মুহাম্মাদ তাকরীম - জামাত শরহে বেকায়া, কুমিল্লা

প্রশ্ন

ক) আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করতে চাই, কিন্তু পড়তে বসলে মন এদিক ওদিক ছুটে যায়। তাই মনোযোগ সহকারে পড়ালেখা করতে পারি না। পড়াশোনায় মনোযোগ বসানোর কোনো কৌশল যদি থাকে তাহলে দয়া করে জানালে খুশি হব।  

খ) এমন কোনো কৌশল আছে কি, যা অনুসরণ করলে অনেক দিন পড়া মনে থাকে? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব। 

 

উত্তর

ক ও খ) মনোযোগের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় প্রতিবন্ধক তা আগে চিহ্নিত করা দরকার। কিন্তু আমার তো মনে হয়, জীবনের এই সময়টাতে মনোযোগ ও একাগ্রতা নষ্ট হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। রুজি-রোজগারের চিন্তা নেই, জমি-জমার পেরেশানি নেই, বিবি-বাচ্চা ও পরিবারের ঝামেলা নেই, এই অবস্থায় একজন তালিবে ইলমের একমাত্র চিন্তা ইলম অর্জন। একমাত্র কাজ তলবে ইলম।

আসল কথা হল, অন্তরে যে বিষয়ের গুরুত্ব থাকবে তার প্রতি মনোযোগও স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে। আর ইলমে দ্বীনের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও মাহাত্মপূর্ণ বিষয় আর কী হতে পারে? তাই যে মাকামের বিরাছাত হাসিলের জন্য আপনার জ্ঞান-সাধনা সে মাকামের কথা বারবার চিন্তা করুন। আর এটাও ভাবুন যে, এত বড় মাকাম ও এত বিশাল দায়িত্বের জন্য কেমন মেহনত-মুজাহাদা করা উচিত।

এই মাকামের গুরুত্ব বোঝার জন্য মাওলানা মানযুর নুমানী রাহ.-এর আপ কৌন হ্যায়, কিয়া হ্যায়, আওর আপকা মানসিব ও যিম্মাদারী কিয়া হ্যায়, মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর পা জা ছুরাগে যিন্দেগী পাঠ করতে পারেন। কিতাব দুটির বাংলা তরজমাও যথাক্রমে তালিবানে ইলমের রাহে মানযিলজীবনপথের পাথেয় নামে প্রকাশিত হয়েছে।

মনোযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সালাফ ও আকাবিরের জীবনী পাঠও ফলদায়ক হতে পারে, বিশেষত ইলমের জন্য তাদের কুরবানী ও সময়ের কদরদানির উপর লিখিত কিতাবগুলো বেশি বেশি পড়ুন। ইনশাআল্লাহ ফায়েদা পাবেন।

বিশেষভাবে তিনটি বিষয়ে যত্নবান হোন। প্রথমত : চোখ-কান-যবান হেফাযত করুন। দ্বিতীয়ত : অহেতুক কাজ-কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। তৃতীয়ত : খরচ সীমিত করুন, করয থেকে দূরে থাকুন।

একাগ্রতা নষ্ট হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, এক্ষেত্রে আপনার তালিমী মুরববীর পরামর্শ ও নির্দেশনা গ্রহন করুন। আর হিফযের সহজতার জন্য আলকাউসার (ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সংখ্যায়) হিফযুন নুসুস-এর মাকালায় যে নুসখা দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করে দেখতে পারেন। আপনি আমার জন্য দুআ করেছেন। আল্লাহ আমাদের সবার জন্য তা কবুল করুন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ মারজান - দরগাহ মাদরাসা, সিলেট

প্রশ্ন

আমার জানা মতে, কিছু হরফ আছে, যা ফেল-মাসদারের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্ক রাখে, যাকে সিলাহ বলে। আমি এ বিষয়ে জানতে আগ্রহী, যেন সঠিকভাবে সিলাহর প্রয়োগ করতে পারি। এ বিষয়ে কি আলাদা কোনো কিতাব আছে? আর কামূসের সহযোগিতা নিতে চাইলে কোন কামুসটি ভালো হবে। জানালে খুবই কৃতজ্ঞ হব। 

 

 

উত্তর

এই বিষয়ে আলাদা কিতাব বলতে একটি কিতাবের কথাই আমার জানা আছে।

 معجم الأفعال المتعدة بحرف

প্রায় সাড়ে চারশ পৃষ্ঠার এই সুন্দর কিতাবটি লিখেছেন আলজাযাইরের একজন আলিম মুসা বিন মুহাম্মাদ ইবনুল মালয়ানী আহমদী নুয়াইরাত (জন্ম : ১৩২০ হি.)।

যেহেতু বিষয়টিই এমন যে, এর সুনির্দিষ্ট কোনো কায়েদা নেই; বরং প্রত্যেক শব্দের সিলাহ আলাদা আলাদা জানতে হয় তাই প্রত্যেক শব্দের জন্যই আপনাকে নির্ভরযোগ্য কিতাব দেখতে হবে। আরবী অভিধানই এর প্রধান উৎস। শব্দের সিলাহ বর্ণনা করা আরবী অভিধানের মৌলিক লক্ষ্যগুলোর একটি।

শায়খ মুসা আহমদী তার কিতাবের ভূমিকায় যেসব কিতাবের সাহায্য নেওয়ার কথা বলেছেন সেগুলো হল আল্লামা রাযী কৃত মুখতারুস সিহাহ যামাখশারীকৃত আসাসুল বালাগাহ, ফাইয়ুমীকৃত আলমিসবাহুল মুনীর, যানজানীকৃত তাহযীবুস সিহাহ ও আহমদ রেযাকৃত মুজামু মাতনিল লুগাহ ইত্যাদি।

এসব কিতাব ছাড়াও লুগাতের প্রায় সব কিতাবেই প্রত্যেক শব্দের সিলা ও এর কারণে অর্থের পরিবর্তন দেখানো আছে।

আপনি প্রাথমিকভাবে আলমুজামুল ওয়াসীতও সঙ্গে রাখতে পারেন।

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যুবায়ের আশিক - জামেয়াতুল আবরার, আশরাফাবাদ

প্রশ্ন

আমি হেদায়াতুন্নাহু জামাতে পড়ি। আমাদের দরসের একটি কিতাব উসূলুশ শাশী। এ কিতাবটি পড়তে গিয়ে আমাদের কিছু প্রশ্ন জেগেছে। ...। 

 

 

উত্তর

আপনার দুটি চিঠি পেয়েছি। প্রথম চিঠিতে তিনটি প্রশ্ন ছিল, যার শেষ দুটি হচ্ছে উসূলে ফিকহের দুটি মাসআলা সংক্রান্ত। উসূলে ফিকহ ও উসূলে হাদীসের দীর্ঘ ও মুফাসসাল কিতাবগুলোতে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

রাবীর দুই প্রকারের তাকসীম সংক্রান্ত বহছটি ইমাম জাসসাসের আলফুসূল ফিল উসূল- সুন্দরভাবে রয়েছে। অতএব আপনার কোনো উস্তায যদি আল-ফুসূল-এর সাহায্য নিয়ে বিষয়টি আপনাকে হল করে দেন। আর এক সময় আপনি নিজেও তা মুতালাআ করতে পারবেন।

আর সাহাবাদের রেওয়ায়েত ও আমল সংক্রান্ত বিষয়টি আবদুল আযীয বুখারী রাহ.-এর কাশফুল আসরার কিতাবে সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত মাহমুদ আবদুল আযীয মুহাম্মাদ মানহাজুস সাহাবাহ ফিত তারজীহ এই ধরনের বিষয়ে একটি ভালো কিতাব।

তাছাড়া বিশেষভাবে প্রশ্নোক্ত মাসআলা নিয়েও মাকতাবাতুর রুশদ রিয়াদ থেকে দুটি কিতাব প্রকাশিত হয়েছে। একটি হল

حكم الاحتجاج بخبر الواحد إذا عمل الراوي بخلافه، للشيخ عبد الله بن عويض المطرفي

আর অপরটির নাম

مخالف الصحابي للحديث النبوي الشريف دراسة نظرية تطبيقية، للدكتور عبد الكريم النملة

এই ধরনের কিতাবগুলোতে এই জাতীয় প্রত্যেক হাদীস নিয়ে আলাদা আলাদা আলোচনা রয়েছে। এগুলো থেকেও সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। তবে  এসব কিতাবের  বিভিন্ন অধ্যায়ে আরো আলোচনা ও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। যখন সময় হবে আপনি নিজেই এসব কিতাব মুতালাআ করে মাসআলাটি হল করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফ বিন আলতাফ - জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া

প্রশ্ন

মাকতাবুস সফার ফাতহুল বারী ও যাকারিয়া বুক ডিপো হিন্দুস্থানের উমদাতুল কারীর তারকীম শায়খ ফুয়াদ আবদুল বাকী রাহ.-এর। তাই দেখি, উভয়টির নাম্বারের মধ্যে হুবহু মিল। আর আল্লামা মুফতী রফী উসমানী মুদ্দাযিল্লুহুল আলীর তালীকাতের সাথে মাকতাবাতুল আশরাফিয়া দেওবন্দ-এর মওসূয়ায়ে ফাতহুল মুলহিমের তারকীম হচ্ছে নূরুল বাশার ইবনে নূরুল হক সাহেবের।  

এখন উক্ত ফাতহুল বারীর আতরাফে মুসলিম শরীফের যে নাম্বার উল্লেখ করা হয়েছে এই ফাতহুল মুলহিমে তার মিল খুঁজে পাচ্ছি না। পূর্বাপর তালাশ করেও ব্যর্থ হয়েছি। বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ রইল।  

 

উত্তর

ফাতহুল মুলহিম ও তাকমিলার যে সংস্করণটি করাচীর জামেয়া ফারুকিয়ার উস্তায মাওলানা নূরুল বাশার বিন নূরুল হক সাহেবের তাহকীককৃত, এতে তাকরার সহকারে প্রত্যেক হাদীসের বিভিন্ন তরীক ভিন্ন ভিন্নভাবে হিসাব করে একটি নাম্বার দেওয়া হয়েছে। সহীহ মুসলিমের অন্য নুসখায় এই নাম্বারটি নেই। হয়ত এই কারণেই আপনি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

সাধারণত সহীহ মুসলিমের অন্যান্য নুসখায় হাদীসের সাথে দুটি নাম্বার দেওয়া থাকে। একটি নাম্বার হল অধ্যায়ভিত্তিক। প্রত্যেক অধ্যায়ের হাদীসগুলোর জন্য আলাদা আলাদা নাম্বার দেওয়া হয়েছে।

এই নাম্বারটির পরে বন্ধনীর ভেতরে আরেকটি নাম্বার থাকে। এ দুটি নাম্বার শায়খ ফুয়াদ আবদুল বাকী রাহ.-এর তারকীম অনুযায়ী দেওয়া হয়ে থাকে। বন্ধনীর ভিতরের নাম্বারটি পুরো সহীহ মুসলিমের ধারাবাহিক নাম্বার, যেখানে মুকাররার হাদীসগুলোতে আলাদা নাম্বার দেওয়া হয়নি। একই হাদীসের বিভিন্ন তরীক মিলিয়ে একটি হাদীস ধরা হয়েছে। সাধারণত সহীহ মুসলিমের হাদীসের ক্রমিক নাম্বার হিসেবে এটিকেই উল্লেখ করা হয়ে থাকে। সম্ভবত আপনার জিজ্ঞাসিত ফাতহুল বারীতেও এই নাম্বারটি দেওয়া হয়েছে।

এই দুটি নাম্বার সহীহ মুসলিমের প্রায় নুসখায় ছিল। কিন্তু নূরুল বাশার সাহেব মুকাররারসহ হিসাব করে এবং একটি হাদীসের প্রত্যেক তারীককে আলাদা আলাদা হিসাব করে নাম্বার দিয়েছেন, যা আপনি মাওসূয়ায়ে ফাতহিল মুলহিমে দেখতে পেয়েছেন।

বর্তমানে দারুল কলম দামেশক থেকে ফাতহুল মুলহিম ও তাকমিলা একত্রে দৃষ্টিনন্দন মুদ্রনে প্রকাশিত হয়েছে। এটিতে তিনটি নাম্বারই আছে। প্রথমে নূরুল বাশার সাহেবের দেওয়া নাম্বার, তারপর অন্যান্য নুসখায় সাধারণভাবে বিদ্যমান দুটি নাম্বার।

সাধারণভাবে শেষোক্ত নাম্বারটিই হল সহীহ মুসলিমের ধারাবাহিক হাদীস নাম্বার। এই নাম্বার হিসেবেই   বিভিন্ন কিতাবে হাওয়ালা দেওয়া হয়।

শেয়ার লিংক