আমির - সিলেট

৪৯৮২. প্রশ্ন

আমি ভুলে অযুতে কুলি না করে নামায আদায় করি। জানার বিষয় হল, কুলি করা ছাড়া আমার ঐ অযু হয়েছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কুলি করা ছুটে গেলেও অযু হয়ে গেছে এবং নামাযও হয়ে গেছে। তবে লক্ষণীয় হল, অযুতে কুলি করা সুন্নাতে মুআক্কাদা। তা আদায়ের ব্যাপারে যতœবান হতে হবে। আর অযুর পূর্ণ ফযীলত পাওয়ার জন্য তা সুন্নত মোতাবেক যথাযথভাবে হওয়া উচিত। তাই অযু করা উচিত মনোযোগ সহকারে। যেন তা সকল সুন্নতসহ যথাযথভাবে আদায় হয়।

-কিতাবুল আছল ১/৩২; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ১/৩৩৮; আলহাবিল কুদসী ১/১১৭; ফাতহুল কাদীর ১/২৩; শরহুল মুনয়া পৃ. ৩২

শেয়ার লিংক

যায়েদ - যশোর

৪৯৮১. প্রশ্ন

চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে আমার একটি আমের বাগান আছে। আমের সিজনে বাগানে থেকে দেখাশুনা করতে হয়। আমার এই বাগান দেখাশুনা করার জন্যে কয়েকজন শ্রমিকও রয়েছে। এবছর আমের সিজনে একবার আম পেড়ে যমিনে স্তুপ দেওয়া হয়। ঘটনাক্রমে একদিন শ্রমিকরা সবাই ছুটিতে ছিল। আমি ছাড়া আমের স্তুপ দেখার মতো কেউই ছিল না। তাই আমাকে বাগান দেখাশুনা করতে হল। এদিকে দেখাশুনা করতে করতে যোহরের নামাযের সময় হয়ে যায়। ঘটনাক্রমে আমার আশপাশে অযু করার মতো কোনো পানি ছিল না। যদি পানির সন্ধানে দূরে কোথাও বা পাহাড়ের নিচে যাই, তাহলে বাগানে রাখা সব আম ওঁত পেতে থাকা চোরেরা নিয়ে যাবে। তাই আমি ঐদিন যোহরের নামায শেষ সময়ে তায়াম্মুম করে পড়ি। জানার বিষয় হল, এভাবে যদি কেউ তার সম্পদ চুরির ভয়ে তায়াম্মুম করে নামায পড়ে, তাহলে কি তা সহীহ হবে?

উত্তর

বাস্তবেই যদি পানি আনতে গেলে উল্লেখযোগ্য সম্পদ চুরি হয়ে যাওয়ার প্রবল আশংকা থাকে এবং নামাযের সময়ও শেষ হয়ে যেতে থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে ঐ ওয়াক্তের নামায তায়াম্মুম করে পড়ে নেওয়ার অবকাশ রয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি আপনার ঐরকম আশংকা হয়ে থাকে তাহলে আপনার জন্য তায়াম্মুম করে নামায আদায় করা সহীহ হয়েছে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/১৬৮; আলহাবিল কুদসী ১/১২৭; আলবাহরুর রায়েক ১/১৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮; ইমদাদুল ফাত্তাহ পৃ. ১২০; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৩৪

শেয়ার লিংক

হারেস আলী - পাবনা

৪৯৮০. প্রশ্ন

আমি কিছুদিন আগে কুরআনের আয়াত লিখিত একটা কাগজ পকেটে নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করি। পরে এক ভাই বললেন যে, এভাবে কুরআন লিখিত কাগজ নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করা জায়েয নেই। জানার বিষয় হল, তার ঐ কথা কি ঠিক?

উত্তর

কুরআনের আয়াত, আল্লাহ্র নাম বা যিকির লিখিত কোনো কাগজ বা বস্তু দৃশ্যমান অবস্থায় হাম্মামে (টয়লেটে) নিয়ে যাওয়া জায়েয নয়। কিন্তু পকেটে থাকলে যেহেতু তা আবৃত থাকে তাই এ অবস্থায় প্রবেশ করা নাজায়েয হবে না। অবশ্য যদি জামা বেশি পাতলা হয় এবং বাহির থেকে পকেটের লেখা দৃশ্যমান হয়, তাহলে তা বাইরে রেখে যাবে অথবা আরেকটি কাগজ দিয়ে আয়াতের লেখা কাগজ ঢেকে নিয়ে এরপর পকেটে রাখবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১০৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/২১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫০; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩০; রদ্দুল মুহতার ১/৩৪৫; বযলুল মাজহুদ ১/৪৯

শেয়ার লিংক