মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম - সিলেট

প্রশ্ন

 

আমরা যারা নেযামুল আওকাত মোতাবিক পড়ালেখা করি অনেক সময় আমাদেরকে উস্তাদের কোনো কাজে যেতে হয়। পরবর্তীতে হুজুরের কাজ থেকে ফারিগ হওয়ার পর আমাদের নেযামুল আওকাত আর ঠিক থাকে না। এমতাবস্থায় আমরা কী করব? জানালে উপকৃত হব। 

 

উত্তর

আরে দোস্ত! এত সামান্যতেই কি নেযামুল আওকাত নষ্ট হতে পারে?       উস্তাদের খেদমতের পর আবার নেযামুল আওকাতের অনুসরণ করবেন। মাঝে সময়ের কাজগুলো কিছু কিছু করে হলেও করে নেবেন! আমাদের সকল আকাবির নেযামুল আওকাতের পাবন্দ ছিলেন। এক্ষেত্রে হযরত হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ.-এর কথা তো বলাই বাহুল্য। তার একটি ঘটনা আশরাফুস সাওয়ানেহ’ থেকে উদ্ধৃত করছি। তাঁর বিশাল রচনা-ভাণ্ডার এবং  তাঁর সময়ে বরকত হওয়ার পঞ্চম কারণ হলতার অত্যন্ত কঠোর সময় নিষ্ঠা। তিনি বলতেনসময়নিষ্ঠ না হলে দ্বীনের অল্প বিস-র যে খেদমত আমার দ্বারা হয়েছে তা কিছুতেই হতে পারত না। 

সময়নিষ্ঠার ব্যাপারে হযরতের এতই পাবন্দী ছিল যেমুহতারাম উস্তাদ হযরত মাওলানা মাহমুদ হাসান রাহ. একদা মেহমান হলে মেহমানদারী ও আরামের সকল আয়োজন করে দেওয়ার পর হযরত নিতান্ত আদবের সাথে ইজাযত হাসিল করে লেখার কাজে মশগুল হলেন। যদিও মন না বসায় একটু পরেই হযরতের খেদমতে হাযির হয়ে গেলেনকিন্তু সেদিনও একেবারে নাগা’ করেননি। (আশরাফ চরিতবাংলা ৬৭৭) 

এটিই হল নেযামুল আওকাতের উপর আমলের উসূল।

নেযামুল আওকাতে উস্তাদের খেদমতের জন্যও কিছু সময় বরাদ্দ রাখা উচিত। এর দ্বারা কয়েকটি ফায়েদা হবে : এক. নেযামুল আওকাতে বরকত হবে দুই. এ সময় ঐ সব কাজও করা যাবে যা অন্য সময় উস্তাদের খেদমত করার কারণে করা যায়নি। চেষ্টা করলে এই সময় থেকে এই ফায়দাও নেওয়া যায় যেএই সময় কোনো উস্তাদের যিয়ারতে যাওয়াআপনার করার মতো তাঁর কোনো কাজ আছে কি না বিনয়ের সাথে তা জানতে চাওয়া ইত্যাদি।

সর্বোপরি নেযামুল আওকাত তো একটি নেযামই। আহাম-ফালআহাম’ হিসেবে তাতে এদিক ওদিক হতেই পারে। সচেতন তালিবে ইলমের উচিত এতে সু-সমন্বয় করে নেওয়া। সামান্য কারণে নেযামুল আওকাত ভেঙ্গে গেছে মনে করে হাল ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ নেযামুল আওকাত ছাড়া কোনো তালিবে ইলমের যিন্দেগী বনতে পারে না।

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহ আনিস বেদার - হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

ক) আশরুনএবং আশারাতুনশব্দ দুটির ক্ষেত্রে দেখা যায়, শীনকে কখনো সাকিন দিয়ে আবার কখনো যবর দিয়ে পড়া হয়। লেখার ক্ষেত্রেও এমন দেখা যায়। এ বিষয়ে কি কোনো কায়েদা আছে? জানালে উপকৃত হব।

খ) আরবী ভাষায় লিখিত কুরআন মজীদের শানে নুযূল সম্পর্কে লিখিত কোন কিতাবটি মুতালাআয় রাখতে পারি? 

উত্তর

ক) প্রশ্নকৃত ক্ষেত্রে নিয়ম হল-

وأحد عشر رجلا وعشر نساء وإحدى عشرة امرأة.

অর্থাৎ মাদুদ মুযাক্কার হলে শীন মাফতুহ আর মাদুদ মুয়ান্নাছ হলে শীন সাকিন হবে। যেমন আরবী উদাহরণগুলোতে দেখা যাচ্ছে। আহলে লুগাত’ আরো বলেছেনমাদুদ মুয়ান্নাস হলে আরবের নজদবাসীদের মতে শীনকে মাজরুরও পড়া যায়। তবে এই ব্যবহার খুবই কম। (আসসিহাহজাওহারী ২/৭৪৬তাজুল আরূস ৩/৩৯৯জামেউদ দুরূসিল আরাবিয়্যাহ ১৪)

খ) শানে নুযুল তাফসীরুল কুরআন এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রায় সব তাফসীরের কিতাবে তা কমবেশি আলোচিত হয়। তাছাড়া আসবাবুন নুযূল বা শানে নুযূল শিরোনামে অনেক আগে থেকেই আলাদা কিতাবপত্র লিখিত হয়েছে। কয়েকটি কিতাবের নাম উল্লেখ করছি।

১. আসবাবুন নুযুলইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ওয়াহেদী রাহ. (৪৬৮ হি.)

২. আসবাবুন নযুল ওয়াল কিসাসিল ফুরকানিয়াআবুল মুজাফ্‌ফর ইবনে আসআদ ইরাকী হাকীমী রাহ.        (৫৬৭ হি.)

৩. আজাইবুন নুকূল ফী আসবাবিন নুযূলআবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে ওমর আলজুবুরী রাহ. (৭৩২ হি.)

৪. আলউজাব ফী বয়ানিল আসবাবহাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. (৮৫২ হি.)। কিতাবটি তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি। সূরা নিসার কিছু অংশ পর্যন্ত মুসাওয়াদা করেছিলেন। ইতিমধ্যেই তাঁর ইন্তিকাল হয়ে যায়। ঐটুকুই দারু ইবনিল জাওযী’ থেকে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

৫. লুবাবুন নুকূল ফী আসবাবিন নুযূল,  জালাল উদ্দীন সুয়ূতী রাহ. (৯১১ হি.)।

এছাড়াও সমসাময়িক অনেকে এই বিষয়ে সতন্ত্র্য কিছু কিতাবও সংকলন করেছেন। তন্মধ্যে দারু ইবনিল জাওযী’ থেকে তিন খণ্ডে প্রকাশিত সালিম ইবনে আলহিলালী ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আলে নাসর সংকলিতআলইসতিআব ফী     বয়ানিল আসবাব’ উল্লেখযোগ্য।

এখানে কয়েকটি কথা মনে রাখা উচিত।

প্রথম কথা হলউল্লেখিত প্রায় সবকটি কিতাবই শানে নুযূলের রেওয়ায়েত সংক্রান্ত। কোন আয়াত কোন প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছিল-এ সম্পর্কিত রেওয়ায়েতগুলো এসব কিতাবে সংকলিত হয়েছে। দিরায়াতে শানে নুযূল’ এসব কিতাবের বিষয়বসনয়। শানে নুযূল এর হাকীকত ও আহাম্মিয়ত আয়াতের মর্ম ও নির্দেশনা অনুধাবনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব এবং এ সংক্রান্ত মূল নীতিসমূহ দিরায়াতে শানে নুযূলের অন্তর্ভূক্ত। রিওয়ায়েত এর চেয়ে দিরায়াত কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এজন্য সে বিষয়েও সচেতন থাকা আবশ্যক।

দ্বিতীয় কথা হলআয়াতের শানে নুযূল নির্ধারিত হবে রিওয়ায়াত দ্বারা। এখানে আক্বলের কোনো দখল নেই। এজন্য সংশ্লিষ্ট রেওয়ায়েতের ছিহহত-যা’ এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েত ছাড়া শানে নুযূল বর্ণনা করার অবকাশ নেই। আল্লামা ওয়াহেদী রাহ. তাঁর কিতাবের ভূমিকায় বলেন, ‘কুরআনের আসবাবে নুযূল সম্পর্কে কোনো কথা বলা ঐ সময় পর্যন্ত বৈধ নয় যতক্ষণ না মুত্তাসিল সনদে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিংবা সাহাবায়ে কেরাম থেকে রেওয়ায়াত পাওয়া যাবেযারা কুরআন নাযিল হওয়ার পরিবেশ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এর কারণঘটনা ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত ছিলেন। উপরনতারা এই ইলম অর্জনে অক্লান্ত পরিশ্রমও করেছেন। আমাদের সালাফ এ বিষয়ে খুবই সতর্ক ছিলেন। কিন্তু আজকাল লোকেরা আসবাবে নুযূলের নামে মনগড়া কথা বলে এবং মিথ্যা ও কাল্পনিক কথা বর্ণনা করে।

হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. ওয়াহেদী রাহ.-এর উক্তি উদ্ধৃত করার পর বলেন-

بالرواية ما لا يثبت لوهاء بعض رواته

আমি ওয়াহেদীর এই খুতবাটি পাঠ করার পর তাঁর কিতাবটি অধ্যয়ন করলাম। আল্লাহ তাঁকে রহম করুন। তিনি নিজেও ঐ একই ত্রুটির শিকার হয়েছেন। এ সংক্রান্ত অনেক কিছুই তিনি বর্ণনা করেছেন বিলকুল সনদ ছাড়া। অথচ তিনি নিজেই স্পষ্টভাবে বলেছেন যেআসবাবে নুযূলের ক্ষেত্রে রিওয়ায়েত ও সামআ ছাড়া কোনো কথা বলা যাবে না। তদ্রূপ রিওয়ায়েত ও সামআর মাধ্যমেও যা কিছু বর্ণনা করেছেন তাতেও এমন অনেক রেওয়ায়েত রয়েছেযা রাবীদের অতিশয় দুর্বলতার কারণে অগ্রহণযোগ্য। (আলউজাব ১/১৯৯-২০০;আলমাদখাল লি দিরাসাতিল কুরআনিল কারীমমুহাম্মাদ  আবু শাহবা ১২৩)

অথচ পরবর্তীতে যারাই আসবাবুন নুযূল-এর উপর কিতাব লেখেছেন হাফেয ইবনে হাজার রাহ. ছাড়া প্রায় সকলেই ওয়াহেদীর কথাগুলোকে শানে নুযূল-এর মর্যাদা দিয়েছেন। এমনকি সুয়ূতী রাহ.-এর কিতাবেরও অধিকাংশ স্থানে রেওয়ায়েতের যাচাই-বাছাই ও মান উল্লখ করা হয়নি।

হাফেয ইবনে হাজার রাহ. যদি তাঁর কিতাবটি পূর্ণ করে যেতে পারতেন তাহলে একটি শূন্যতা পূরণ হত। তিনিই একমাত্র মুসান্নিফ যিনি এই বিষয়ের কিতাবে রেওয়ায়েতের মান বিশদভাবে আলোচনা করার প্রয়াস পেয়ে ছিলেন।

কথা দীর্ঘ হয়ে গেলআপনার প্রশ্নের উত্তরে সুয়ূতী রাহ.-এর লুবাবুন নুযূল-এর কথাই বলতে হত কিন্তুরেওয়ায়েত সম্পর্কিত যাচাই-বাছাই এখানে কম থাকায় তার স'লে পূর্বে উল্লেখিত আলইসতিআব’-এর কথাই আপনাকে বলব। মাশাআল্লাহহাদীসের তাখরীজ ও মান বর্ণনার জন্য তারা খুব মেহনত করেছেন।   এটি আপনি   সংগ্রহ    কওে পড়তে পারেন। তবে মনে রাখা উচিতহাদীসের মান নির্ণয়ে তাঁদের তাহকীকের সাথে অন্যদের দ্বিমতও হতে পারে।

এ ধরনের কোনো সমস্যা মনে করলে আহলে ফনের সাথে যোগাযোগের মাধ্যামে সমাধান করে নিতে হবে। দিরায়াতু শানিন নুযুল সম্পর্কেও মুতালাআ করা উচিত। শানে নুযূল শিরোনামের কিতাবগুলোতে যদিও বিষয়টি নেই এবং এই বিষয়ে আলাদা কোনো কিতাব আমার জানা নেইতবে উলূমুল কুরআন-এর প্রায় সব কিতাবেই এই আলোচনা রয়েছে। আপাতত উস্তাযে মুহতারাম হযরত মাওলানা তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর কিতাব উলূমুল কুরআন কিংবা ড. আবু শাহবার আলমাদখাল লিদিরাসাতিল কুরআনিল কারীম’ থেকে প্রসঙ্গটি অধ্যয়ন করুন। পরবর্তীতে সুযোগ হলে উলূমুল কুরআনের অন্যান্য কিতাব এবং ইবনে তাইমিয়ার মাজমুউল ফাতাওয়া ও আল্লামা শাতেবীর আলমুওয়াফাকাত’ কিতাবের সহায়তা নিলে এই বিষয়ে ভালো মালূমাত হাসিল হবে ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাজমুল হক - হাটহাজারী মাদরাসা

প্রশ্ন

আমি শরহে বেকায়া জামাতের ছাত্র। ইতিহাস তেমন কিছু জানি না। বিশেষকরে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস, ভারতবর্ষে মুসিলম শাসনের সূচনা ও সমাপ্তির ইতিহাস, বৃটিশ শাসন এবং পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ইতিহাস, বৃটিশ বেনিয়া কর্তৃক মুসলমানদের শোষণ ও নিপীড়ন ইত্যাদি বিষয়ে জানার জন্য নির্ভরযোগ্য বাংলা ও উর্দূ গ্রন্থগুলোর নাম জানতে চাই।

উত্তর

উত্তর : ভারত উপমহাদেশের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নিয়ে কিতাব তেমন একটা রচিত হয়নি। যা কিছু হয়েছে তন্মধ্যে আলীগড় থেকে প্রকাশিত মৌলভী যাকা উল্লাহ দেহলভীর তারীখে হিন্দুস্তান’-এর কথা প্রথমে বলা যায়। সমকালীন এক ইতিহাস লেখকের ভাষায়-এটি উর্দূ ভাষায় ভারতের ইতিহাসের উপর সর্বাধিক বিস্তৃত গ্রন্থ। ফার্সী ভাষায় লিখিত প্রায় সকল ইতিহাস-গ্রন্থের সারনির্যাস এতে এসে গেছে। উপরন্তু ইংরেজি মাসাদির থেকেও সাহায্য নেওয়া হয়েছে। দশ খণ্ড মোট নয়টি ভলিউমে প্রকাশিত হয়েছে। ভারতে আরবদের আগমনগজনভী ও ঘোরী যুগ থেকে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহর যুগ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাবলি এতে সন্নিবেশিত হয়েছে।’ (ছরওয়াত ওলত মিল্লাতে ইসলামিয়া কী মুখতাছার তারীখ ২/৫৪৪)

এছাড়া আরো কিছু কিতাব রয়েছে। যেমন-১. তারীখে ফেরেশতামুহাম্মাদ কাসেম ফেরেশতা রাহ.। ফার্সী ভাষায় রচিত এই কিতাবটি হিন্দুস্তানের ইতিহাসের একটি মৌলিক ও নির্ভরযোগ্য কিতাব। যা উর্দূতে অনুদিত হয়ে চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এই কিতাবে মাহমুদ গজনভী থেকে আকবর পর্যন্ত গোটা হিন্দুস্তানের ইতিহাস রয়েছে।

২. তারীখে ফায়রুয শাহীজিয়াউদ্দীন বরনী। মূল কিতাব ফার্সীতেউর্দূতে এর অনুবাদ হয়েছে। এই কিতাবে বলবানের যুগ থেকে ফায়রুয শাহ তুঘলক এর শাসনের প্রথম যুগের ইতিহাস সংকলিত হয়েছে।

৩. মুনতাখুবত তাওয়ারীখআবদুল কাদের বদীওয়ানী। মাহমুদ গজনভী থেকে আকবর পর্যন্ত যুগের ইতিহাস। মূল কিতাব ফার্সীতে। উর্দূতে অনুদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

৪. মুনতাখাবুল লুবাবখানী খান। ফার্সী থেকে উর্দূতে অনুবাদ হয়ে চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। বাবর থেকে মাহমুদ শাহর যুগের ইতিহাস।

৫.আইনায়ে হাকীকতনুমাআকবর শাহ খান নজীবাবাদী। শুরু থেকে তুঘলকের শাসনামলের শেষ পর্যন্তের ইতিহাস। কিতাবটি এই কারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যেএখানে অমুসলিম ঐতিহাসিকদের বিভিন্ন প্রপাগাণ্ডার বিস্তৃত ও প্রামাণিক খণ্ডন রয়েছে।

৬. সালাতীনে হিন্দমুফতী ইনতিজাম উল্লাহ শিহাবী। শুরু থেকে সুলতান বাহাদুর শাহ পর্যন্ত হিন্দুস্তানের সুলতানদের নিয়ে। উর্দূতে রচিত এই কিতাবের দুই খণ্ড মূলত তারীখে মিল্লাত’ নামক সিলসিলার শেষ অংশযা তিনি এবং কাযী যাইনুল আবিদীন মিরাঠী রাহ. কর্তৃক লিখিত হয়েছে।

এতো গেল পুরো উপমহাদেশের ইতিহাস নিয়ে রচিত পূর্ণাঙ্গ কিছু গ্রন্থ। এছাড়া বিশেষ যুগ ও শাসনামল যেমনঘোরী,মোঘলমুসলিম ও বৃটিশ যুগ নিয়ে আলাদা আলাদা কিছু গ্রন্থও রয়েছে। যেমন- মাওলানা রিয়াসত আলী নদভী লিখিত আহদে ইসলামী কা হিন্দুস্তান। এছাড়া দারুল মুসান্নিফীন আজমগড় থেকে প্রকাশিত সাবাহ উদ্দীন আবদুর রহমানের বযমে মামলুকিয়াবযমে তায়মুরিয়াবযমে সুফিয়া ও আহদে মুঘলিয়া গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ

তাছাড়া বিভিন্ন যুগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রচুর কিতাব রয়েছে। এক্ষেত্রে শায়খ মুহাম্মদ ইকরামের তিনটি কিতাব আবে কাওসাররোদে কাওসার ও মওজে কাওসার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

লাহোরের পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাকশিত তারীখে আদাবিয়াতে মুসলমানানে পাক ও হিন্দ-পাঁচটি খণ্ডও অনেক পরিশ্রম করে তৈরি করা হয়েছে।

হযরত মাওলানা হাকীম আবদুল হাই রাহ.-এর আস সাক্বাফাতুল ইসলামিয়া ফিল হিন্দ’ এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান হযরত মাওলানা আলী মিয়া নদভীর আলমুসলিমুনা ফিল হিন্দও প্রত্যেকের পড়ার মতো কিতাব।

বিভিন্ন রাজা-বাদশাহ-সেনাপতি ও তাদের রাজ্যশাসনের উপর আলাদা আলাদা গ্রন্থ রচিত হয়েছে। বাদশাহ আওরঙ্গজেব,শহীদ টিপু সুলতান ও বাদশাহ আকবরসহ এই ধরনের মনীষীদের উপর স্বতন্ত্র গ্রন্থও কম রচিত হয়নি। এগুলোও মূলত ইতিহাসের একটি অংশ।

তদ্রূপ বড় বড় ফকীহমুজাদ্দিদ ও মুহাদ্দিসের খেদমত ও তাজদীদী কারনামা সম্পর্কে অনেক কিতাব লেখা হয়েছে। এঁদের মধ্যে মুজাদ্দিদে আলফে সানীশাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভীসাইয়েদ আহমদ শহীদ ও কাসেম নানুতুবী রাহ.সহ অন্যান্য আকাবিরে দেওবন্দ উল্লেখযোগ্য। হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. তারীখে  দাওয়াত ওয়া আযীমত দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড। সীরাতে সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ এবং মাওলানা মানযুর নুমানী রাহ.-এর তাযকিরায়ে মুজাদ্দিদে আলফে সানী’ প্রত্যেকের পড়ার মতো কিতাব।

এক বিষয়ের মনীষীদের জীবনীর উপর তাবাকাত’ শ্রেণীর কিতাব যেমন ফুকাহায়ে হিন্দ’, ‘আওলিয়ায়ে হিন্দ’ ও আতিব্বায়ে আহদে মুঘলিয়া’ কিংবা এর কাছাকাছি বিষয়ে যেমন হিন্দুস্তান কী কদীম ইসলামী দরসগাহেঁ ইত্যাদি কিতাবও এই তালিকায় আসতে পারে।

সবশেষে হযরত আলী মিয়া নদভী রাহ.-এর আব্বাজান মাওলানা হাকীম আবদুল হাই রাহ.-আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উচ্চাসনে সমাসীন করুন- যে বিশাল কারনামা’ আঞ্জাম দিয়েছেন তাতো এক কথায় বেনজীর

তেরশ বছরে হিন্দুস্তানের রাজা-বাদশাহআলিম-ফকীহচিকিৎসকপ্রকৌশলীকবি-সাহিত্যিক মোটকথা সর্বশ্রেণীর বড় বড় প্রায় সকল মনীষীর জীবনীমূলক একটি বিশাল এনসাইক্লোপিডিয়া (বিশ্বকোষ) তিনি পৃথিবীবাসীকে উপহার দিয়েছেন।নুযহাতুল খাওয়াতির’ নামক এই অনন্য কিতাবটি বড় বড় আটটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

আক্ষরিক অর্থে ইতিহাস না হওয়া সত্ত্বেও আপনার প্রশ্নের উত্তরে সীরাত-রিজাল-আলামসহ বিভিন্ন বিষয়ের কিতাবাদির আলোচনা কয়েকটি কারণে করেছি। প্রথমত: এদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেশাব্দিক অর্থে না হলেও এগুলোও ইতিহাসেরই এক একটি অংশ। দ্বিতীয়ত: সঠিক ইতিহাস জানা-পড়ার জন্য শুধু এক ধরনের কিতাবাদি কিংবা নির্দিষ্ট কারো তথ্য নিয়ে যাতে বসে থাকতে না হয়। চাইলেই অন্যান্য বিভিন্ন কিতাব থেকেও এই ইতিহাস ও তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

উপমহাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় নিয়ে বর্তমান বেশ চমৎকার ও প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছেন ভারতের মাওলানা নূরুল হাসান রাশেদ কান্ধলভী। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত ত্রৈমাসিক আহওয়াল ও আসার’-এর প্রতি সংখ্যাতেই গবেষণাধর্মী বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। আগ্রহীরা এই পত্রিকাটির গ্রাহক হয়ে এই বিষয়ে বেশ উপকৃত হতে পারেন।

উপমহাদেশের ইতিহাস নিয়ে স্বতন্ত্র ও ধারাবাহিক ইতিহাস গ্রন্থ কম হলেও এই বিষয়ের মাওয়াদ’ কিন্তু কম নয়। বিক্ষিপ্তভাবে যা বিভিন্ন কিতাবপত্রশিলালিপিসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে ছড়িয়ে রয়েছে। এখন যে কাজটি করতে বড় কোনো লাজনার এগিয়ে আসা দারকার তা হলশুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়ের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস সম্পর্কিত সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তা যাচই-বাছাই করে ইতিহাস লিখনীর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বস'নিষ্ঠ একটি কালজয়ী বিশ্বকোষ তৈরি করা। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কোনো জামাতকে এ কাজের জন্য কবুল করে নিন। আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মামুনুর রশীদ - নোয়াখালি

প্রশ্ন

তারীখে মিল্লাত (খিলাফাতে রাশেদা) ও তারীখে মিল্লাত (খিলাফাতে বনী উমাইয়া) কিতাব দুটি দরসে নিজামীতে আছে। উভয় কিতাবের   মুসান্নিফ মাওলানা যাইনুল আবেদীন মিরাঠী। কিন্তু অনেক খুঁজেও তার জীবনী পাইনি। হযরতের নিকট আকুল আবেদন এই যে, তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী উৎসসহ জানাবেন। এতে আমরা অনেকে উপকৃত হব। ইনশাআল্লাহ। 

উত্তর

হযরত মাওলানা কাযী যাইনুল আবেদীন মিরাঠী রাহ. (১৩২৮ হি.-১৪১১হি.) আনুমানিক ১৩২৮ হিজরীতে মিরাঠের ঐতিহ্যবাহী কাযী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মিরাঠের দারুল উলূম মাদরাসা ও ইমদাদুল ইসলাম মাদরাসায় তার পড়াশোনা। ১৩৪৫ হিজরীতে দারুল উলূম দেওবন্দে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন। তিনি আল্লামা কাশ্মিরী রাহ. ও হযরত মাদানী রাহ. উভয়ের কাছ থেকে ইলমে হাদীস অর্জন করেন। ১৩৫৭ হিজরীতে যখন দিল্লীতে নদওয়াতুল মুসান্নিফীন’ প্রতিষ্ঠিত হয় তখন তিনিও সেখানে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। এখানে অবস্থানকালীন তিনি তারীখে মিল্লাতের প্রথম তিনটি খণ্ড যথাক্রমে নবীয়ে আরবীখিলাফতে রাশেদা ও খিলাফতে বনী উমাইয়া রচনা করেন। এ কিতাবগুলো ভালো ও সহজ। কিন্তু এর বেশ কিছু জায়গায় নযরে সানীর প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও তাঁর রচনাবলির মধ্যে বয়ানুল লিসান (আরবী-উর্দূ অভিধান) কামূসুল কুরআনআখলাকে নববী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ১৩৮২ হিজরীতে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শুরার সদস্য নির্বাচিত হন।

১৪১১ হিজরীর ১৪ রমযানুল মুবারক মোতাবেক ৩১ মার্চ ১৯৯১ ঈ. তাঁর ইন্তিকাল হয়। ভারত-পাকিস্তানের সমসাময়িক দ্বীনী পত্রপত্রিকায় তাঁর জীবনী পাওয়া যাওয়ার কথা। উপরে উল্লেখিত তথ্যগুলো মাহনামা দারুল উলূম’ এর ওয়াফায়াত নম্বর১৩৩-১৩৪ পৃ. থেকে নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যাকারিয়া সিরাজী - মাদরাসা আলী ইবনে আবী তালিব রা., কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

প্রশ্ন

ছরফের একটি প্রসিদ্ধ নিয়ম হল, মাফতূহ আলামাতুল মুযারে ও কাসরার মধ্যবর্তী ‘ওয়াও’ কে নিঃশর্তে হযফ করা আবশ্যক। যেমন-

                  ইত্যাদি। আর মাফতূহ আলামাতুল মুযারে ও ফাতহার মধ্যবর্তী ‘ওয়াও’ শর্তসাপেক্ষে হযফ করা আবশ্যক। শর্তটি হল আইন-কালিমায় কিংবা লাম-কালিমায় হরফে হালকী তথা ইযহারের ছয় হরফের কোনো এক হরফ থাকা।

সুতরাং থাকলে হযফ করতে হবে। যেমন-

 

 

 

ইত্যাদি। আর না থাকলে হযফ করতে হবে না। যেমন-

তবে ছরফবিদ ও অভিধানবিদ ওলামায়ে কেরাম          শব্দটিকে ব্যতিক্রম বলেছেন। অন্য কোনো শব্দকে ব্যতিক্রম বলেননি। বিশেষত হরফে হালকী থাকলে। কিন্তু ‘আর-রাইদ’, ‘আলমু’জামুল ওয়াসীত’ ও ‘আল-মুনজিদ’ অভিধানগুলোতে বাবে সামিআ থেকে ব্যবহৃত 

 

 

 

 

 

 

 

 এই শব্দগুলোতে এবং বাবে ফাতাহা থেকে ব্যবহৃত

এই শব্দগুলোতে ওয়াও কে বহাল রাখা হয়েছে, হযফ করা হয়নি।

আরো আশ্চর্যজনক বিষয় হল, ‘আলমু’জামুল ওয়াসীত ও আর-রাইদ এ     

         এর ওয়াও কে বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু আলমুনজিদ-এ বহাল রাখা হয়নি; বরং হযফ করা হয়েছে।

অতএব আমার প্রশ্ন হল, এসব অমিলের কারণ কী? এখানে যদি কোনো অসঙ্গতি থেকে থাকে তাহলে তা অভিধানের অসঙ্গতি না অন্য কিছু? আর যদি উল্লেখিত শব্দগুলোকে ব্যতিক্রমই বলা হয়, তাহলে এত বেশি ব্যতিক্রমের পর মূল কায়েদা অবশিষ্ট থাকে কীভাবে? বিষয়টি একটু বিস্তারিত জানালে খুশি হব। 

উত্তর

মাশাআল্লাহ আপনি বেশ মেহনত করেছেন। মেহনতের এই ধারা অব্যাহত রাখা উচিত। আমার মনে হয়, আরেকটু মেহনত করলে এর উত্তরও আপনি নিজেই পেয়ে যেতেন। যাই হোক, মূল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে আপনার দৃষ্টিতে আকর্ষণ করছি।

১. আমাদের দরসে নিযামীতে ছরফের যে কয়েকটি কিতাব রয়েছে তার প্রায় সবগুলোই ফার্সী ভাষায়, যা ছরফের মৌলিক ও বিস্তৃত কিতাবগুলোর আলোকে হিজরী দশম শতাব্দী ও তৎপরবর্তী সময়ে আমাদের এই উপমহাদেশে রচিত হয়েছে। অতএব ছরফের কোনো কায়েদা-কানুনের মৌলিক জ্ঞান ও উৎস জানা এবং ছরফের ইমামদের মতামত জানার জন্য এই কয়েকটি কিতাব যথেষ্ট নয়; বরং এর জন্য পূর্ববর্তী যুগে আরবী ভাষায় রচিত ছরফের মৌলিক মাসাদিরের সহায়তা নিতে হবে। এছাড়া ইলমে নাহুর প্রাচীন মাসাদিরও মুরাজাআ করা যেতে পারে। কারণ আরবী ব্যাকরণ সংকলনের প্রথম যুগে ইলমে নাহুর মধ্যে ইলমে ছরফও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে দুটিকে আলাদা আলাদা ফনের রূপ দান করা হয়।

২. অভিধান বা ইলমুল লুগাতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ‘আল-মুজামুল ওসীত’ ও ‘আল-মুনজিদ’ জাতীয় লুগাত থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো তালিবে ইলম উপকৃত হতে পারে। কিন্তু তাফসীলি ইলম অর্জন কিংবা কোনো দলীল-প্রমাণ পেশ করার প্রয়োজন হলে লুগাতের প্রাচীন ও মুফাসসাল মাসাদিরের সহায়তা নিতে হবে।

৩. ছরফী বা লুগাবী বলতে ফনের ইমামগণকেই বোঝায়। ফনের ইমাম সাধারণত ঐ সকল মনীষী, যারা ফন সংকলন করেছেন এবং ফনের তানকীহ ও তাহযীবের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের লিখিত গ্রন্থগুলোই হচ্ছে ফনের মৌলিক গ্রন্থ। পরবর্তীতে রচিত সংক্ষিপ্ত কোনো রিসালা বা পুস্তিকার সকল মাসআলাকেই ফনের ইমামদের মতামত মনে করা ঠিক নয়। তাঁদের মতামত নিশ্চিতভাবে জানার জন্যও মাসাদির পর্যায়ের কিতাবের সহায়তা নিতে হবে।

৪. ছরফ ও নাহুর অধিকাংশ কায়েদা ‘আগলবী’ বা ‘ইসতিকরায়ী’ পর্যায়ের, কুল্লিয়া নয়। অর্থাৎ আরবী ভাষা-ব্যবহারের বিভিন্ন প্রয়োগ দেখে দেখে তাঁরা কায়েদাগুলো নির্ধারণ করেছেন। তাদের এই ‘ইস্তিকরা’ কৃত কায়েদাগুলো দ্বারা ভাষা শিখার ক্ষেত্রে উপকৃত হওয়া যায়, কিন্তু এই কায়েদাগুলো আরবদের ভাষার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে না। আর তাই সদা চলমান ও সদা পরিবর্তনশীল ভাষায় তাফসীলিভাবে তালাশ করলে এসব কায়েদার ব্যতিক্রমও অনেক পাওয়া যাবে। হয়তো দেখা যাবে যে, কোনো জায়গায় কায়েদাটির সাথে একেবারেই ‘তাতবীক’ নেই, অথবা দেখা যাবে কায়েদাটি ছিল ‘ওজুবী’ পর্যায়ের, কোনো কোনো স্থানে ‘ওজুব’ বাকি নেই; বরং সেখানে উভয় ধরনের ব্যবহার হচ্ছে। এই ধরনের ব্যতিক্রম দশ বিশ জায়গায় পাওয়া গেলে এই মিছালগুলোর দ্বারা সাধারণ ‘ইস্তিকরা’ দ্বারা নির্ধারিত মূল কায়েদায় কোনো প্রভাব পড়বে না। প্রায় এর কাছাকাছি কথা আমি আবদুল কাছেম আয-যাজ্জাজী রাহ. (৩৩৭ হি.) লিখিত অনবদ্য গ্রন্থ ‘আলইযাহ ফী ইলালিন নাহব’ কিতাবে পড়েছি। এটি সব ভাষার ব্যাপারেই সত্য।

এবার আপনার মূল প্রশ্নের উত্তর আরয করব। আপনি প্রশ্নে যে কায়েদাটি উল্লেখ করেছেন তা ঠিক ওভাবেই দরসে নিযামীভুক্ত ‘ইলমুস সীগাহ’ কিতাবে রয়েছে, যা লিখেছেন হিন্দুস্তানের মুফতী ইনায়াত আহমদ কাকোরী রাহ. (১২২৮ হি.-১২৭৯ হি.)। পরবর্তী কোনো কোনো মুসান্নিফও তার অনুসরণ করে কায়েদাটি এভাবে লিখেছেন। কিন্তু এখানে দেখার বিষয় হল, উল্লেখিত কায়েদাটির দুটি অংশ রয়েছে। উপস্থাপনার সামান্য তারতম্য বাদ দিলে কায়েদাটির প্রথম অংশ অর্থাৎ ‘মাকসূরুল আইন’ সংক্রান্ত কথাটি সঠিক। আর আলোচ্য মূল কায়েদাও এতটুকুই। প্রাচীন ও মৌলিক কিতাব থেকে শুরু করে ছরফের প্রায় সকল কিতাবেই যা উল্লেখিত হয়েছে।

তবে হ্যাঁ, সাথে তাঁরা এই কথাও বলেছেন যে,

 

 

 

সহ এই জাতীয় বেশ কিছু শব্দ উপরোক্ত নিয়ম বহির্ভুত হওয়ার পরও এখানেও ওয়াও কে হযফ করে দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

(ইবনে উসফুর আলইশবিলী (৫৯৭ হি.-৬৬৯ হি.) আলমুমতিউল কাবীর ২৮০; ইযযুদ্দীন আবদুল ওয়াহহাব ইবনে ইবরাহীম (৬৫৫ হি.) তাসরীফুল ইযযী ৭৬-৭৮) আরো দেখুন : আলমুনসিফ ১/১৮৪; আশশাফিয়া ১/৯৫-৯৬; ইবনে মালিক, ইযাহুত তারীফ ফী ইলমিত তাসরীফ; মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন আবদুল হামিদ, দুরুসুত তাসরীফ ১৫৮

মূল কায়েদা এতটুকুই। দরসে নিযামীভুক্ত ‘পাঞ্জেগাঞ্জ’ ও ‘ফুসূলে আকবরী’তেও কায়েদাটি এভাবেই বলা হয়েছে। কিন্তু ইলমুস সীগার মুসান্নিফ নিয়ম বহির্ভুত

ইত্যাদি শব্দগুলোকেও কায়েদার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কায়েদাটির সাথে আরেকটি অংশ জুড়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ ফেলে মুযারে মাফতুহুল আইন হলে সেখানেও ওয়াও কে হযফ করে দেওয়া হবে। তবে শর্ত হল, আইন বা লাম-কালিমায় হরফে হালকীর কোনো একটি থাকতে হবে।

সম্ভবত তাঁর পূর্বে কোনো ছরফবিদ এই কথা বলেননি। তিনিও কায়েদাটিকে অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম করে বর্ণনা করে নিজেই বলেছেন, ‘এখানে আসল কায়েদাটিকে ইয়ার ক্ষেত্রে বলে ‘ফেলে মুযারের অন্যান্য সীগাগুলোকে তার ‘তাবে’ বানানো একটি অপ্রয়োজনীয় প্রলম্বিতকরণ। তেমনি           ইত্যাদি শব্দের ক্ষেত্রে এভাবে বলা যে, এগুলো আসলে মাকসুরুল আইন ছিল। হরফে হালকীর ‘রেয়ায়েত’ করে তাকে ফাতহ দেওয়া হয়েছে-এই সব কথা অনর্থক ‘তাকাল্লুফ’। কায়েদার সঠিক বিবরণ সেভাবেই হবে যেভাবে আমি বলে এসেছি। ‘মানযুমে নেক’ নামক কিতাব প্রণেতাও এভাবে লিখেছেন।’ (ইলমুস সীগা ৪৭)

‘মানযুমে নেক’ কিতাবটি দেখার সুযোগ আমার হয়নি। তবে তার অনুকরণে ইলমুস সীগার মুসান্নিফ যে দুটি ‘তাসাররুফ’ করেছেন তন্মধ্যে প্রথমটি হয়তো কোনোভাবে সহনীয়, কিন্তু আমার ধারণা, দ্বিতীয় ‘তাসাররুফ’টিতে তাঁর ‘তাসামুহ’ হয়েছে। সেই হিসেবে প্রশ্নে উল্লেখিত বাবে সামিআ-এর এই জাতীয় শব্দাবলি দ্বারা তাঁর উপর বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়াই স্বাভাবিক।

অথচ ছরফীরা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, এই কায়েদাটি ‘ছুলাছী মুজাররাদের কেবলমাত্র ঐ সকল বাবেই প্রযোজ্য হবে, যার মুযারের সীগা                 বা

 

 

হবে।

 

 

 

 

 

 

(তাসরীফুল ইযযী ৭৬-৭৮; আলমুমতিউল কাবীর ২৮৩, ২৮৫; আসসরফুল কাফী ২৮০)

‘ইলমুস সীগা’র মুসান্নিফের এই তাসামুহ হওয়ার কারণ সম্ভবত এই ছিল যে, তিনি এই কিতাব লিখেছেন আন্দামান দ্বীপে বন্দী অবস্থায়। তিনি বলেছেন যে, ‘সেখানে তার কাছে কোনো কিতাব ছিল না।’ অন্যান্য কিতাব মুরাজাআ করার সুযোগ পেলে তিনি কায়েদাটিকে হয়তো অন্যভাবে লিখতেন। 

শেয়ার লিংক

সাইফুল্লাহ ইবনে যাহেদুল্লাহ - জামেয়া মাদানিয়া ফেনী

প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে আলকাউসার ২০০৮ সালের ভলিউমটি উল্টাচ্ছিলাম। এপ্রিল ’০৮ সংখ্যার শিক্ষাপরামর্শ বিভাগে ‘খাসিয়াতে আবওয়াব’ সম্পর্কিত উত্তরটি খুব ভালো লেগেছে। তবে একটি বিষয়ে আমার একটু খটকা আছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়ার  মুহতামিম মাওলানা আবদুল হালীম বুখারী ছাহেব মুদ্দাজিল্লুহুমও এই বিষয়ে একটি রিসালা ‘আসান খাসিয়াতে আবওয়াব’ নামে লিপিবদ্ধ করেছেন।’ অথচ জামাতে শাশুমে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিসের নেসাবভুক্ত যে কিতাবটি আমরা পড়েছি, তা তাঁর লিখিত নয়; এটি লিখেছেন মাওলানা সাআদ মুশতাক আল হাসিরী। আসলে বিষয়টি কী? কিতাব কি দুটি না একটি? আর ঐ কিতাবের মান কেমন? সবিনয়ে জানতে আগ্রহী।

উত্তর

হ্যাঁ, আপনার কথা সঠিক। আলকাউসারে এটিকে ভুলবশত হযরত মাওলানা বুখারী ছাহেব দামাত বারাকাতুহুমের তাসনীফ বলা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। সেখানে আমি বলেছিলাম যে, কিতাবটি দেখার সুযোগ আমার হয়নি। পরে রিসালাটি পেয়েছি। এটি দারুল উলূম দেওবন্দের শায়খুল হাদীস হযরত সাঈদ আহমদ পালনপুরী দামাত বারাকাতুহুম-এর তত্ত্বাবধানে রচিত। রচনা করেছেন দারুল উলূমের উস্তায মাওলানা সাআদ মুশতাক মুদ্দাযিল্লুহুম।

রিসালাটি খাসিয়াতের জন্য সুন্দর ও প্রাঞ্জল একটি কিতাব। একত্রিশ সবকে সুবিন্যস্ত রিসালাটির মধ্যে দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য নজরে পড়ল। প্রথমত খাসিয়াতে আবওয়াব বর্ণনার আগেই রিসালার প্রথম সাত সবকে উদাহরণ সহকারে আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থগুলোর মাধ্যমে খাসিয়াতের বিস্তারিত পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে পরবর্তী খাসিয়াতে আবওয়াব বোঝা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয়ত প্রত্যেক সবকের শেষে মশক ও তামরীনও দেওয়া হয়েছে। ফলে এটিকে খাসিয়াতের তামরীনী কিতাবও বলা যায়। মাদরাসার যিম্মাদারগণ কিতাবটিকে নেসাবভুক্ত করা যায় কি না- ভেবে দেখতে পারেন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলাউদ্দীন চকোরী - চন্দ্রঘোনা ইউনুসিয়া মাদরাসা রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

 

আমাদের প্রিয় মাসিক আলকাউসারে গত সংখ্যায় (রবিউল আওয়াল ৩২ মোতাবেক ফেব্রুয়ারি ১১) নবীর মর্যাদা ও মর্যাদার নবী শীর্ষক আয়োজনটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে এবং আলহামদুলিল্লাহ অনেক সন্দেহ-সংশয়ের অবসান হয়েছে। এই চমৎকার সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য আলকাউসার কর্তৃপক্ষকে অশেষ ধন্যবাদ। লেখাগুলি পড়ে এ বিষয়ে আরো পড়াশোনার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কোন কিতাব পড়ব, কিভাবে পড়ব? জানা নেই। আপনার কাছে এ বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা ও এ সংক্রান্ত কোনো রিসালা থাকলে তার নাম জানতে চাই।


 

উত্তর

 

কুরআন মজীদের অনেক আয়াতে আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম, বিশেষত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমান আনা এবং ঈমানের দাবিগুলো পূরণ করার আদেশ করা হয়েছে। তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং কথায় বা আচরণে সব ধরনের গোসতাখি থেকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবীর অবমাননাকারীর ভয়াবহ পরিণতির কথাও কুরআন মজীদের অনেক আয়াত এবং অনেক সহীহ হাদীসে বিদ্যমান রয়েছে। 

সুতরাং একটু মেহনত করলে নবীর হক, নবীর ভালবাসা, নবীর মাহাত্ম্য ও মর্যাদা প্রভৃতি বিষয়ের আয়াত ও হাদীস আপনি নিজেও বের করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। 

সীরাতুন্নবী ও আকযিয়াতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তদ্রূপ সীরাতুস সাহাবা ওআকযিয়াতুস সাহাবার উপর যেসব কিতাব লেখা হয়েছে তাতেও এ বিষয় সম্পর্কে প্রচুর তথ্য রয়েছে। তাছাড়া ফিকহ ও ফাতাওয়ার কিতাবসমূহে, কোনোটাতে আলাদা শিরোনামে, আবার কোনোটায় কিতাবুল হুদূদ  ওয়াত তাযীরাতে বা কিতাবুল জিহাদের বাবুর রিদ্দায় এ সংক্রান্ত মাসআলা-মাসাইল বিস্তারিতভাবে রয়েছে।

এরপরও শুধু রাসূল-অবমাননার শাস্তি ও ভয়াবহতার উপর আলাদা আলাদা কিতাব লেখা হয়েছে। কয়েকটি কিতাবের নাম উল্লেখ করা হল :

১. আমাদের জানা মতে, সর্বপ্রথম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন সাহনুন কায়রাওয়ানী মালেকী (২০২-২৬৫ হি .) রাহ. এ বিষয়ে কিতাব লিখেছেন। তাঁর রচনাবলির তালিকায়

رسالة من سب النبي صلى الله عليه وسلم

নামক একটি রিসালা আছে। (দেখুন : আদদিবাজুল মুযহাব পৃ. ৩৩৪)

২. কাযী ঈয়ায মালেকী রাহ. (৪৭৬-৫৪৪ হি.) তার আশ-শিফা বিতাআরীফি হুকুকিল মুসতাফানামক চার অংশে বিভক্ত কিতাবটির চতুর্থ অংশের শিরোনাম এই-

القسم الرابع في تصرف وجوه الأحكام فيمن تنقصه أو سبه عليه الصلاة والسلام

এ অংশটি তিনটি অধ্যায়ের অধীনে পঁচিশটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত। এখানে উপরোক্ত বিষয়ে এত বিস্তারিত আলোচনা আছে যে, তা আলাদা কিতাবের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

ইবনে ফরহুন মালেকী রাহ.-এর    অভিমত হল-

وقد استوعب القاضي عياض رحمه الله الكلام في هذا وما أشبهه ولم يترك لغيره مقالا.

৩. হাফেয আবুল আববাস আহমদ ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী রাহ. (৬৬১-৭২৮ হি.)। তাঁর অনবদ্য ও ঐতিহাসিক গ্রন্থটির নাম হল-

الصارم المسلول على شاتم الرسول

কিতাবটি বেশ কয়েকটি মাকতাবা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এটি একটি উত্তম গ্রন্থ।

৪. আল্লামা তাকী উদ্দীন আস সুবকী শাফেয়ী রাহ. (৬৮৩-৭৫৬ হি.)। তার কিতাবের নাম

السيف المسلول على من سب الرسول

বেশ কিছু বিষয়ে এই কিতাবটি ইবনে তাইমিয়া রাহ.-এর কিতাব থেকেও অগ্রগণ্য। দারুল ফাতহ আম্মান জর্ডান থেকে ইয়াদ আহমদ আলগাওজ-এর তাহকীক-সম্পাদনায় ভালো কাগজ ও দৃষ্টিনন্দন সজ্জায় প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদকের টীকা-টিপ্পনীগুলোও ভালো ও উপকারী।

৫. শায়খ মুহিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন কাসিম (আখাওয়াইন) হানাফী রাহ. (৯০৪ হি.)। তার কিতাবের নাম

السيف المشهور على الزنديق وساب الرسول

৬. হাফেয জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ. (৯১১ হি.)। তার কিতাবের নাম

تنزيه الأنبياء عن تسفيه الأغبياء

কিতাবটি তাঁর ফাতাওয়াসমগ্র আলহাবী লিল ফাতাবী (১/২৩২-২৪৩) তে সংযুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

৭. আল্লামা ইবনে কামাল পাশা হানাফী রাহ. (৯৪০ হি.)-এরও একটি রিসালা

 السيف المسلول في سب الرسول

নামে রয়েছে। যার মাখতূত বা হস্তলিখিত পান্ডুলিপি ইস্তাম্বুলের খিযানা সুলাইমানিয়ায় সংরক্ষিত আছে। পান্ডুলিপিটির একটি ফটোকপি জামেয়া ইসলামিয়া মদীনা মুনাওয়ারায় রয়েছে।

৮. মুহাদ্দিস ইবনে তুলুন হানাফী রাহ. (৯৫৩ হি.) তার কিতাবের নাম

رشق السهام في أضلاع من سب النبي صلى الله عليه وسلم

৯. ফকীহ ইবনে আবেদীন শামী হানাফী রাহ. (১২৫২ হি.)। তার রিসালার নাম

تنبيه الولاة والحكام على أحكام شاتم خير الأنام أو أحد أصحابه الكرام عليه وعليهم الصلاة والسلام

 মাজমুআতু রাসায়েলে ইবনে আবেদীন-এ (১/৩১৩-৩৭১) অন্যান্য রিসালার সাথে এটিও আছে।

১০. আল্লামা মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনে সিদ্দীক গুমারী রাহ. (১৪১৩ হি.)-এর রিসালার নাম

السيف البتار لمن سب النبي المختار

এখানে দশজন মনীষীর দশটি কিতাবের নাম লেখা হল। ইবনে তাইমিয়া ও তাকী উদ্দীন সুবকী ও ইবনে আবেদীন শামীর কিতাবের মধ্যে যেকোনোটি দিয়ে আপনি মুতালাআ শুরু করতে পারেন। তবে ভালো হয়, কোনো সহজ কিতাব আগে পড়ে নেওয়া। এজন্য উর্দু ভাষায় এইচ সাজেদ আওয়ান রচিত

 تحفظ ناموس رسالت اور گستاخ رسول كى سزا

নামক কিতাবটি সংগ্রহ করতে পারেন। প্রায় সাড়ে সাত শত পৃষ্ঠার এই কিতাবটি সংকলকের রুচি ও পরিশ্রমের সাক্ষর বহন করে।

তাছাড়া উর্দু ভাষায় আরো কিছু কিতাব আছে। যেমন-ইহানাতে রাসূল আওর আযাদীয়ে ইযহার। পাকিস্তানের ইসলামী নযরীয়াতি কাউন্সিল থেকেও এ বিষয়ে আলাদা রিসালা প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের বাংলা ভাষার দুর্ভাগ্য যে, এই নিয়ে নাস্তিক ও বিধর্মীদের প্রপাগান্ডা সম্বলিত প্রচুর বইপত্র থাকা সত্ত্বেও আমার জানা মতে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে হক্কানী আলিম-লেখকদের কোনো প্রামাণ্য গ্রন্থ বের হয়নি। আল্লাহ তাআলা তাঁর কোনো বান্দাকে এই খেদমতের জন্য কবুল করুন। আমীন।

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাসউদুর রহমান - মাদানী নগর, ঢাকা

প্রশ্ন

দরসে নিযামীর সকল কিতাবের মুছান্নিফদের জীবনী এবং প্রসিদ্ধ মুফাসসিরীন, মুহাদ্দিসীন ও মুফতিয়ানে কেরামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি সম্পর্কে একটি কিতাবের নাম জানতে চাই। এমন কোনো কিতাব থাকলে অনুগ্রহপূর্বক জানাবেন।

 


উত্তর

আপনি একটি কিতাবের নাম জানতে চেয়েছেন। সে হিসেবে খাইরুদ্দীন যিরিকলীর আট খন্ডেরআলআলাম কিংবা এর মুখতাসার আবদুল লতীফ আবদুল ওয়াহহাব বাসসাম এর মুজামুল আলামসংগ্রহ করা যায়।

তবে দরসে নিযামীর সমস্ত কিতাবের মুসান্নিফদের জীবনী এখানে পাওয়া যাবে না। সেজন্য আপনি উর্দু ভাষায় রচিত মাওলানা আখতার রাহীর তাযকারায়ে মুসান্নিফীনে দরসে নিযামী এবং হযরত মাওলানা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী দা.বা.-এর মাশাহিরে মুহাদ্দিসীন ও ফুকাহায়ে কেরামনামক পুস্তিকা দুটিও সংগ্রহ করতে পারেন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ওমর ফারূক - ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা

প্রশ্ন

ড. আহমদ আমীন তার দুহাল ইসলাম-এ বলেন, মাহদী আ.-এর আগমনের বিশ্বাস নাকি শীয়াদের মাহদীবাদ থেকে গৃহীত। সহীহাইনে নাকি এ সংক্রান্ত কোনো হাদীস নেই। আর হাদীসের অন্যান্য কিতাবে এ সংক্রান্ত যেসব হাদীস আছে সেগুলোর সনদও আপত্তিমুক্ত নয়। অথচ আমরাও তো মাহদী আ.-এর আগমনে বিশ্বাস করি। প্রকৃত বিষয়টি কী এবং এ বিষয়ে কোনো কিতাব আছে কি না জানালে কৃতজ্ঞ হব।

.

উত্তর

ইমাম মাহদী রা.-এর আবির্ভাবের বিষয়টি অনেক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং উম্মতেরতালাক্কী বিল কবুল দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। সাহাবা-তাবেয়ীন থেকে শুরু করে আহলে সুন্নত ওয়ালজামাতের প্রায় সকল আলিম এ বিষয়ে একমত।*

কিয়ামতের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইতের মধ্য হতে এমন একজন ব্যক্তির আগমন হবে যার নাম ও পিতার নাম হবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম ও পিতার নামের অনুরূপ। অর্থাৎ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ। যার উপাধি হবে মাহদী

ইমাম আবুল হুসসাইন মুহাম্মাদ বিন হুসাইন আল আবুরী রাহ. (৩৬৩ হি.) বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তাওয়াতুর পরিমাণের প্রচুর হাদীসে মাহদীর আলোচনা এসেছে। একথাগুলিও খুবই বিশ্বস্তভাবে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি আহলে বাইত থেকে হবেন। তিনি সাত বছর পৃথিবীর বুকে হুকুমত করবেন, অন্যায়-অবিচারে নিমজ্জিত পুরো ভূখন্ডে ইনসাফ ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। আসমান থেকে হযরত ঈসা আ.-এর অবতরণের পর তিনিও ইমাম মাহদীকে দাজ্জালের সাথে যুদ্ধে সহযোগিতা করবেন। তিনি উম্মতের ইমামতি করবেন এবং হযরত ঈসা আ.ও তাঁর পিছনে নামায আদায় করবেন। (আলমানারুল মুনীফ ১৪২)

এ বিষয়ে সহীহ-হাসান ও নির্ভরযোগ্য পর্যায়ের এত প্রচুর হাদীস রয়েছে যে, অনেক আলিম একেমুতাওয়াতির বলেছেন। ইমাম মাহদী ও তাঁর আগমন সংক্রান্ত বহু মৌলিক এবং বহু খুটিনাটি বিষয়ও এইসব হাদীসে রয়েছে। কোনো হাদীসে তাঁর শাসনামলের কথা, কোনো হাদীসে ঈসা আ.-এর সাথে তাঁর মোলাকাত ও ইমামতির কথা, কোনো হাদীসে তাঁর নাম ও বংশ পরিচয়, কোনো হাদীসে তাঁর গুণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। এভাবে হাদীসের প্রায় সব ধরনের কিতাবেই এই হাদীসগুলো বর্ণিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সহীহাইনও ব্যতিক্রম নয়। নাম উল্লেখ ছাড়াই ঈসা আ.কে নিয়ে তাঁর ইমামত সংক্রান্ত একাধিক হাদীস সহীহাইনেও বর্ণিত হয়েছে। (দেখুন : সহীহ বুখারী হাদীস : ৩৪৪৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৫৫, ১৫৬, ২৯১৯, ২৯১৪)

এসব হাদীসে আমীরুহুমইমামুকুম ও খলীফা ইত্যাদি শব্দের দ্বারা উদ্দেশ্য ইমাম মাহদী। এই হাদীসগুলোরই নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতে আমীরুহুম আলমাহদী শব্দ উল্লেখিত হয়েছে। (দেখুন : আলমানারুল মুনীফ ১৪৭-১৭৮) তাছাড়া অন্যান্য সহীহ হাদীসে তো এই ব্যাখ্যা একেবারেই সুস্পষ্ট।

ইমামাতুল মাহদী নিয়ে হাদীসের প্রায় সকল কিতাবে স্বতন্ত্র অধ্যায় থাকার পরও শুধু সহীহাইনের হাদীসগুলোর কথা বিশেষভাবে বলার কারণ এই যে, হাদীসের এই দুটি কিতাব সাধারণ মানুষের মাঝেও প্রসিদ্ধ এবং অবশ্যই সহীহ হাদীসের সংকলন হিসেবে এই কিতাব দুটির যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, কোনো বিষয় প্রমাণিত হওয়ার জন্য সহীহাইন কিংবা বিশেষ কোনো কিতাবে থাকা অপরিহার্য। বরং এ ধরনের চিন্তা অহেতুক হঠকারিতা ছাড়া আর কিছু নয়। ইমাম বুখারী রাহ. ও ইমাম মুসলিম রাহ.-এর কেউই এমন দাবী করেননি যে, সকল সহীহ হাদীস তাঁরা তাঁদের কিতাবে একত্র করেছেন বা একত্র করার ইচ্ছা করেছেন; বরং ইমাম বুখারী রাহ, নিজেই বলেন,

 لم أخرج في هذا الكتاب إلا صحيحا وما تركت من الصحاح أكثر

আমি এই কিতাবে শুধু সহীহ হাদীস সংকলন করেছি। এর বাইরেও অনেক সহীহ হাদীস আছে। (তারীখে বাগদাদ ২/৯)

তেমনি একথাও সহীহ সনদে প্রমাণিত যে, ইমাম মুসলিম রাহ.-এর কিতাব তাঁরই উস্তাদ ইমাম আবু যুরআ রাযী এবং ইবনে ওয়ারা রাহ.-এর হাতে পৌঁছলে তাঁরা বলেছিলেন, তুমি সহীহ নামে কিতাব লিখে বিদআতীদের জন্য সুযোগ করে দিয়েছে। যখন তাদের সামনে কোনো সহীহ হাদীস পেশ করা হবে তখন তারা এই বলে প্রত্যাখ্যান করবে যে, এটি তো সহীহ মুসলিমে নেই।

ইমাম মুসলিম তখন আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছিলেন যে, আমি তো শুধু আমার ও আমার নিকট যারা হাদীস শিখতে আসবে তাদের স্মরণ রাখার সুবিধার্থে কিছু হাদীস সংকলন করেছি। আমি বলিনি যে, এই সংকলনের বাইরের সকল হাদীস দুর্বল; বরং আমি শুধু এটুকু বলি যে, এই সংকলনের হাদীসগুলো সহীহ। (তারীখে বাগদাদ ৪/২৭৪)

অতএব কোনো বিষয় সহীহাইনে নেই তাই প্রমাণিত নয়-এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল ও অযৌক্তিক। যাহোক, সহীহাইনের বাইরেও সহীহ ও নির্ভরযোগ্যতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ অনেক হাদীস রয়েছে, যেখানে ইমাম মাহদীর নাম, বংশ-পরিচয় এবং তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে। এমনকি খোদ ইমাম বুখারীর বিখ্যাত শাগরিদ ইমাম তিরমিযী রাহ. এই ধরনের একাধিক হাদীস সম্পর্কে হাসান-সহীহ বলেছেন। (দেখুন : জামে তিরমিযী, হাদীস : ২২৩০-২২৩২)

সংক্ষিপ্ত পরিসরে সব হাদীস উল্লেখ করা এবং সেগুলোর সনদগত মান আলোচনা করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আলাদা কিতাব লেখা হয়েছে এবং এখনও লেখা হচ্ছে। এখানে প্রকাশিত কয়েকটি কিতাবের নাম লিখা হল।

১. আলবায়ান ফী আখবারি ছাহিবিয যামান, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইউফুফ (মৃত্যু : ৬৫৮ হি.)

২. ইকদুর দুরার মিন আখবারিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার, শায়খ ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আসসুলামী

৩. আলআরফুল ওয়ারদী ফী আখবারিল মাহদী, জালালুদ্দীন সুয়ূতী (৯১১ হি,)

৪. তালখীসুল বায়ান ফী আলামাতি মাহদিয়্যি আখিরিয যমান, প্রাগুক্ত

৫. আলকাওলুল মুখতাছার ফী আলামাতিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার, ইবনে হাজার হাইতামী (৯৭৪ হি.)

৬. আলবুরহান ফী আলামাতি মাহদিয়্যি আখিরিয যামান, শায়খ আলী আলমুত্তাকী আলহিন্দী (৯৭৫ হি.)

৭. ইবরাযুল ওয়াহমিল মাকনূন মিন কালামি ইবনি খালদূন, শায়খ আহমদ আলগুমারী (১৩২০-১৩৮০ হি.)

৮. আলমাহদিয়্যিউল মুনতাযার, শায়খ আবদুল্লাহ আলগুমারী

৯. আলআহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফিল মাহদী ফী মিযানিল জারহি ওয়াত তাদীল, ড. আবদুল আলীম আলবাসতাবী আলহিন্দী

১০. আকীদাতু আহলিল আছার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার, শায়খ আবদুল মুহসিন ইবনে হামদ আলআববাদ

১১. আলইহতিজাজু বিলআছার আলা মান আনকারাল মাহদিয়্যাল মুনতাযার, শায়খ হামূদ ইবনে আবদুল্লাহ তুয়াইজারী

১২. আকীদায়ে যুহুরে মাহদী আহাদিস কি রৌশনি মে, ড. মাওলানা নিযামুদ্দীন শামযী রাহ.।

তবে একথাও সত্য যে, সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসের বাইরে এ বিষয়টিতে জাল, অতি দুর্বল, ও অনির্ভরযোগ্য বর্ণনার সংখ্যাও কম নয়, কিন্তু এই কারণে সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত বিষয়ে কোনো প্রভাব পড়তে পারে না। সহীহ হাদীসে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো এতই সুস্পষ্ট যে, সময়ে সময়ে গোলাম আহমদ কাদিয়ানির মত কিছু বিকৃত চিন্তার মানুষের মাহদী হওয়ার মিথ্যা দাবিতেও কিছু যায় আসে না।

সাথে সাথে একথাও সুস্পষ্ট যে, অসংখ্য সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত ও সুস্পষ্ট আলামত সম্বলিত ইমাম মাহদী রা.-এর সাথে শিয়া-রাফেযীদের কথিত মাহদীবাদের দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। তাদের মতবিশ্বাসটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বরং ইবনুল কাইয়িমের ভাষায়, পুরো মানবজাতির জন্য লজ্জাকর ও সকল বুদ্ধিমানের কাছে হাস্যকর শিয়া-রাফেযীদের এই মাহদীবাদ বিশ্বাসের মূল কথা হল, প্রায় বার শত বছর পূর্বে তাদের বিশ্বাস মতে-নবীদের মতো নিষ্পাপ বারজন ইমামের সর্বশেষ জন জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, যার নাম মুহাম্মাদ বিন হাসান আসকারী। কিশোর বয়সে তিনি ইরাকের সামরো বা সুররা মান রাআ শহরে পানির গভীরে জলজ কুঠিরে আত্মগোপন করে গেছেন। লোকচক্ষুর আড়ালে গেলেও বারশত বছর পরও তিনি পানিতে জীবিত! তারা প্রতিদিন তার জন্য অপেক্ষা করে কথিত জলজ কুঠিরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে!! সারাদিন চিৎকার করে তাকে আহবান করতে থাকে!!!

এবার আপনিই বলুন, ইমাম মাহদী সংক্রান্ত প্রশ্নের শুরুতে উল্লেখিত ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কোন কথাটির সাথে শীয়াদের এই অলীক কল্পনার মিল আছে??

শীয়াদের এই আকীদা সম্পর্কে হাফেয যাহাবী রাহ. বলেছেন, বিবেকহীনতা থেকে আল্লাহর পানাহ! পূর্ব যুগে এমন কিছু ঘটেছিল বলে যদি ক্ষণিকের জন্য মেনেও নেয়া হয়, তখন প্রশ্ন হল, এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কে? এতদিন পরও তিনি জীবিত আছেন-এরই বা সূত্র কি? এ কথাই বা কে বলেছে যে, তিনি নিষ্পাপ ও সর্বজ্ঞানীও। এসব অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের দ্বারা যদি চিন্তাশক্তিকে আচ্ছন্ন করে রাখা হয়, তাহলে তো বাস্তব-অবাস্তবের পার্থক্যই হারিয়ে যাবে এবং সকল অসম্ভবকে সম্ভব মনে করার পথ খুলে যাবে!!

মিথ্যা ও অবাস্তব; বরং অসম্ভব বিষয়কে দলীল মনে করা এবং এর দ্বারা ন্যায় ও সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা থেকে আল্লাহ আমাদের সকলকে রক্ষা করুন, যা ইমামিয়া ফের্কার বৈশিষ্ট্য।(সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৩/১২১-১২২)

অতএব ইমাম মাহদীর আগমনের সহীহ আকীদা এবং শীয়াদের ঐ অলীক বিশ্বাসকে এক মনে করা অজ্ঞতা ও জাহালত ছাড়া আর কিছু নয়।

এখানে সংক্ষিপ্ত কয়েকটি কথা আরজ করলাম। বিস্তারিত জানার জন্য এই বিষয়ের কিতাবাদি মুতআলাআ করা যেতে পারে।

তবে এখানে যে কথাটি বিশেষভাবে বলা প্রয়োজন, তা হল, মিসরের ড. আহমদ আমীন সমকালীন আরবী ভাষা ও সাহিত্যের পন্ডিত ছিলেন বটে, কিন্তু হাদীস ও ইসলামের ইতিহাসসহ অন্যান্য ইসলামী উলূমে তার ধারণা ছিল খুবই সামান্য ও ভাসাভাসা। আর এই ধারণার অধিকাংশই তিনি গ্রহণ করেছিলেন অনির্ভরযোগ্য কিছু মাসাদির ও খ্রিস্টান প্রাচ্যবিদদের রচনাবলি থেকে। ফলে তিনি ছিলেন ঐ সব চিন্তাবিদদের অন্যতম, যাদের ধ্যান-ধারণা পশ্চিমা-প্রভাবিত এবং যাদের চিন্ত-চেতনা প্রাচ্যবাদিতায় আক্রান্ত। এই কারণে তার রচনাবলিতে এত প্রচুর পরিমাণ এমন স্খলন রয়েছে যে, শুধু এর তালিকা করলেও একটি আলাদা রিসালা তৈরি হয়ে যাবে। ইসলামের ইতিহাস নিয়ে তার সিরিজ রচনা-ফজরুল ইসলাম, জুহরুল ইসলাম ও দুহাল ইসলামের পাতায় পাতায় যার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। ইমাম মাহদী রাহ. সম্পর্কেও তার বক্তব্য ঐসব সুস্পষ্ট স্খলনের     অন্তর্ভুক্ত।

তার এসব স্খলন ও বিচ্যুতি নিয়ে ড.   মুস্তফা সিবায়ী আসসুন্নাতু ওয়ামাকানাতুহা ফিত তাশরীয়িল ইসলামী নামে একটি ঐতিহাসিক ও চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা সকলের পড়ার মতো।

এখানে এই কথাও মনে রাখা জরুরি যে, একজন তালিবে ইলম বরং একজন সাধারণ মানুষের জন্যও যে কোনো ধরনের লেখা কিংবা যে কোনো লেখকের বইপত্র পড়তে যাওয়া উচিত নয়। কী পড়বে, কী পড়বে না- এ বিষয়ে তালীমী মুরববী বা কোনো অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ গ্রহণ করা অবশ্য কর্তব্য। ষ

টীকা : * আল্লামা সাফফারিনী রাহ. (১১১৪ হি.-১১৮৮ হি.) তাঁর আকীদা বিষয়ক কিতাবলাওয়ামেউল আনওয়ার আলবাহিয়্যাহ যা শরহে আকীদাতিত সাফফারিনী নামে প্রসিদ্ধ। এই কিতাবে (২/৮৪) তিনি লিখেন-

وقد كثرت بخروجه الروايات حتى بلغت حد التواتر المعنوي وشاع ذلك بين علماء السنة حتى عد من معتقداتهم وقد روي عمن ذكر من الصحابة وغير من ذكر منهم رضي الله عنهم بروايات متعددة وعن التابعين من بعدهم ما يفيد مجموعه العلم القطعي فالإيمان بخروج المهدي واجب كما هو مقرر عند أهل العلم ومدون في عقائد أهل السنة والجماعة

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তাকরীম - জামাত শরহে বেকায়া, কুমিল্লা

প্রশ্ন

ক) আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করতে চাই, কিন্তু পড়তে বসলে মন এদিক ওদিক ছুটে যায়। তাই মনোযোগ সহকারে পড়ালেখা করতে পারি না। পড়াশোনায় মনোযোগ বসানোর কোনো কৌশল যদি থাকে তাহলে দয়া করে জানালে খুশি হব।  

খ) এমন কোনো কৌশল আছে কি, যা অনুসরণ করলে অনেক দিন পড়া মনে থাকে? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব। 

 

উত্তর

ক ও খ) মনোযোগের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় প্রতিবন্ধক তা আগে চিহ্নিত করা দরকার। কিন্তু আমার তো মনে হয়, জীবনের এই সময়টাতে মনোযোগ ও একাগ্রতা নষ্ট হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। রুজি-রোজগারের চিন্তা নেই, জমি-জমার পেরেশানি নেই, বিবি-বাচ্চা ও পরিবারের ঝামেলা নেই, এই অবস্থায় একজন তালিবে ইলমের একমাত্র চিন্তা ইলম অর্জন। একমাত্র কাজ তলবে ইলম।

আসল কথা হল, অন্তরে যে বিষয়ের গুরুত্ব থাকবে তার প্রতি মনোযোগও স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে। আর ইলমে দ্বীনের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও মাহাত্মপূর্ণ বিষয় আর কী হতে পারে? তাই যে মাকামের বিরাছাত হাসিলের জন্য আপনার জ্ঞান-সাধনা সে মাকামের কথা বারবার চিন্তা করুন। আর এটাও ভাবুন যে, এত বড় মাকাম ও এত বিশাল দায়িত্বের জন্য কেমন মেহনত-মুজাহাদা করা উচিত।

এই মাকামের গুরুত্ব বোঝার জন্য মাওলানা মানযুর নুমানী রাহ.-এর আপ কৌন হ্যায়, কিয়া হ্যায়, আওর আপকা মানসিব ও যিম্মাদারী কিয়া হ্যায়, মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর পা জা ছুরাগে যিন্দেগী পাঠ করতে পারেন। কিতাব দুটির বাংলা তরজমাও যথাক্রমে তালিবানে ইলমের রাহে মানযিলজীবনপথের পাথেয় নামে প্রকাশিত হয়েছে।

মনোযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সালাফ ও আকাবিরের জীবনী পাঠও ফলদায়ক হতে পারে, বিশেষত ইলমের জন্য তাদের কুরবানী ও সময়ের কদরদানির উপর লিখিত কিতাবগুলো বেশি বেশি পড়ুন। ইনশাআল্লাহ ফায়েদা পাবেন।

বিশেষভাবে তিনটি বিষয়ে যত্নবান হোন। প্রথমত : চোখ-কান-যবান হেফাযত করুন। দ্বিতীয়ত : অহেতুক কাজ-কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। তৃতীয়ত : খরচ সীমিত করুন, করয থেকে দূরে থাকুন।

একাগ্রতা নষ্ট হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, এক্ষেত্রে আপনার তালিমী মুরববীর পরামর্শ ও নির্দেশনা গ্রহন করুন। আর হিফযের সহজতার জন্য আলকাউসার (ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সংখ্যায়) হিফযুন নুসুস-এর মাকালায় যে নুসখা দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করে দেখতে পারেন। আপনি আমার জন্য দুআ করেছেন। আল্লাহ আমাদের সবার জন্য তা কবুল করুন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ মারজান - দরগাহ মাদরাসা, সিলেট

প্রশ্ন

আমার জানা মতে, কিছু হরফ আছে, যা ফেল-মাসদারের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্ক রাখে, যাকে সিলাহ বলে। আমি এ বিষয়ে জানতে আগ্রহী, যেন সঠিকভাবে সিলাহর প্রয়োগ করতে পারি। এ বিষয়ে কি আলাদা কোনো কিতাব আছে? আর কামূসের সহযোগিতা নিতে চাইলে কোন কামুসটি ভালো হবে। জানালে খুবই কৃতজ্ঞ হব। 

 

 

উত্তর

এই বিষয়ে আলাদা কিতাব বলতে একটি কিতাবের কথাই আমার জানা আছে।

 معجم الأفعال المتعدة بحرف

প্রায় সাড়ে চারশ পৃষ্ঠার এই সুন্দর কিতাবটি লিখেছেন আলজাযাইরের একজন আলিম মুসা বিন মুহাম্মাদ ইবনুল মালয়ানী আহমদী নুয়াইরাত (জন্ম : ১৩২০ হি.)।

যেহেতু বিষয়টিই এমন যে, এর সুনির্দিষ্ট কোনো কায়েদা নেই; বরং প্রত্যেক শব্দের সিলাহ আলাদা আলাদা জানতে হয় তাই প্রত্যেক শব্দের জন্যই আপনাকে নির্ভরযোগ্য কিতাব দেখতে হবে। আরবী অভিধানই এর প্রধান উৎস। শব্দের সিলাহ বর্ণনা করা আরবী অভিধানের মৌলিক লক্ষ্যগুলোর একটি।

শায়খ মুসা আহমদী তার কিতাবের ভূমিকায় যেসব কিতাবের সাহায্য নেওয়ার কথা বলেছেন সেগুলো হল আল্লামা রাযী কৃত মুখতারুস সিহাহ যামাখশারীকৃত আসাসুল বালাগাহ, ফাইয়ুমীকৃত আলমিসবাহুল মুনীর, যানজানীকৃত তাহযীবুস সিহাহ ও আহমদ রেযাকৃত মুজামু মাতনিল লুগাহ ইত্যাদি।

এসব কিতাব ছাড়াও লুগাতের প্রায় সব কিতাবেই প্রত্যেক শব্দের সিলা ও এর কারণে অর্থের পরিবর্তন দেখানো আছে।

আপনি প্রাথমিকভাবে আলমুজামুল ওয়াসীতও সঙ্গে রাখতে পারেন।

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যুবায়ের আশিক - জামেয়াতুল আবরার, আশরাফাবাদ

প্রশ্ন

আমি হেদায়াতুন্নাহু জামাতে পড়ি। আমাদের দরসের একটি কিতাব উসূলুশ শাশী। এ কিতাবটি পড়তে গিয়ে আমাদের কিছু প্রশ্ন জেগেছে। ...। 

 

 

উত্তর

আপনার দুটি চিঠি পেয়েছি। প্রথম চিঠিতে তিনটি প্রশ্ন ছিল, যার শেষ দুটি হচ্ছে উসূলে ফিকহের দুটি মাসআলা সংক্রান্ত। উসূলে ফিকহ ও উসূলে হাদীসের দীর্ঘ ও মুফাসসাল কিতাবগুলোতে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

রাবীর দুই প্রকারের তাকসীম সংক্রান্ত বহছটি ইমাম জাসসাসের আলফুসূল ফিল উসূল- সুন্দরভাবে রয়েছে। অতএব আপনার কোনো উস্তায যদি আল-ফুসূল-এর সাহায্য নিয়ে বিষয়টি আপনাকে হল করে দেন। আর এক সময় আপনি নিজেও তা মুতালাআ করতে পারবেন।

আর সাহাবাদের রেওয়ায়েত ও আমল সংক্রান্ত বিষয়টি আবদুল আযীয বুখারী রাহ.-এর কাশফুল আসরার কিতাবে সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত মাহমুদ আবদুল আযীয মুহাম্মাদ মানহাজুস সাহাবাহ ফিত তারজীহ এই ধরনের বিষয়ে একটি ভালো কিতাব।

তাছাড়া বিশেষভাবে প্রশ্নোক্ত মাসআলা নিয়েও মাকতাবাতুর রুশদ রিয়াদ থেকে দুটি কিতাব প্রকাশিত হয়েছে। একটি হল

حكم الاحتجاج بخبر الواحد إذا عمل الراوي بخلافه، للشيخ عبد الله بن عويض المطرفي

আর অপরটির নাম

مخالف الصحابي للحديث النبوي الشريف دراسة نظرية تطبيقية، للدكتور عبد الكريم النملة

এই ধরনের কিতাবগুলোতে এই জাতীয় প্রত্যেক হাদীস নিয়ে আলাদা আলাদা আলোচনা রয়েছে। এগুলো থেকেও সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। তবে  এসব কিতাবের  বিভিন্ন অধ্যায়ে আরো আলোচনা ও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। যখন সময় হবে আপনি নিজেই এসব কিতাব মুতালাআ করে মাসআলাটি হল করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফ বিন আলতাফ - জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া

প্রশ্ন

মাকতাবুস সফার ফাতহুল বারী ও যাকারিয়া বুক ডিপো হিন্দুস্থানের উমদাতুল কারীর তারকীম শায়খ ফুয়াদ আবদুল বাকী রাহ.-এর। তাই দেখি, উভয়টির নাম্বারের মধ্যে হুবহু মিল। আর আল্লামা মুফতী রফী উসমানী মুদ্দাযিল্লুহুল আলীর তালীকাতের সাথে মাকতাবাতুল আশরাফিয়া দেওবন্দ-এর মওসূয়ায়ে ফাতহুল মুলহিমের তারকীম হচ্ছে নূরুল বাশার ইবনে নূরুল হক সাহেবের।  

এখন উক্ত ফাতহুল বারীর আতরাফে মুসলিম শরীফের যে নাম্বার উল্লেখ করা হয়েছে এই ফাতহুল মুলহিমে তার মিল খুঁজে পাচ্ছি না। পূর্বাপর তালাশ করেও ব্যর্থ হয়েছি। বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ রইল।  

 

উত্তর

ফাতহুল মুলহিম ও তাকমিলার যে সংস্করণটি করাচীর জামেয়া ফারুকিয়ার উস্তায মাওলানা নূরুল বাশার বিন নূরুল হক সাহেবের তাহকীককৃত, এতে তাকরার সহকারে প্রত্যেক হাদীসের বিভিন্ন তরীক ভিন্ন ভিন্নভাবে হিসাব করে একটি নাম্বার দেওয়া হয়েছে। সহীহ মুসলিমের অন্য নুসখায় এই নাম্বারটি নেই। হয়ত এই কারণেই আপনি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

সাধারণত সহীহ মুসলিমের অন্যান্য নুসখায় হাদীসের সাথে দুটি নাম্বার দেওয়া থাকে। একটি নাম্বার হল অধ্যায়ভিত্তিক। প্রত্যেক অধ্যায়ের হাদীসগুলোর জন্য আলাদা আলাদা নাম্বার দেওয়া হয়েছে।

এই নাম্বারটির পরে বন্ধনীর ভেতরে আরেকটি নাম্বার থাকে। এ দুটি নাম্বার শায়খ ফুয়াদ আবদুল বাকী রাহ.-এর তারকীম অনুযায়ী দেওয়া হয়ে থাকে। বন্ধনীর ভিতরের নাম্বারটি পুরো সহীহ মুসলিমের ধারাবাহিক নাম্বার, যেখানে মুকাররার হাদীসগুলোতে আলাদা নাম্বার দেওয়া হয়নি। একই হাদীসের বিভিন্ন তরীক মিলিয়ে একটি হাদীস ধরা হয়েছে। সাধারণত সহীহ মুসলিমের হাদীসের ক্রমিক নাম্বার হিসেবে এটিকেই উল্লেখ করা হয়ে থাকে। সম্ভবত আপনার জিজ্ঞাসিত ফাতহুল বারীতেও এই নাম্বারটি দেওয়া হয়েছে।

এই দুটি নাম্বার সহীহ মুসলিমের প্রায় নুসখায় ছিল। কিন্তু নূরুল বাশার সাহেব মুকাররারসহ হিসাব করে এবং একটি হাদীসের প্রত্যেক তারীককে আলাদা আলাদা হিসাব করে নাম্বার দিয়েছেন, যা আপনি মাওসূয়ায়ে ফাতহিল মুলহিমে দেখতে পেয়েছেন।

বর্তমানে দারুল কলম দামেশক থেকে ফাতহুল মুলহিম ও তাকমিলা একত্রে দৃষ্টিনন্দন মুদ্রনে প্রকাশিত হয়েছে। এটিতে তিনটি নাম্বারই আছে। প্রথমে নূরুল বাশার সাহেবের দেওয়া নাম্বার, তারপর অন্যান্য নুসখায় সাধারণভাবে বিদ্যমান দুটি নাম্বার।

সাধারণভাবে শেষোক্ত নাম্বারটিই হল সহীহ মুসলিমের ধারাবাহিক হাদীস নাম্বার। এই নাম্বার হিসেবেই   বিভিন্ন কিতাবে হাওয়ালা দেওয়া হয়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফ বিন আলতাফ - জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া

প্রশ্ন

আবু হানীফা ওয়া আসহাবুহুল মুহাদ্দিসুন নামে ইলাউস সুনানের একটি মুকাদ্দিমা রয়েছে। এটি ইদারাতুল কুরআন করাচি থেকে ছেপেছিল। ১৯৮৯ সালে বৈরুতের দারুল ফিকরিল আরাবিয়া থেকেও ছেপেছে। উভয় সংস্করণে এই মুকাদ্দিমাটিকে সূচির মাধ্যমে মিলিয়ে দেখলাম যে, সম্পূর্ণ এক ও অভিন্ন। আমরা জানতাম, কিতাবটি যফর আহমদ ওছমানী রাহ.-এর প্রণীত। যেমনটি জুমাদাল উখরা ২৮ হি. আলকাউসারেও বলা হয়েছে এবং করাচি সংস্করণেও তেমনি রয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি, দারুল ফিকর কর্তৃক প্রকাশিত নুসখায় মুসান্নিফ হচ্ছেন হাবীব আহমদ কিরানভী রাহ.। এর কারণ কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

আসলে ইলাউস সুনান-এর সর্বমোট তিনটি মুকাদ্দিমা রয়েছে, যা আলাদা আলাদা তিনটি কিতাবের মতো। প্রথমটি উসূলে হাদীস বিষয়ক মুকাদ্দিমা, যা পরে শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রা.-এর তাহকীক ও তালীকের মাধ্যমে কাওয়াইদ ফী উলূমিল হাদীস নামেও প্রকাশিত হয়েছে। এটি লিখেছেন ইলাউস সুনানের মূল মুসান্নিফ মাওলানা যফর আহমদ ওছমানী রাহ. (১৩১০ হি.-১৩৯৪ হি.)।

দ্বিতীয়টি ফিকহ বিষয়ক মুকাদ্দিমা। এটিকে পরবর্তীতে ফাওয়াইদ ফী উলূমিল ফিকহ নামেও নামকরণ করা হয়েছে। হযরত থানভী রাহ.-এর নির্দেশে এটি লিখেছেন মাওলানা হাবীব আহমদ কিরানভী রাহ.। মূলত হাদীস ও ফিকহ বিষয়ক এই উভয় মুকাদ্দিমার প্রথম নাম ছিল ইনহাউস সাকান ইলা মান য়ুতালিউ ইলাআস সুনান। তৃতীয় মুকাদ্দিমাটি ছিল ইমাম আবু হানীফা রাহ., ইলমে হাদীসে তাঁর মাকাম ও হানাফী মুহাদ্দিসীনের আলোচনা সম্বলিত। আগে এটির নাম ছিলইনজাউল ওয়াতান আনিল ইযদিরাই বিইমামিয যামান পরবর্তীতে তা আবু হানীফা ওয়া আসহাবুহুল মুহাদ্দিসুন নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এটিও লিখেছেন ইলাউস সুনানের মূল মুসান্নিফ মাওলানা যফর আহমদ উসমানী রাহ.।

সারকথা হল, ফিকহ বিষয়ক মুকাদ্দিমাটি ছাড়া অন্য দুটি মুকাদ্দিমার মুসান্নিফ মাওলানা উছমানী রাহ.। আর ফিকহ সংক্রান্ত ফাওয়াইদ ফী উলুমিল ফিকহ নামক মুকাদ্দিমাটি লিখেছেন মাওলানা হাবীব আহমদ কিরানভী রাহ.।

উল্লেখিত তথ্যগুলি এতই প্রসিদ্ধ যে, তা নতুন করে বলার দরকার ছিল না। খোদ দারুল ফিকরসহ অন্যান্য সব সংস্করণের কিতাবুত তাহারাত-এর পূর্বে প্রথম খন্ডের শুরুতে ইলাউস সুনানের পরিচিতিমূলক যে সংক্ষিপ্ত ভূমিকা রয়েছে, সেখানে সব কথাই বিস্তারিতভাবে রয়েছে। যা সর্বাগ্রে পড়ে নেওয়া জরুরি। সাথে সাথে ১৪ খন্ডের শুরুতে দীবাজাতু তাতিম্মাতি কিতাবিল বুয়ূ নামক ভূমিকাটিও পড়ে নিন।

অতএব সন্দেহ নেই, প্রশ্নোক্ত বিষয়ে করাচির ইদারাতুল কুরআনের তথ্যই সঠিক। এর উল্টো দারুল ফিকরিল মুআসির-এর সংস্করণে আবু হানীফা ওয়া আসহাবুহ-এর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় যা লিখা হয়েছে বলে আপনি লিখেছেন তা সম্পূর্ণ ভুল। সম্ভবত এই ভুলটি আরো সুস্পষ্ট হবে যখন আপনি দেখবেন যে, মুকাদ্দিমাটির শেষেও উছমানী রাহ.-এর নাম লেখা রয়েছে।

শেষ ইবারতটি হল-

كتبه بقلمه أسير وصمة ذنبه وألمه عبده ظفر أحمد وفقه الله للتزود لغد وغفر له ولوالديه وما ولد ولمشايخه وأصحابه وأحبابه أبدا لأبد وصلى الله تعالى على سيدنا محمد وآله وأصحابه أجمعين.

 

এতো গেল বৈরুতের দারুল ফিকরিল মুআসির এর মুদ্রিত সংস্করণের কথা, যার কথা আপনি বলেছেন। এই সংস্করণটি আমি এখনও সংগ্রহ করতে পারিনি। শুনেছি, শাবাকাতেও (ইন্টারনেট) একই ধরনের ভুল রয়েছে। তবে এখন আমার সামনে রয়েছে বৈরুতের আরেক মাকতাবা দারুল ফিকর-এর নুসখা, যা ১৪২১ হিজরীতে প্রকাশিত তাদের প্রথম সংস্করণ। এই সংস্করণে আরেক আশ্চর্য কান্ড ঘটানো হয়েছে। এটির মধ্যে তিনটি মুকাদ্দিমার প্রত্যেকটির প্রচ্ছদ পৃষ্ঠাতেই যফর আহমদ উছমানীর নাম লেখা। অথচ ফিকহ সংক্রান্ত মুকাদ্দিমাটির শুরুতে এই ইবারতটিও রয়েছে-

فيقول العبد الضعيف حبيب أحمد الكيرانوي هذه مقدمة

অথচ প্রচ্ছদে লিখে রেখেছে, যফর আহমদ উসমানী!!

প্রচ্ছদেই যখন এই হ-য-ব-র-ল অবস্থা তখন ভিতরের হালত কি হবে তা তো সহজেই অনুমেয়।

তুরাস নিয়ে এসব কর্মকান্ড তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাযত করুন।

ইলাউস সুনানের এই জাতীয় আরো কয়েকটি সংস্করণ রয়েছে, তবে আমার জানা মতে তুলনামূলক ভালো সংস্করণ এখনও পর্যন্ত ইদারাতুল কুরআনেরটি। কেউ সংগ্রহ করতে চাইলে এই নুসখাটি সংগ্রহ করা উচিত।

তবে ইলাউস সুনান-এর যুযোপযোগী তাখরীজ, তাহকীক ও তানকীহ-এর মাধ্যমে করার মতো কাজ অনেক রয়েছে। আল্লাহ তাআলা কাউকে আমানতদারির সাথে একটি মুতকান ও মুহাক্কাক খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জিল্লুর রহমান - জামেয়া উসমানিয়া চাটখিল

প্রশ্ন

 প্রশ্ন : ...।

উত্তর

বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিপদ সঙ্কুল। আসল কথা হল, প্রত্যেক কাজের জন্য বড় ধরনের একটা মাকসাদ থাকা জরুরি। এটাও ভাবা জরুরি যে, ঐ কাজটা আপনার তলবে ইলমের মহান লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল কি না? বর্তমানে এর ফলাফল কী হচ্ছে এবং কী হতে পারে? এই বিষয়গুলোও গভীরভাবে বিবেচনা করা দরকার। অন্যের দেখাদেখি আপনিও কুল-কিনারাহীন অথৈ সাগরে ঝাঁপ দিতে যাবেন কেন?

ভালো হয়, আপনার তালিমী মুরববীর সাথে পরামর্শ করে একটি সুন্দর সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। ফোনে অথবা সরাসরি এসে যোগাযোগ করলেও বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহাজুল ইসলাম সিরাজ - কালিয়াকৈর, গাজীপুর

প্রশ্ন

 

আমি উস্তাদগণের সাথে পরামর্শ করে ফতোয়ার কিছু কিতাব সংগ্রহ করেছি। যথা : আলবাহরুর রায়েক, বাদায়েউস সানায়ে, রদ্দুল মুহতার (শামী), ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ফাতাওয়া বাযযাযিয়া, হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকিল ফালাহ, ফাতহুল কাদীর। হযরতের নিকট আকুল আবেদন, উল্লেখিত কিতাব ছাড়া ফতোয়া-বিষয়ক অতীব প্রয়োজনীয় কিছু কিতাবের নাম জানাবেন। ইনশাআল্লাহ তা সংগ্রহ করতে চেষ্টা করব।

 

 

উত্তর

 

মাশাআল্লাহ! খুব ভালো কাজ করেছেন। এখন আপনার প্রধান কাজ হল, খরিদকৃত কিতাবগুলো মুতালাআ করা। কারণ এই জন্যই তো এত কিতাব সংগ্রহ করা। সংগৃহিত কিতাবগুলো পড়তে শুরু করলে আরো জরুরি জরুরি কিতাবের নাম আপনার সামনে আসতে থাকবে, যা আপনার দরকার হবে অথচ তা আপনার সংগ্রহে নেই।

আপনার সংগৃহীত প্রায় কিতাব মুতাআখখিরীন-এর। তাই ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ, ত্বহাবী, সারাখসী, জাসসাস রাহ. প্রমুখের কিতাবুগলোকেও ধীরে ধীরে আপনার সংগ্রহ-তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।  

বিভিন্ন মাকতাবা ঘুরে নতুন কিতাবাদি, ফিকহে মুকারানসহ অন্য ফিকহের কিতাবাদিও সংগ্রহ করতে পারেন। আর শুধু ফিকহী কিতাব কেন, একজন আলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী উলূমের মৌলিক কয়েকটি কিতাব সংগ্রহে থাকাও জরুরি।  

আসল কথা হল, কিতাব সংগ্রহ বিষয়টি অনেকটা নির্ভর করে সংগ্রহকারীর প্রয়োজন ও চাহিদা এবং যওক ও মেযাজের উপর। তবে হ্যাঁ, প্রয়োজন ও যওক অনুযায়ী কোনো কিতাব পছন্দ হলে এর গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ে কারো সাথে পরামর্শ করে নেওয়াতেও কোনো অসুবিধা নেই। 

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন - মাদানী নগর, ঢাকা

প্রশ্ন

 

আমরা জানি যে, আরবী ভাষায় মামান ইসমুল মাউসুল।  মান ওকালা আর মা গায়র-ওকালার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর সপক্ষে নূরুল আনওয়ার কিতাবুস সুন্নাহর বাহছে এ হাদীসও বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনুয যিবারা রা. কে বলেছেন-

ما أجهلك بلسان قومك أما علمت أن ما لغير العقلاء ومن للعقلاء. 

অথচ কুরআন মজীদের কতক জায়গায় মা-এর প্রয়োগ আল্লাহর জন্য হয়েছে। যেমন       وما خلق الذكر والانثى

এবং والسماء وما بناها

এখন আমার জানার বিষয় হল, শব্দ দুটির সঠিক প্রয়োগক্ষেত্র কী এবং উক্ত হাদীস সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

অবশেষে হুজুরের জন্য দুআ, আল্লাহ তাআলা হুজুরের ইলমের ঝরনায় উন্নতি দান করুন এবং সকলকে তা হতে তৃষ্ণা নিবারণ করার তাওফীক দান করুন।


 

উত্তর

 

নাহু ও লুগাতের যেসব কিতাবে এই দুটি শব্দের ব্যবহারক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে প্রায় কিতাবে এভাবে বলা হয়েছে- 

من أكثر استعمالها في العقلاء، وما أكثر استعمالها في غير العقلاء. 

আর অধিকাংশ সময়ের ব্যবহারকেই কোনো কোনো কিতাবে ঐভাবে বলা হয়েছে যেমনটি আপনি প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন।

এতো গেল এই দুটি শব্দের মাউসুল হওয়ার সময়ের অর্থ। মাউসুল ছাড়াও শব্দ দুটি ইস্তিফহাম, শর্ত ও নাকেরায়ে মওসুফা আর মা শব্দটি নফী, তাআজ্জুব, মাসদার ইত্যাদি অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

উপরোক্ত কথাগুলো সামনে রেখে প্রশ্নোক্ত আয়াত দুটি এবং এই জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে আবার নতুনভাবে চিন্তা করলে জটিলতা থাকবে না ইনশাআল্লাহ।

আর যে হাদীসটি সম্পর্কে আপনি জানতে চেয়েছেন তা সহীহ নয়। আপনি নূরুল আনওয়ারের হাওয়ালা দিয়েছেন। আপনার উদ্ধৃত পৃষ্ঠার হাশিয়াতেই তা বলা আছে। হাশিয়াটি লিখেছেন, হিন্দুস্তানের মুহাদ্দিস আবদুল হাই লাখনৌভী রাহ.-এর ওয়ালিদে মুহতারাম মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল হালীম লাখনৌভী রাহ.। তিনি হাদীসটি সম্পর্কে লিখেছেন-

وللمحدثين في هذا الحديث كلام، حتى قالوا : أنه موضوع, كذا قال بحر العلوم، وفي التفسير أنه شيء لا يعرف ولا أصل له من, وقال العسقلاني : لا أصل له من طريق ثابتة ولا واهية، كذا قال العلي القاري.

 

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নেয়ামতুল্লাহ বিন আইয়ুব - আলজামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

আমি একদিন কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করছিলাম। সূরা নিসার একটি আয়াতে এসে আরবী তরকীব সংক্রান্ত সমস্যায় পড়লাম। যার কারণে আয়াতের অর্থও সঠিকভাবে বুঝে আসছিল না। স্থানটি হল সূরা নিসার ৮৩ নং আয়াতের শেষ অংশ। আমার প্রশ্ন হল, এখানে কোন প্রকারের মুছতাছনা হয়েছে এবং কেন হয়েছে। বিস্তারিত দলিল ভিত্তিক জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।


উত্তর

তাফসীর ও ইরাবুল কুরআন বিষয়ক প্রায় সব কিতাবেই এই বাক্যটির তারকীব রয়েছে। আল্লামা সামীন হালাবী আদ্দুররুল মাসূন ফী উলূমিল কিতাবিল মাকনূন (২/৪০২-৪০৩)-এ এর দশটি তাওজীহদেওয়া হয়েছে। আপনি প্রথমে এই কিতাবগুলো দেখুন। আশা করি হল হয়ে যাবে। তারপরও কোনো প্রশ্ন থাকলে জানাবেন। 

শেয়ার লিংক

মাহমুদাতুর রহমান - গফরগাও, ময়মনসিংহ

প্রশ্ন

ক) তারীখ এবং সীরাতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কিতাব কোনটি?

 

খ) কানযুল উম্মাল কিতাবের সব হাদীস ও রেওয়ায়াত কি সহীহ? বিস্তারিত জানালে বাধিত হব। 


 

উত্তর

 

ক) নির্দিষ্ট কোনো কিতাবকে নির্ভরযোগ্য বলার অর্থ সামগ্রিক বিচারে নির্ভরযোগ্য হওয়া। এর অর্থ কস্মিনকালেও এমন নয় যে, এর প্রত্যেকটি কথাই বিশুদ্ধ; বরং সেখানেও অনির্ভরযোগ্য কোনো কিছু পাওয়া যায়। 

যাহোক, সীরাতও তারীখেরই একটি গুরত্বপূর্ণ অংশ। বিধায় প্রায় তারীখের কিতাবে সীরাত অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়েছে। তাছাড়া স্বতন্ত্রভাবে সীরাতের উপর রচিত কিতাবের সংখ্যা প্রচুর। এর মধ্যে ইবনুল কইয়িম রাহ.-এর যাদুল মাআদ খুব নির্ভরযোগ্য। তবে তা একটি ইলমী কিতাব এবং কোনো কোনো জায়গায় ইখতিলাফি মাসায়েলের আলোচনায় ইনসাফের সাথে সমাধানে পৌঁছা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া এর মূল বিষয়বস্ত্ত, যা তার নাম থেকেও স্পষ্ট সীরাতের প্রসিদ্ধ পরিচ্ছদগুলোর পরিবর্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরীকা বর্ণনা করা। যদি তাহকীকের যোগ্যতা থাকে তাহলে সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আসসালেহী এবং শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, যুরকানীতে যথেষ্ট তথ্য ও আলোচনা রয়েছে। অন্যথায় শায়খ সালেহ আহমদ আশশামীর রচনাবলি থেকে সহযোগিতা নেওয়া উচিত। মিন মায়ীনিস সীরাতিন নববিয়্যাহমিন মায়ীনিশ শামাইল ও মিন মায়ীনিল খাসাইস নামে তার কয়েকটি কিতাব প্রকাশিত হয়েছে। আল্লামা সালমান মানসুরপুরী--এর কিতাবরাহমাতুল্লিল আলামীন ও তার আলোকে প্রস্ত্তত আররহীকুল মাখতুম কিতাব দুটিও সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য। আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীরের সীরাত, শামাইল ও ফাযাইল অংশটিও হাওয়ালা ও সনদভিত্তিক এবং ইবনে কাসীর রাহ. সাধারণত রেওয়ায়েতের সনদগত দুর্বলতা (যদি থাকে) উল্লেখ করে থাকেন।

খ) না; রবং কানযুল উম্মালে নির্ভরযোগ্য হাদীস ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে যয়ীফ, মুনকার ও মাওযূ (জাল ও ভিত্তিহীন) রেওয়ায়েত রয়েছে। কারণ কানযুল উম্মাল হিন্দুস্থানের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা আলী মুত্তাকী আলহিন্দী রাহ.-এর অনন্য এক কীর্তি হলেও কিতাবটি মূলত হাফেয সুয়ূতী রাহ.-এর পূর্ণাঙ্গ তিনটি কিতাবের সুবিন্যস্ত রূপমাত্র। 

সুয়ূতী রাহ.-এর তিনটি কিতাব হল : ১. আলজামেউল কাবীর, যার আরেক নামজামউল জাওয়ামে 

সূয়ুতী রাহ.-এর ইচ্ছা ছিল, বিভিন্ন কিতাবে বিক্ষিপ্ত সব ধরনের হাদীসগুলোকে কওলী ও ফেলী দুভাগে ভাগ করে এই কিতাবে সংকলিত করা। সে হিসেবে এই কিতাবে সহীহ, হাসান ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে যয়ীফ, মুনকার ও মাওযূ রেওয়ায়েত এসেছে। ২. আলজামেউস সগীর। সূয়ুতী রাহ. এই কিতাবে মাওযূ কোনো রেওয়ায়েত না আনার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। 

৩. যিয়াদাতুল জামেউস সগীর। এটিও জামেউস সগীর-এর শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তীতে  বর্ধিত হাদীসগুলোর সংকলন।

এই দুটি কিতাবে মাওযূ (জাল) হাদীস না আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও সূয়ুতী রাহ. এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। এছাড়া যয়ীফ ও মুনকার পর্যায়ের রেওয়ায়েত তো রয়েছেই।

কানযুল উম্মাল-এ এই তিনটি কিতাবকে ফিকহী অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত করা হয়েছে মাত্র।

অতএব স্বাভাবিকভাবেই সূয়ুতী রাহ.-এর তিন কিতাবের যয়ীফ, মাওযূ ও মুনকার রেওয়ায়েতসমূহ কানযুল উম্মাল-এ হুবহু রয়ে গেছে।

যেমনিভাবে রয়েছে সহীহ, হাসান ও নির্ভরযোগ্য হাদীসসমূহের বিশাল ভান্ডার।

এখন কেউ যদি কানযুল উম্মাল থেকে কোনো হাদীস নিতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই এর বিশুদ্ধতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে নিতে হবে। তবে যদি তাতে এমন কোনো কিতাবের উদ্ধৃতি থাকে, যাতে কেবলমাত্র সহীহ হাদীস সংকলিত হয়েছে তবে সে কথা ভিন্ন।  

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আনিছ বেদার - হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

আমি দাওরায়ে হাদীস জামাতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাই এবং একটি ভালো ফলাফল করতে চাই। হুজুরের নিকট আমার বিনীত নিবেদন এই যে, আমাকে এমন কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে

সহায়তা করবেন, যার দ্বারা আমি উক্ত পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারি। কিন্তু দাওরায়ে হাদীসে

আমার যেন পড়ালেখার কোনো   ঘাটতি না হয়। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

 

উত্তর

পরীক্ষা একজন তালিবে ইলমের শিক্ষা জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রতিভা বিকাশ, ইস্তিদাদ যাচাই ও নিজের মেহনতের ফল লাভের জন্য পরীক্ষা উত্তম মাধ্যম। যদিও চলমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে এই ফল পূর্ণাঙ্গভাবে লাভ করা যায় না।

তবু শিক্ষা জীবনের উন্নতিতে এর প্রভাব অনস্বীকার্য।

আমার মতে, পরীক্ষা এমন কোনো বিষয় নয়, যার জন্য আলাদা প্রস্ত্ততি ও স্বতন্ত্র পড়াশোনার দরকার; বরং স্বাভাবিক গতিতে একজন তালিবে ইলমের পুরো বছরের রুটিন মাফিক পড়াশোনা, নিয়মিত দরসে উপস্থিতি, তাকরার-মুযাকারা, নিরবচ্ছিন্ন মুতালাআ ইত্যাদি অন্যের কাছে উপস্থাপনের জন্য পরীক্ষা একটি মাধ্যমমাত্র।

এটা অনেকটা ফসল ক্ষেতের মতো। মৌসুমের শুরুতে যদি চাষী নিজের সবটুকু শ্রম ও আন্তরিকতা উজাড় করে দিয়ে ফসল ফলায়, মৌসুমজুড়ে পরিচর্যায় লেগে থাকে, সব ধরনের বিপর্যয় থেকে ক্ষেত  রক্ষায় সচেষ্ট হয় তাহলে মৌসুম শেষে ফলে -ফসলে ভরা মাঠ দেখে তার মুখে হাসি ফুটবেই।

অতএব ভালো ফলাফল লাভের জন্য পূর্ণ নাশাত ও হিম্মতের সাথে মেহনত চালিয়ে যেতে হবে। পুরো বছর অবহেলা ও গাফলতের মধ্যে ডুবে থেকে কিংবা পরীক্ষার আগ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে প্রস্ত্ততিগ্রহণ করে ভালো ফলের আশা করা বোকামি বৈ আর কিছু নয়। উপরোক্ত কথাগুলো

সব পরীক্ষার ক্ষেত্রে সত্য। তবে আপনার মনে রাখা ভালো, যেহেতু দাওরায়ে হাদীসে

কুতুবে সিত্তাসহ প্রায় কিতাবে ফিকহুল হাদীস সংক্রান্ত আলোচনায় প্রত্যেক মুসান্নিফ নিজ মাযহাব, ইজতিহাদ এবং যওক-রুচি অনুযায়ী বিন্যাস করলেও মৌলিক বিষয়বস্ত্ত কিন্তু প্রায় এক ধরনের। তাই আমার পরামর্শ হল, যে কোনো একটি বিস্তৃত আরবী শরহ শুরু থেকে শেষ

পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে মুতালাআ করে নিন। এছাড়া প্রয়োজনের সময় অন্যান্য শরহর শরণাপন্ন হোন। বিশেষত হানাফী মাযহাবের সঠিক

দলিলাদির জন্য হানাফী কোনো মুসান্নিফের শরহ অধ্যয়ন করা তো অত্যন্ত জরুরি।

মুতালাআর সময় বার বার করে হাদীস, শরহে হাদীস, ফিকহ ইত্যাদি বিষয়ে জরুরি কথাগুলি আলাদা আলাদা খাতায় নোট করুন। এরপর প্রত্যেক কিতাবের বিশেষ বৈশিষ্টমন্ডিত বাব ও বহস এবং প্রত্যেক মুসান্নিফের নিজস্ব আন্দাযের সাথে ভালোভাবে পরিচিত হোন। কুতুবে সিত্তার প্রত্যেকটির সাথে হাশিয়াতুস সিন্দীও নিয়মিত মুতালাআয় রাখতে পারেন।

একটি কথা বিশেষভাবে বলব, পুরো বছর এই চেষ্টা করুন, যাতে কোনো একটি হাদীসও আপনার শোনা ও কমপক্ষে অর্থ বুঝা থেকে বাদ না যায়। অন্যান্য ফায়েদা তো রয়েছেই, পরীক্ষাতেও এর একটি ভালো উপকার পাবেন বলে আশা করি।

স্পষ্টাক্ষরে সুন্দর লিখা ও উত্তরপত্র তৈরির অনুশীলন করা পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের অন্যতম শর্ত। ছাত্র জীবনের শুরু থেকেই এর জন্য মেহনত শুরু করা দরকার।

বিগত বোর্ড পরীক্ষার কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে রুমে বসে উত্তর লিখার অনুশীলনও করে দেখতে পারেন। তবে সাবধান, এর জন্য সব বোর্ড-প্রশ্ন একত্র করা কিংবামিফতাহুন নাজাহ জাতীয় কোনো প্রশ্নোত্তর নোটের পিছনে পড়ে নিজের মূল্যবান যিন্দেগী নিজ হাতে খুন করবেন না। কথাটা

এভাবে বললাম কারণ আমাদের তালিবে ইলম ভাইদের মাঝে এই রোগ দিন দিন ব্যাপকতা লাভ করছে।

মনে রাখা উচিত, এরকম নোটের সাহায্যে মাওলানা হয়ে সাময়িকভাবে পরীক্ষায় ভালো

ফলাফলও যদি লাভ করা যায় কিন্তু জীবনে তার পরিণতি অত্যন্ত খারাপ। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাযত করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ - ঢাকা

প্রশ্ন

উর্দু ভাষার প্রসিদ্ধ অভিধান ফিরুযুল লুগাত ছাড়া উর্দূ থেকে উর্দূ নিভরযোগ্য আর কী কী অভিধান রয়েছে-জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

উর্দু থেকে উর্দু নির্ভরযোগ্য আরো বেশ কয়েকটি অভিধান রয়েছে। কয়েকটির নাম নিম্নে উল্লেখ করছি :

1ـ جامع اللغات ـ خواجه عبد المجيد

2ـ علمى اردو لغات ـ وارث سرهندى

3ـ فرهنك أصفيه ـ مولوى سيد أحمد دهلوهى

4ـ نسيم اللغات ـ نسيم امروهى.

পাকিস্তান উর্দু তারাক্কী বোর্ড-এর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বড় বড় সংকলন প্রস্ত্তত হচ্ছে।

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তারেক - চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

মিশকাত শরীফের হাদীসের ব্যাখ্যা দেখার জন্য মোল্লা আলী কারী রাহ. রচিত মিরকাত মুতালাআ করে থাকি। অনেক জায়গায় দেখেছি যে, ইবনে হাজার রাহ.-এর বরাতে বিভিন্ন আলোচনা নকল করা হয়েছে এরপর সেগুলো খ ন করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন হল, এই ইবনে হাজার কি সহীহ বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থের লেখক ইবনে হাজার আসকালানী? মিশকাত শরীফের উপর তাঁর কি কোনো শরাহ রয়েছে?

উত্তর

সম্ভবত এ ধরনের একটি প্রশ্নের উত্তর আলকাউসারের পেছনের কোনো সংখ্যায় দিয়েছি। মোল্লা আলী কারী রাহ. মিরকাত গ্রন্থে মাঝেমধ্যে নবম শতকের প্রখ্যাত হাফেযে হাদীস, ফাতহুল বারীর মুসান্নিফ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ.-এর কথা উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি সাধারণত তাঁর নাম শায়খুল ইসলাম বা হাফেযসহ কিংবা আসকালানী নিসবতসহ উল্লেখ করেন। মিশকাতের উপর তাঁর রচিত আলাদা কোনো শরহের কথা আমার জানা নেই।  

আর শুধু ইবনে হাজার নামের একজনের থেকেও তিনি বহু বিষয় নকল করেছেন এবং অধিকাংশ জায়গায় সেগুলো খন্ডন করেছেন। এই ইবনে হাজার হলেন দশম শতকের শাফিয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইবনে হাজার হায়তামী আলমক্কী রাহ. (মৃত্যু : ৯৭৩ হি.)। মিশকাত শরীফের উপর ফাতহুল ইলাহ ফী শরহিল মিশকাত নামে তাঁর একটি শরহ রয়েছে, যাতে তিনি প্রায় অর্ধেক কিতাবের শরহ করতে পেরেছেন। কিতাবটি সম্পূর্ণ করার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। দেখুন : আলবিজায়াতুল মুযজাত-মুকাদ্দিমায়ে মিরকাত, আবদুল হালীম চিশতী পৃ. ৬৪; শাজারাতুয যাহাব ৮/৩৭০-৩৭১; আলআলাম, যিরিকলী ১/২৩৪ 

শেয়ার লিংক

বিনতে আবী মায়মুনাহ - ঢাকা

প্রশ্ন

আমি বিবাহের আগে তালীমুল ইসলাম, বেহেশতী যেওর, মীযান-মুনশাইব, নাহবেমীর, বাকুরাতুল আদব ও এসো আরবী শিখি কিতাবগুলো পড়েছি। হেদায়াতুন নাহু ও কুদূরী পড়া শুরু করেছিলাম, কিন্তু কোনো কারণে প্রায় তিন বছর আমার লেখাপড়া বন্ধ থাকে। এরপর চলতি বছর বিবাহও হয়ে যায়। আমার স্বামী যেহেতু আলিম তাই আমি বাসায় আমার স্বামীর কাছে আবার পড়াশোনা করতে আগ্রহী এবং শুরুও করেছি। আমার জানার বিষয় হল, যেহেতু পিছনের পড়া অনেকটা কাঁচা হয়ে গেছে তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে মেহনত করলে সহজে আরবী ভাষা শিখতে পারব এবং দ্বীনী ইলম হাসিল করতে পারব?

 

উত্তর

 

বড় খুশির কথা। আল্লাহ তাআলা আপনার আগ্রহ ও হিম্মত আরো বাড়িয়ে দিন। আপনি আবার বুঝে বুঝে এসো আরবী শিখি কিতাবটির তিনটি খন্ডই পড়ুন এবং সাথে আততামরীনুল কিতাবী কিতাবটিও আপনার স্বামীর কাছে পড়ুন এবং তামরীনের কাজগুলো নিয়মিত করতে থাকুন। এরপর নাহবের কায়েদা-কানুন জানার জন্য হেদায়াতুন নাহব কিতাবটি পড়ুন। এসব পড়া শেষ হওয়ার পর যোগাযোগ করলে সামনের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া যাবে। আর সাধারণ দ্বীনী ইলম হাসিল করার জন্য সহজ উর্দু ভাষায় রচিত দ্বীনী কিতাবগুলো নিয়মিত পাঠ করুন। যেমন - 

১. বেহেশতী যেওর (সব কটি খন্ড) 

২. ইসলাহী নেসাব। এটি হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রাহ.-এর ছোট ছোট দশ কিতাবের সমষ্টি।

৩. ইসলাহুর রুসুম, থানভী রাহ. কৃত

৪. দ্বীন ও শরীয়ত।

৫. ইসলাম ক্যায়া হ্যায়।

৬. কুরআন আপ সে ক্যায়া কাহতা হ্যায়।

এ তিনটি কিতাবের লেখক হলেন মাওলানা মনযূর নুমানী রাহ.।

এছাড়া তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন (হযরত মাওলানা তাকী উসমানী দা.বা. কৃত) উর্দু বা বাংলা এবং মাআরিফুল হাদীস (মাওলানা মানযুর নূমানী রাহ. কৃত) উর্দু বা বাংলাও সবকে সবকে পড়ার চেষ্টা করুন।

 

শেয়ার লিংক

নূর ইবনে আবী তাহির - কোতয়ালী, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

ক) আমি দরসে নিযামীতে ইফতা সমাপ্ত করে একটি মাদরাসায় কয়েক বছর ধরে তাদরীসে আছি। আরবী ভাষার প্রতি আমার আন্তরিক টান আছে তবে মাহারত যাকে বলে তা নেই। আমি মনে করি, একজন আলিম যদি যে কোনো আরবী বই-পুস্তক বা সাহিত্য পত্রিকা অনায়াসে বুঝতে না পারে তবে তার ছাত্রজীবন ব্যর্থ, যার একটি জীবন্ত নমুনা আমি অধম। নাহবের কায়দা-কানুন ও আরবী তারকীব জানা আছে। তবে ছাত্রজীবনে আদাবে আরবী বিষয়ে তামরীন হয়নি বলে হয়ত আমার এই দুর্বলতা। আমার এই নাকস দূর করার জন্য আমি কি কোনো আরবী সাহিত্য কোর্সে ভর্তি হব নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি আছে, যার দ্বারা আমি উপকৃত হতে পারব? দয়া করে জানাবেন।

খ) আমি অন্তরের কয়েকটি ব্যধিতে ভুগছি, যা একমাত্র আল্লাহ রাববুল আলামীনই জানেন। এজন্য আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন অনুভব করছি। তবে এই মহৎ কাজের জন্য কোথায় ও কোন ধরনের মানুষ নির্বাচন করব তা বুঝে ওঠতে পারছি না। তাই আপনার সহযোগিতা কামনা করছি।

গ) আমি ইফতা পড়েছি কিন্তু ফিকহের বিষয়ে আক্ষরিক অর্থে আমি কাঁচা, যা পড়েছি তাও দিন দিন ভুলে যেতে বসেছি। কিভাবে ফিকহের বিষয়টি আয়ত্তে আনতে পারি এ বিষয়ে পরামর্শ কামনা করছি। 

উত্তর

আপনার প্রথম ও তৃতীয় সমস্যা সম্পর্কে ভালো পরামর্শ তো আপনার তালীমী মুরববীই দিতে পারেন। কারণ তিনিই আপনার হালত সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাঁর পরামর্শক্রমে আপনি আদাবে আরবী ও ইফতা-এই দুই বিষয়ের মধ্যে যে কোনো একটিকে আপনার মাশগালা হিসেবে বেছে নিন এবং জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করুন। বুলন্দ হিম্মত ও অবিরাম মেহনতের মাধ্যমে সম্ভব সব উপায়-উপকরণ অবলম্বন করে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে থাকুন। যেহেতু ইফতার দ্বারা কিছু না কিছু ফায়েদা হয়েই থাকে আর আপনিও কিছুদিন  এ বিষয়ে তামরীন করেছেন সে হিসেবে আপনি এটাকে আপনার মাশগালা হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

আপনি যখন কোনো বিষয়কে নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন তখন নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে অভিজ্ঞ কোনো আহলে ফনের কাছে সময় দিতে পারলে খুব ভালো। আপনি যে মাদরাসায় তাদরীসে আছেন সেখানে যদি এমন কোনো উস্তায থেকে থাকেন তাহলে তাঁর নেগরানিতে তাদরীসি খেদমতের পাশাপাশি আপনার মেহনত জারি রাখতে পারেন।

তাছাড়া আপনি প্রাথমিক মেহনত এভাবেও শুরু করতে পারেন যে, ঐ ফনের কোনো কিতাব যদি আপনার তাদরীসের যিম্মাদারিতে থাকে, তাহলে তাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগতভাবে বাড়তি মেহনত করুন। এভাবে ধীরে ধীরে ইনশাআল্লাহ মানযিলের দিকে অগ্রসর হতে পারবেন।

আপনি চিঠিতে যে বলেছেন, একজন আলিম যদি যে কোনো আরবী সাহিত্য পত্রিকা বা এই মানের বই-পুস্তক বুঝতে না পারে তাহলে তার ছাত্রজীবন ব্যর্থ-এই ধারণাটা অনেক সময় হীনম্মন্যতার কারণেও হয়ে থাকে। কারণ মৌলিক কিতাবী ইস্তিদাদ তৈরি করা দরসে নিযামীর একটি মৌলিক লক্ষ্য। এটি যদি কারো অর্জিত হয় তাহলে সে কুরআন, হাদীস ও ফিকহসহ উলূমে ইসলামিয়্যাহ সংক্রান্ত যে কোনো কিতাব সহজেই বুঝতে পারবে। তার সাথে সে যদি ব্যবহারিক আরবী ও আধুনিক পত্র-পত্রিকা বুঝতে পারে তাহলে ভালো। কিন্তু এই বাড়তি অর্জনটা না হলে তার ছাত্রজীবনকে ব্যর্থ মনে করা সঠিক নয়। কারণ এর জন্য আলাদা মেহনত দরকার। কিছুদিন মেহনত করলে ঐ সমস্যা দূর হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সলীম খান সংকলিত আলমুখতারাতুল আরাবিয়্যাহ জাতীয় কোনো কিতাবের সহযোগিতাও নেওয়া যেতে পারে।

ইসলাহী মুরববী সম্পর্কে আপনার অনুভূতি মোবারকবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে এটাও সত্য যে, এটা কেউ কাউকে নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয় নয়। বরং প্রত্যেকেই নিজের রুচি, চাহিদা ও

ইস্তেফাদা করার সুযোগ-সুবিধা, সর্বোপরি নিজের হাল হিসেবে একজন মুরববী বেছে নিবে। এক্ষেত্রে একটি উসূল মনে রাখা দরকার, যা আমরা অনেকেই খেয়াল করি না। তা হল, আমরা নিজের ইসলাহের জন্য ফিরিশতা সিফাত অথবা কমপক্ষে ত্রুটি-বিচ্যুতিমুক্ত মুসলিহ তালাশ করি। অথচ নিজের অবস্থার কথা ভেবে দেখি না। এই মনোভাব সঠিক নয়। আরবীতে একটি প্রবাদ আছে-

من لم ير مفلحا لن يفلح أبداً

অতএব যত দ্রুত সম্ভব কোনো মুসলিহ মুরববীর হাতে নিজেকে সোপর্দ করে ইসলাহী সফর শুরু করুন। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন। আমীন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ ইবরাহীম খলীল - মাদানী নগর

প্রশ্ন

মুহতারাম! আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য মুহাববত করি। বিভিন্ন সমস্যায় আপনার কাছে লিখতে ইচ্ছে হলেও সুযোগ হয় না। আজ বিকেলে সুযোগ পেয়ে লিখছি। আমি কাফিয়া জামাতে পড়ি। এ জামাতে আমাদের পাঠ্য কিতাবগুলো হচ্ছে, তরজমাতুল কুরআন (১১-২০ পারা), কুদূরী, উসূলুশ শাশী, দুরুসুল বালাগাহ, কাফিয়া ও মিরকাত। এগুলোর মধ্যে কাফিয়ার লম্বা তাকরীর মুখস্থ করতে ভালো লাগে না। তেমনি মিরকাত কিতাবটিও সবকের সময় ছাড়া অন্য সময় পড়তে ইচ্ছে হয় না। কারণ এগুলোর পিছনে সময় দিলে গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের শরাহ মুতালাআ করা যায় না। এখন আমার করণীয় কী? 

উত্তর

আপনি যে মাদরাসায় পড়াশোনা করেন সেখানকার নেসাব-নেযামের অনুগত থাকা আপনার কর্তব্য। মাদরাসার সবকিছুকে সম্মান ও গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করুন। তবে একথা সত্য যে, কাফিয়ার শরাহসমূহের অপ্রয়োজনীয় ও দূর সম্পর্কীয় কিলা-কুলনার পেছনে সময় ব্যয় করা উচিত নয়। এ বিষয়ে উস্তাযে মুহতারাম হযরত তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম ও দেওবন্দের শায়খ সাঈদ আহমদ পালনপুরী দামাত বারাকাতুহুমের পরামর্শ অনুসরণ করতে পারেন।

তাঁদের পরামর্শ যদিও পাঠদান-পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত, তবে একজন বুদ্ধিমান তালিবে ইলম তা থেকে নিজের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে পারেন।

তাঁদের উভয়ের আলোচনার সারমর্ম হল, কাফিয়া ইলমে নাহবের একটি মশহূর মতন। এর ইবারত সহজ। ফনের জরুরি সব মাসআলা এতে সন্নিবেশিত হয়েছে। এর দ্বারা প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায়।

ফিকহের ক্ষেত্রে মুখতাসারুল কুদূরী যেমন নাহবের ক্ষেত্রে কাফিয়া তেমনই। অর্থাৎ এতে শুধু নাহবের মাসআলা বয়ান করা হয়েছে। বিস্তারিত দলিলের জন্য রয়েছে শরহে জামী, যেমন ফিকহের ক্ষেত্রে আছে হিদায়া। কিন্তু মূল কাফিয়ার মাসআলার পিছনে সময় ব্যয় না করে কায়েদার দলিল ও নুকতা এবং যুক্তি ও রহস্য বর্ণনার পেছনে প্রচুর সময় ব্যয় করা হয়। এই ধারার প্রচলন করেছেন খোরাসানী ও আফগানী কিছু আলিম। এভাবে প্রশ্নোত্তর, হাকীকত-মারিফত এবং নুকতা দর নুকতার সিলসিলা শুরু হয়ে গেল আর ধীরে ধীরে মূল মাসআলাগুলোই গুরুত্বহীন হয়ে যেতে থাকল।

অতএব কাফিয়ার তালিবে ইলমের প্রথম দায়িত্ব হল, মূল মাসআলা খুব ভালোভাবে বুঝা ও তা আত্মস্থ করে নেওয়া। কারণ এই কিতাবের মাকসাদই হল, প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জ্ঞানলাভের পর নাহবের বিস্তারিত মাসআলাগুলোর মাধ্যমে ফনের সাথে তালিবে ইলমের মুনাসাবাত তৈরি করা এবং বিভিন্ন উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত দ্বারা নাহবের মাসআলা ইস্তেম্বাত করার যোগ্যতা পয়দা করা।

তবে বুঝার স্তর হিদায়াতুন নাহু থেকে এটুকু উঁচু হতে পারে যে, ইবারতের ফাওয়ায়েদ-কুয়ূদ ও শব্দ-বাক্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়ে যায় এবং গ্রন্থকার যে সকল আলোচনা অতি সংক্ষেপে করেছেন তা পরিষ্কারভাবে অনুধাবন করা যায়।

এর বাইরে নাহবের সাথে সম্পর্কহীন আকলী মুনাকাশা ও শাব্দিক মারপ্যাঁচ সম্পূর্ণ পরিহার করা উচিত।

২. কাফিয়ার সর্বোত্তম শরহ হল শরহে রযী। এছাড়া শরহে জামী ও হাশিয়ায়ে ঈসামেও এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা কিতাব বোঝার জন্য জরুরি কিংবা ইলমে নাহবের সাথে প্রাসঙ্গিক। কিন্তু তাহরীরে সম্বট জাতীয় যে সকল শরহে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা রয়েছে কোনো অবস্থাতেই তালিবে ইলমদেরকে এই সব শরহ দেখার অনুমতি দেওয়া যায় না।

উদাহরণস্বরূপ,

لكلمة لفظ وضع لمعنى مفرد

এর পিছনে যেভাবে দিনের পর দিন ব্যয় করা হয়, এর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং এই বাক্যের মূল অর্থের বাইরে শুধু আলিফ-লামের প্রকারভেদ, মুফরাদের অর্থ এবং এর ইবারতগত ও অর্থগত পার্থক্যগুলো বুঝে নেওয়াই যথেষ্ট। তবে আলিফ-লামের প্রকারাদির জন্য এই পরিমাণ উদাহরণ বের করা চাই, যাতে প্রত্যেক প্রকারের পূর্ণ পরিচয় যেহেনে বসে যায়।

৩. অনর্থক আলোচনা পরিহার করার ফলে যে সময় পাওয়া যাবে তা নাহবের প্রায়োগিক যোগ্যতা তৈরির পিছনে ব্যয় করা উচিত। কিতাবে বর্ণিত মাসআলাগুলোর মিছাল ছাড়াও আরো মিছাল, কুরআন-হাদীস ও আরবী সাহিত্য থেকে দৃষ্টান্ত বের করা, এই ধরনের আরো নতুন নতুন বাক্য তৈরি করা; যাতে পঠিত কায়দার উপর ভালোভাবে তামরীন হয়ে যায়।

এই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কাফিয়ার তালিবে ইলম আননাহবুল ওয়াফী মুতালাআয় রাখতে পারে। এই কিতাবে কাফিয়া স্তরের উপযোগী মাসআলা কুরআন-হাদীস ও আরবী সাহিত্যের বিভিন্ন উদাহরণসহকারে পেশ করা হয়েছে। এর বাইরে এই কিতাবে আলাদা তামরীন অংশও রয়েছে। এতে করে একদিকে কাফিয়ার মাসায়েলের ইজরা হবে, অন্যদিকে ধীরে ধীরে আরবী ভাষা ও সাহিত্যের রুচি তৈরি হবে।

এক্ষেত্রেও মূল কথা হল, কাফিয়ার তালিবে ইলমদের উচিত, সাহিত্য-রুচি ও নাহবী যওক আছে এমন উস্তাদদের সহযোগিতা নেওয়া। আর প্রত্যেক

উস্তাযেরও কর্তব্য, আদবী যওক উন্নত করার চেষ্টা করা এবং নাহব ও আরবী সাহিত্যের মৌলিক ও মানোত্তীর্ণ গ্রন্থসমূহ নিজেদের সাধারণ মুতালাআয় রাখা। (পালনপুরী দা.বা. কৃত হা-দিয়া শরহে কাফিয়া, দরসে নিযামী কি কিতাবে ক্যায়সে পড়হেঁ আওর পড়হায়েঁ ২৬-২৯)

আর মিরকাত পর্যন্ত মানতিক তো খুব বেশি নয়। তাই মিরকাত বা এই জাতীয় কোনো সহজ কিতাব থেকে মানতিকের ইস্তিলাহগুলো মোটামুটিভাবে আত্মস্থ করে নেওয়াই ভালো।

তাছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফনের যে কিতাবগুলো নেসাবে আছে, সে ক্ষেত্রে নিয়ম হল, প্রথমে মূল মতন ভালোভাবে হল করতে চেষ্টা করুন। সাথে সাথে এসব কিতাবের আরবী শরহ-হাশিয়াগুলোর সাথে পরিচিত হোন। মাঝে মাঝে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বহস কিংবা কোনো ইবারত জটিল মনে হলে এসব আরবী শরহের সহযোগিতা নিন। নেযামুল আওকাতে তারপরও সময় থাকলে নির্দিষ্ট কোনো শরহ নিয়মিত মুতালাআ করতে পারলে তো নূরুন আলা নূর। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে আমলের তাওফীক দান করুন। আমীন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আহমদুল্লাহ - মাদানী নগর, ঢাকা-১৩৬১

প্রশ্ন

 প্রশ্ন : ক) আমি এ বছর শরহে বেকায়া জামাতে অধ্যয়নরত। ইদানীং লক্ষ্য করেছি, আমার কিছু ছাত্র ভাই হাদীস মুখস্থ করছে। তাই আমি যাদুত তালেবীন কিতাবটির হাদীসসমূহ মুখস্থ করতে চাচ্ছি। আমি কি এ কিতাবের হাদীস মুখস্থ করব, না অন্য কোনো কিতাব থেকে মুখস্থ করব? আর সহজ কিছু হাদীসের কিতাবের নাম জানিয়ে উপকৃত করবেন। প্রশ্ন : খ) হাদীস মুখস্থ করার সহজ নিয়ম ও এ সময় লক্ষ্যণীয় বিষয়সমূহ জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

উত্তর : ক ও খ) আপনি শায়খ মুহিউদ্দীন মুহাম্মাদ আওয়ামার পুস্তিকা মিন সিহাহিল আহাদীসিল কিসার দ্বারা হিফয শুরু করুন। এই কিতাবটি মাকতাবাতুল আশরাফ, বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে অনুবাদসহ প্রকাশিত হয়েছে। এর শুরুতে বান্দার একটি দীর্ঘ ভূমিকা আছে। আশা করি, তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তারিফুজ্জামান - জামিয়া মুহিউসসুন্নাহ মাদরাসা বাঘারপাড়া, যশোর

প্রশ্ন

 

মুহতারাম মুহাদ্দিস সাহেব হজুর দামাত বারাকাতুহুম। আশা করি, আপনি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন এবং আমিও আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে ভালো আছি। হুজুরের নিকট নিম্নলিখিত প্রশ্নের সমাধান দেওয়ার বিনীত আবেদন রইল।

প্রশ্ন : ক) হযরত আশরাফ আলী থানভী রাহ. তাঁর তালীম-তরবিয়তের তরীকা নামক কিতাবে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজকাল তালীমের জন্য তো লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা হয় এবং এজন্য বহু সময়ও ব্যয় করা হয়, কিন্তু সোহবতে সালেহর জন্য কেউ একটি মাসও দেয় না। তাই জানার বিষয় হল, ছাত্রজীবনে আল্লাহ ওয়ালাদের কাছে মুরীদ হওয়া কি জরুরি? 

প্রশ্ন : খ)  হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রাহ.-এর জীবনী সম্পর্কে জানতে হলে সঠিক তথ্যনির্ভর কোন কিতাব অধ্যয়ন করতে পারি?  


 

উত্তর

 

এতটুকু ইহসান তো করেছেন যে, আপনি শুধু মুহাদ্দিস লিখেছেন, মুফতী লেখেননি। প্রিয় ভাই! উপাধি প্রয়োগের বিষয়ে আমাদের সাবধান হওয়া জরুরি। বাস্তবেই যিনি কোনো উপাধির যোগ্য তাকেও যদি ঐ উপাধি দ্বারা সম্বোধন না করা হয় তাহলেও তো ক্ষতি নেই। তাই ভারী উপাধিগুলো খুব কম ব্যবহার করা উচিত। 

আমার এমনিতেও উপাধি পছন্দ নয়, বিশেষত মুফতীর মতো ভারী ও দায়িত্বপূর্ণ উপাধি। কেউ যদি সুধারণার কারণে আমাকে এসব উপাধির যোগ্যও মনে করেন তবু কি আমার অপছন্দের দিকটি সদয় বিবেচনা করে আমার সম্পর্কে এসব উপাধি প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে পারেন না? আল্লাহ তাআলা এমন লোকদেরকে আমার পক্ষ থেকে জাযায়ে খায়র দান করুন। আমীন।  

আপনার প্রশ্নের সমাধান নিচে দেওয়া হল।

ক) আপনি হযরত থানভী রাহ.-এর যে কথা উদ্ধৃত করেছেন তাতে তো মুরীদ হওয়ার কথা নেই, আছে সোহবতের কথা। আপনি এখন থেকেই তালীমী মুরববীর পরামর্শক্রমে কোনো মুত্তাবিয়ে সুন্নত মুসলিহের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করুন এবং মাঝে মাঝে তার সোহবতে বসুন, তার কাছে যান। অন্যথায় নিজ তালীমী মুরববীর সোহবতেই প্রতিদিন পাঁচ মিনিট হলেও সময় কাটাতে থাকুন।  

খ) হযরত আবুল হাসান নদভী রাহ.-এর কিতাব তারীখে দাওয়াত ওয়া আযীমত ও হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ.-এর আসসুন্নাতুল জালিয়্যাহ ফিল চিশতিয়্যাতিল আলিয়্যাহ কিতাব দুটি অধ্যয়ন করুন। দ্বিতীয় কিতাবটি জীবনী-গ্রন্থ নয়, তবে অতি উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।

আপনি অন্য একটি চিঠিতে তাফসীরে তাওযীহুল কুরআনের মাকাম সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। জানি না, আপনি কিতাবের শুরুতে হযরত মুসান্নিফের ভূমিকাটি পড়েছেন কি না। প্রথম ও তৃতীয় খন্ডে আরো কয়েকটি ভূমিকা আছে। ঐ ভূমিকাগুলো পড়ে নিলে সম্ভবত এই প্রশ্ন জাগত না। 

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহমুদ হাসান - বড় মসজিদ, মোমেনশাহী

প্রশ্ন

আমি এ বছর শরহে বেকায়া জামাতে ভর্তি হয়েছি। ইতিপূর্বে কখনো কোনো কিতাবের কোনো শরাহ সংগ্রহ করিনি। বেশি প্রয়োজন হলে অন্যেরটা দেখে নিতাম। কিন্তু এ বছর অন্যদের দেখে আমি ভাবলাম কিছু শরাহ কেনা দরকার। এজন্য বড় ভাইদের থেকে শরাহর নামও জেনে নিয়েছি। এরপর অপর এক ভাইয়ের কাছে বিষয়টা জানালে তিনি পরামর্শ দিলেন, দরস ও তাকরারের পর যে সময়টুকু পাওয়া যায় তাতে মূল কিতাব পড়ে শরাহ দেখার সময় কোথায়? তার কথা শুনে শরাহ আর কেনা হয়নি। এখন আমি শরাহ কেনার বিষয়ে কোন দিক অবলম্বন করব। আর যদি কিনতে হয় তাহলে কোন কিতাবের কোন শরাহ বেশি উপযোগী হবে, জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

এখন পড়ার সময় নেই-এ কথা ভেবে কোনো কিতাব সংগ্রহ করা থেকে বিরত থাকা অনুচিত। এখন সময় না থাকলেও পরে সময় হবে। তাছাড়া পুরো কিতাব পড়ার সুযোগ না হলেও প্রয়োজনের সময় তা থেকে সহযোগিতা নেওয়া যাবে কিংবা আল্লাহর অন্য কোনো বান্দার কাজে আসতে পারে। ভবিষ্যত বংশধরদের মাঝে এ কিতাবের পাঠক তৈরি হতে পারে। এজন্য আল্লাহ তাআলা যাকে কিতাব সংগ্রহের সামর্থ্য দিয়েছেন তার এ থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। 

শরহে বেকায়ার জন্য আসসিআয়াহ, আলইযাহ, ফাতহু বাবিল ইনায়াহ ও জামিউর রুমূয সংগ্রহ করতে পারেন। আর সহযোগী হিসেবে আলফিকহুল হানাফী ফী ছাওবিহিল জাদীদ ও আলহাদী ইলা আহাদীসিল আহকাম কিংবা জামিউ আহাদীসিল আহকাম (ইলাউস সুনানের মতন)ও সংগ্রহে রাখতে পারেন। 

আপনার মাদরাসায় শরহে বেকায়া জামাতে আর কী কী কিতাব আছে জানালে আরো কিছু পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ মাসুম - জামিয়া ফয়জুর রহমান রাহ. বড় মসজিদ, মোমেনশাহী

প্রশ্ন

নুসূস হিফযের প্রতি আমার বেশ আগ্রহ অনেক আগে থেকেই। কুরআন তরজমা পড়ার সময় বিষয়ভিত্তিক আয়াত একত্র করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে সুন্দর সুন্দর অনেক সংকলন আছে জানতে পেরে তা আর করা হয়নি।

এখন আমি এমন একটি আরবী সংকলনের প্রয়োজন অনুভব করছি, যার মধ্যে পূর্ণ কুরআন মজীদকে আলোচনাভিত্তিক পৃথক শিরোনামে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ সংকলন করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।


উত্তর

আপনি একটি নেক কাজের ইচ্ছা করার পরও অন্যের কথায় কেন তা থেকে ফিরে এলেন? আপনি কি তালীমী মুরববীর সাথে পরামর্শ করেছিলেন? আপনার এ প্রশ্ন তো তার কাছেই করা উচিত যিনি আপনাকে বলেছেন যে, এ বিষয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর সংকলন মজুদ আছে! তার থেকে কোনো উত্তর পাওয়া পর্যন্ত আমার দরখাস্ত এই যে, আপনি মিন সিহাহিল আহাদীসিল কিসার লিননাশিআতিস সিগার-এর বাংলা অনুবাদের ভূমিকায় উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করতে থাকুন। এরপর কোনো সময় আমাকে জানান যে, আপনার কাজ কতটা অগ্রসর হয়েছে এবং এই বিষয়ে বিভিন্ন ভাষা ও বিভিন্ন যুগে সংকলিত কতগুলো কিতাবের নাম আপনি জানতে পেরেছেন।

শেয়ার লিংক

ইবনে সাইর - জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মাদপুর, ঢাকা-১২০৭

প্রশ্ন

ক) আগামী কিছু দিনের মধ্যে কুতুবে সিত্তাহর শুরূহাত সংগ্রহের ইচ্ছা করেছি। কিন্তু আমার নিকট নির্ভরযোগ্য শুরূহাতের কোনো তালিকা নেই। তাছাড়া শরহু মাআনিল আসারের মতো হাদীসের যে সকল কিতাবে মাসআলার সাথে সাথে হানাফী মাযহাবের দলীল-প্রমাণাদি উদ্ধৃত হয়েছে তারও একটি তালিকা হলে সংগ্রহ করা সহজ হবে।

প্রশ্ন : খ) আমরা আপনার যবানে ও কলমে অনেকবার শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. (মৃত্যু ১৪১৭ হি.)-এর কথা শুনেছি। আমার দিলের তামান্না, শায়খ রাহ.-এর জীবনী (বিশেষত পাকিস্তানে অবস্থানকালীন তিন মাসের আলোচনা) ধারাবাহিকভাবে প্রিয় মাজাল্লাহ মাসিক আলকাউসারে প্রকাশ হোক।


 

উত্তর

ক) ১৪২৬ হি. মোতাবেক ২০০৫ ঈ. বর্ষের বিভিন্ন সংখ্যায় কয়েকবার এ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ শরাহসমূহের তালিকা দেওয়া হয়েছে। আর ফিকহে হানাফীর দলিল-প্রমাণ সম্বলিত অনেক কিতাবের নাম আলমাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শরীফ (পৃষ্ঠা : ১৪০-১৪১)

طريقة قريبة لمعرفة الصحيح والضعيف في الجملة

 শিরোনামের অধীনে উল্লেখ হয়েছে। আপনি তা দেখে নিন। ইমাম আবু বকর জাসসাসের কিতাব শরহু মুখতাসারিত তহাবী এখন ৮ খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তা সংগ্রহ করুন ও মনোযোগ দিয়ে মুতাআলা করুন।

খ) আরো কয়েক বন্ধুও এই আবেদন করেছেন। কিছুটা বিলম্ব হলেও আমরা তা পালনের চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।  

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement