمٍ.
এই কিতাব হকের পথ দেখায় এবং সঠিক পথ দেখায়।
یٰقَوْمَنَاۤ اَجِیْبُوْا دَاعِیَ اللهِ.
হে আমাদের জাতি, তোমরা আল্লাহর এই দাঈর কথা শোনো! তার দাওয়াতে সাড়া দাও!
وَ اٰمِنُوْا بِهٖ.
অর্থাৎ তার প্রতি ঈমান আন! তার প্রতি আল্লাহ যে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন সেই কুরআনের প্রতিও ঈমান আন! এতে কী লাভ হবে?
یَغْفِرْ لَكُمْ مِّنْ ذُنُوْبِكُمْ وَ یُجِرْكُمْ مِّنْ عَذَابٍ اَلِیْمٍ.
আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। কবরের শাস্তি, হাশরের শাস্তি, জাহান্নামের মর্মন্তুদ শাস্তি ইত্যাদি সব ধরনের শাস্তি থেকে আল্লাহ তোমাদের হেফাযত করবেন!
وَمَنْ لَّا یُجِبْ دَاعِیَ اللهِ فَلَیْسَ بِمُعْجِزٍ فِی الْاَرْضِ.
অর্থাৎ যদি কেউ এই দাঈর দাওয়াতে সাড়া না দেয়, তাহলে সে পৃথিবীর কোথাও গিয়ে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। আল্লাহর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কেউ কখনো সফল হতে পারে না। তাঁর দাওয়াতে যে সাড়া দেবে না, তার সব বরবাদ হয়ে যাবে!
وَ لَیْسَ لَهٗ مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءُ.
আর আল্লাহ ছাড়া সে কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।
اُولٰٓىِٕكَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ.
যারা ঈমান আনল না, তারা স্পষ্ট গোমরাহীর মধ্যে রয়েছে। –সূরা আহকাফ (৪৬) : ২৯-৩২
এই হল কুরআনের মাহাত্ম্য-মর্যাদা! যা জিন জাতি বুঝেছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং এই কুরআনের প্রতি জিনদের ঈমান আনা এবং অন্য জিনদের মধ্যে ঈমানের দাওয়াত প্রদান সম্পর্কে আরও বিশদ বিবরণ সূরা জিনে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন।
কুরআনের কদর ফেরেশতারাও বুঝেছেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে আরেক জায়গায় নবীজীকে লক্ষ করে বলেছেন–
اَقِمِ الصَّلٰوةَ لِدُلُوْكِ الشَّمْسِ اِلٰی غَسَقِ الَّیْلِ وَ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ اِنَّ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوْدًا.
(হে নবী!) সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম কর এবং ফজরের সময় কুরআন পাঠে যত্নবান থাক। স্মরণ রেখ, ফজরের তিলাওয়াতে ঘটে থাকে সমাবেশ। –সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৭৮
এখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম কর। অর্থাৎ যোহর আসর মাগরিব এশা। এরপরে আলাদাভাবে ফজরের কথা বলেছেন।
আরও বলেছেন–
اِنَّ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوْدًا.
ফজরের নামাযের কিরাআত শোনার জন্য ফেরেশতারা চলে আসে!
কুরআন তিলাওয়াতকারীকে ফেরেশতারা কত সম্মান করে সেটাও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে! কোথাও যদি এমন হয় যে, কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে কুরআন তিলাওয়াত করছে, পরস্পর মশক করছে, একজন শেখাচ্ছে আরেকজন শিখছে অথবা একজন তিলাওয়াত করছে, অন্যরা শুনছে। চাই সেটা কোনো ঘরে, মসজিদে অথবা ঘরের বাইরে অন্য কোথাও, তখন ফেরেশতারা একে অপরকে ডাকতে থাকেন! এখানে তিলাওয়াতের মজলিস হচ্ছে, সবাই এসো! শুধু তাই নয়, এই তিলাওয়াতকারীদেরকে ফেরেশতারা বেষ্টন করে নেয় এবং ধাপে ধাপে তাঁদের বেষ্টনী আসমান পর্যন্ত যেতে থাকে। তারা আল্লাহকে বলেন, আল্লাহ! আপনার বান্দারা কুরআন তিলাওয়াত করছে! আপনি তাদের প্রতি খাস রহমত ও সাকীনা নাযিল করুন! (দ্রষ্টব্য : সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৯৯)
কুরআনের কদর বুঝতে হলে ঈমান মজবুত থাকতে হয়
কুরআনের কদর ফেরেশতারা বোঝেন। কুরআনের কদর জিন জাতি বুঝেছে। কুরআনের কদর আগের নবীগণও বুঝেছেন। তাঁরা কুরআনের কথা বলেছেন, কিন্তু দেখে যেতে পারেননি। কুরআনের কদর আল্লাহর সকল প্রাণী বুঝেছে। আমরা যা কিছু প্রাণহীন মনে করি, কুরআনের কদর সেগুলোও বোঝে।
আল্লাহ কুরআনে বলেছেন–
لَوْ اَنْزَلْنَا هٰذَا الْقُرْاٰنَ عَلٰی جَبَلٍ لَّرَاَیْتَهٗ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْیَةِ اللهِ.
আমি যদি এ কুরআনকে অবতীর্ণ করতাম কোনো পাহাড়ের ওপর, তবে তুমি দেখতে তা আল্লাহর ভয়ে অবনত ও বিদীর্ণ হয়ে গেছে। –সূরা হাশর (৫৯) : ২১
আসলে কুরআনের কদর বুঝতে হলে কিসমত ভালো হতে হয়! ঈমান থাকতে হয়। কেবল নামধারী মুসলিম হলে হবে না, ঈমান মজবুত থাকতে হবে। ঈমান মজবুত হলে কুরআনের কদর ও মর্যাদা বুঝে আসে। কুরআন তিলাওয়াত করে মজা পাওয়া যায়।
আল্লাহর কালামের কদর ফেরেশতারা করেন। আল্লাহর কালামের কদর মুমিন বান্দারা করেন, মুমিন জিন জাতি করে। কিন্তু আমার মধ্যে কতটুকু আছে কুরআনের কদর? আমি কি কুরআনের সহীহ-শুদ্ধ তিলাওয়াত শিখেছি? আমি কি দৈনিক তিলাওয়াত করি?
যদি আমি সহীহ-শুদ্ধ তিলাওয়াত না শিখি, দৈনিক তিলাওয়াত না করি, তাহলে আমি কুরআনের কদর করছি না। কুরআনের প্রতি যে আমার ঈমান আছে, তার হক আদায় করছি না। আমাকে অবশ্যই কুরআনের সহীহ-শুদ্ধ তিলাওয়াত শিখতে হবে এবং দৈনিক তিলাওয়াত করতে হবে।
আমরা হিন্দুর কাছে, বিধর্মীর কাছে, কাফেরের কাছে কুরআনের সম্মানের আশা করি! অথচ আমরা কি যথাযথ কুরআনের সম্মান করি! কুরআনের যথাযথ হক আদায় করি! নিজেদেরকে প্রশ্ন করা দরকার।
ধর্মগ্রন্থের অবমাননা করা কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না
কখনো কখনো শোনা যায়, কোনো দুর্ভাগা কুরআনের অবমাননা করেছে। কুরআনের অসম্মান করেছে। যারা কুরআনের অবমাননা করে তারা চূড়ান্ত পর্যায়ের অমানুষ! কুরআনের অবমাননা এত বড় অপরাধ, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়!
কুরআনের অবমাননাকারী কাফের হোক, নাস্তিক হোক, যেই হোক, আল্লাহর দ্বীনের নিদর্শনগুলোর সম্মান রক্ষা করা মুমিনের ওপর যেমন ঈমান থাকার কারণে ফরয, অমুসলিমদের ওপর সে কোনো মুসলিম দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে ফরয এবং সে মানুষ হওয়ার কারণেও ফরয।
হিন্দু, ইহুদী, খ্রিস্টান বা নাস্তিক, ওরাও মানুষ। মানুষ হয়ে কুরআন অবমাননা করবে কেন? কুরআন অবমাননা করা তো মানুষের কাজ হতে পারে না। এটা অমানুষের কাজ।
কুরআন আল্লাহর কালাম। আল্লাহ যেভাবে অবতীর্ণ করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে রেখে গিয়েছেন, সেভাবেই সংরক্ষিত আছে। কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। তাই কুরআনের ওপর কোনো কাফেরের ঈমান না থাকলেও সে কুরআনের অবমাননা করতে পারবে না।
কুরআনের যেসব সূক্ষ্ম অবমাননা অনেক মুসলমান করে থাকে
কুরআনের এমন প্রকাশ্য অবমাননা করা তো অমানুষের কাজ। কিন্তু কুরআন অবমাননার এমন অনেক সূক্ষ্ম ধরন আছে, যেগুলো নামধারী অনেক মুসলমানই করে থাকে, কেউ না বুঝে করে, কেউ কেউ বুঝেও করে। এমনই কয়েকটি ক্ষেত্র হল–
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কুরআনের শিক্ষা বাধ্যতামূলক না করা কুরআনের এক ধরনের অবমাননা
মুসলমানদের দেশের স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে কুরআন শিক্ষা বাধ্যতামূলক না করা কি কুরআনের অবমাননা নয়? সেখানে দুনিয়ার সবই শেখানো হচ্ছে! কত অহেতুক জিনিসও শেখানো হচ্ছে! নাচ শেখায়, গীত শেখায়। গুনাহের কাজ শেখায়, কিন্তু কুরআন শেখায় না, এটা কুরআনের অবমাননা নয় কি? এটা কুরআনের সূক্ষ্ম অবমাননা।
কুরআন না পড়া এবং পড়তে না শেখা কুরআনের অবমাননা নয় কি?
যেমনটা ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে, আমরা কুরআন শিখতে অবহেলা করি। কুরআন তিলাওয়াত করতে অবহেলা করি। অথচ এই কুরআন আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা, পথ-নির্দেশিকা। আমাদের মুক্তি ও সাফল্যের সোপান। আবার কুরআন তিলাওয়াত স্বতন্ত্র অনেক বড় ইবাদত। যে কুরআন আমাদের জীবনের অন্যতম প্রধান অবলম্বন, তা পড়তে না শেখা এবং না পড়া কি কুরআনের অসম্মান ও অবমূল্যায়ন নয়?
গিলাফ লাগিয়ে কুরআন সেলফে তুলে রেখে পশ্চিমাদের নীতিতে দেশ চালানো কি কুরআনের অবমাননা নয়?
মুসলমানদের দেশ চালাতে কুরআনের বিধানের বিরোধিতা, কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামী শরীয়তের বিপরীতে আইন প্রণয়ন এবং নীতিমালা প্রণয়ন করা অন্যায়-অপরাধ ও কুফর।
গিলাফ লাগিয়ে কুরআন সেলফে তুলে রেখে পশ্চিমাদের নীতিতে মুসলিমদের দেশ চালানো কি কুরআনের অবমাননা নয়?
আল্লাহ তাআলা সূরা মায়েদার ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াতে বলেছেন, যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারা কাফের, জালেম ও ফাসেক। তারপরে ৪৮ নম্বর আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ করে বলেছেন–
وَ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیْهِ مِنَ الْكِتٰبِ وَمُهَیْمِنًا عَلَیْهِ فَاحْكُمْ بَیْنَهُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَهُمْ عَمَّا جَآءَكَ مِنَ الْحَقِّ.
এবং (হে রাসূল!) আমি তোমার প্রতিও সত্যসম্বলিত কিতাব নাযিল করেছি, তার পূর্বের কিতাবসমূহের সমর্থক ও সংরক্ষকরূপে। সুতরাং তাদের মধ্যে সেই বিধান অনুসারেই বিচার কর, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন। আর তোমার নিকট যে সত্য এসেছে, তা ছেড়ে তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না।
এই হুকুম সকল মুসলমানের প্রতি, সকল মুসলিম শাসকের প্রতি। মুসলমানদের মাঝে আইন কানুন, বিধিবিধান ইত্যাদি প্রণয়ন হবে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন–
اِنِ الْحُكْمُ اِلَّا لِلهِ.
হুকুম আল্লাহ ছাড়া আর কারও চলে না।
এই আয়াত এবং এই ধরনের আয়াত কুরআনে বহুবার বর্ণিত হয়েছে।
মোটকথা, মুসলমানদের দেশ চলবে কুরআন-সুন্নাহ্র নীতিতে। পশ্চিমাদের রীতি-নীতিতে নয়। মুসলিমরা যদি কুরআনের বিধান ছেড়ে বিধর্মীদের রীতিতে দেশ চালায়, তাহলে কি তা কুরআন অবমাননা নয়?
কুরআনে যে কাজগুলোকে হারাম বলা হয়েছে, যেগুলোর কারণে অভিসম্পাত করা হয়েছে, সেগুলোর বৈধতা দেওয়া কি কুরআন অবমাননা নয়?
কুরআনে সুদকে হারাম করা হয়েছে। সুদের লেনদেনকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন–
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَ ذَرُوْا مَا بَقِیَ مِنَ الرِّبٰۤوا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ،فَاِنْ لَّمْ تَفْعَلُوْا فَاْذَنُوْا بِحَرْبٍ مِّنَ اللهِ وَرَسُوْلِهٖ .
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা যদি প্রকৃত মুমিন হয়ে থাক, তবে সুদের যে অংশই (কারও কাছে) অবশিষ্ট রয়ে গেছে, তা ছেড়ে দাও। তবুও যদি তোমরা (তা) না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। –সূরা বাকারা (২) : ২৭৮-২৭৯
কুরআনে মদ হারাম করা হয়েছে। সমকামিতা হারাম করা হয়েছে। এই কঠিন কঠিন হারাম বিধানকে, ঘৃণ্য কাজকে আজকাল মুসলিম দেশে আইন করে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। কুরআনের অকাট্য বিধানকে পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো কি কুরআন অবমাননা নয়?
কুরআনের এমন আরও অনেক ধরনের সূক্ষ্ম অবমাননা আছে, যা অনেকের কাছে অবমাননা মনেও হয় না।
কুরআনের প্রতি খালেস ঈমান থাকলে তো কুরআনের বিধানকে ব্যক্তি জীবন ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে গ্রহণ করার কথা। কারণ, কুরআন–
یَہۡدِیۡۤ اِلَی الۡحَقِّ وَاِلٰی طَرِیۡقٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ.
পথ দেখায় সত্য ও সরল পথের। –সূরা আহকাফ (৪৬) : ৩০
আল্লাহ আরও বলেছেন–
اِنَّ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنَ یَہۡدِیۡ لِلَّتِیۡ ہِیَ اَقۡوَمُ.
এ কুরআন সেই পথ দেখায়, যা সর্বাপেক্ষা সরল। –সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৯
এ ধরনের আরও অনেক আয়াত কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
এই কুরআন হকের রাস্তা দেখায়। সত্য-সঠিক পথের সন্ধান দেয়।
যত তন্ত্র-মন্ত্র, যত ইজম আর মতবাদ, কুরআনের হেদায়েতের সামনে সেগুলো কিছুই না। অতএব, কুরআনের মূল্যায়ন ও মর্যাদা আমাদের শিখতে হবে! কুরআন ও কুরআনের বিধানের প্রতি সর্বোচ্চ ঈমান রাখতে হবে। কুরআন যে শরীয়ত দিয়েছে সে শরীয়তের প্রতি মজবুত ঈমান রাখতে হবে।
কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়! আজকাল নামধারী কোনো কোনো মুসলিম বিধর্মীদের থেকে, তাদের রচিত গ্রন্থ থেকে আদর্শ গ্রহণের কথা বলে! মুসলিম কাফের থেকে আদর্শ গ্রহণ করবে! নাঊযুবিল্লাহ!
আমরা আদর্শ কোত্থেকে গ্রহণ করব– তা তো আমাদের কুরআনেই আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন–
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِیْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ یَرْجُوا اللهَ وَ الْیَوْمَ الْاٰخِرَ وَ ذَكَرَ اللهَ كَثِیْرًا.
রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ– এমন ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ ও আখেরাত দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে। –সূরা আহযাব (৩৩) : ২১
যদি আখেরাতের প্রতি আমাদের ঈমান থাকে, আল্লাহকে স্মরণ করি, তাহলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও সীরাতের মধ্যেই রয়েছে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি পেতে চাইলে নবীজীর সীরাতকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
আমাদের জন্য আদর্শ ও পালনীয় হল কুরআন, নবীজীর সীরাত ও সুন্নত এবং ইসলামী শরীয়ত আদশ। মুসলিম উম্মাহ আর কোথায় আদর্শ খুঁজবে! এগুলো ছাড়া আর সবকিছুই তো বাতিল।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কুরআনের যথাযথ মূল্যায়ন করার তাওফীক দান করুন। এর হক আদায় করার তাওফীক দান করুন। কুরআনের সব ধরনের অসম্মান অবমাননা থেকে হেফাযত করুন। কুরআন-সুন্নাহকেই আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা ও মানার তাওফীক দান করুন– আমীন!