উম্মে আইমান - ফরিদপুর

৪২৫২. প্রশ্ন

আমি অন্তঃসত্ত্বা। বর্তমানে আমার শরীর অস্বাভাবিক ভারি হয়ে যাওয়ার কারণে নামাযে মাটিতে সেজদা করতে পারি না। অনেক কষ্ট হয়। তাই কিছুদিন ধরে সেজদার জায়গায় বালিশ রেখে তার উপর সেজদা করছি। আগে আম্মুকেও এভাবে নামায পড়তে দেখেছি। জানতে চাই, আমার এভাবে নামায পড়া ঠিক হচ্ছে কি না? না হলে এ অবস্থায় আমি কীভাবে নামায পড়ব?

 

উত্তর

মাটিতে সেজদা করতে না পারলে বিধান হল, ইশারায় সেজদা করা। আপনিও ইশারায় সেজদা করবেন। ইশারায় সেজদা আদায়ের জন্য রুকুর চেয়ে একটু বেশি ঝুঁকবেন। অবশ্য এ অবস্থায় বালিশ বা নীচু কিছুর উপর সেজদা করা অনুত্তম হলেও নামায হয়ে যায়। তাই আপনার উক্ত নামাযগুলোও আদায় হয়ে গেছে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ২৮৩২; কিতাবুল আছল ১/১৯০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৮৯; রদ্দুল মুহতার ২/৯৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২২; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৩

শেয়ার লিংক

মাহমুদ হাসান - সদর, কুমিল্লা

৪২৫১. প্রশ্ন

যোহরের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত দুই রাকাত আদায় করে যদি নামাযে শরীক হয়ে যাই তাহলে নামাযের পর বাকি দুই রাকাত আদায় করে নিলেই হবে, না পুনরায় চার রাকাত আদায় করতে হবে?

 

 

উত্তর

যোহরের পূর্বের চার রাকাত নামায এক সালামে একত্রে পড়াই সুন্নত। তাই দুই রাকাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে দিলে ফরয নামাযের পর পূর্ণ চার রাকাত পড়তে হবে। তবে এ চার রাকাত যোহরের পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নতের পর পড়া উত্তম।

-মারাকিল ফালাহ পৃ. ২৪৫; শরহুল মুনয়া পৃ. ৩৯৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৪

শেয়ার লিংক

রাকিবুদ্দীন - সদর, কুমিল্লা

৪২৫০. প্রশ্ন

আমরা কয়েকজন মিলে একদিন বাসায় জামাতের সাথে এশার নামায আদায় করি। ইমাম ভুলবশত দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে সূরা ফাতিহার তিন আয়াত নিম্ন আওয়াযে পড়ে ফেলে। স্মরণ হওয়ার পর পুনরায় সূরা ফাতিহা উচ্চস্বরে পড়া শুরু করে। নামায শেষে সাহু সিজদা না করেই সালাম ফিরিয়ে দিয়েছে। আমার জানার বিষয় হল, আমাদের সেই নামাযটি কি সহীহ হয়েছিল? না হলে করণীয় কি?

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এশার নামাযে ভুলবশত তিন আয়াত নিম্নস্বরে পড়ে ফেলার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। যেহেতু সাহু সিজদা করা হয়নি তাই ঐ নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া ওয়াজিব।

উল্লেখ্য যে, নামাযে কোনো ধরনের সমস্যা হলে ওয়াক্ত বাকি থাকতেই কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম থেকে মাসআলা জেনে নেওয়া কর্তব্য। যেন নামায দোহরানোর প্রয়োজন হলে ওয়াক্তের মধ্যেই তা দোহরানো যায়।

-কিতাবুল আছল ১/১৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৬; রদ্দুল মুহতার ২/৮১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবরাহীম - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

৪২৪৯. প্রশ্ন

মুফতী সাহেব! কিছুদিন পূর্বে এক মাহফিলে ইমাম সাহেব নামায পড়াচ্ছিলেন। সূরা ফাতেহার اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ পর্যন্ত পড়ার পর তার কাশি আসে। এরপর ভুলে বাকী দুই আয়াত না পড়েই অন্য সূরা পড়েন। নামায শেষে এটা নিয়ে কথাবার্তা শুরু হলে অন্য একজন বলে দেন, নামায হয়ে গছে, কোনো সমস্যা হয়নি। এর পরও বিষয়টি নিয়ে অনেকে সন্দেহে আছে। মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন মাসআলাটির সঠিক সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

 

উত্তর

সূরা ফাতেহার কিছু অংশ ভুলে ছুটে গেলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু দুই আয়াত ছুটে গেছে তাই সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। অতএব সাহু সিজদা না করে থাকলে ঐ নামাযটি পুনরায় আদায় করে নেওয়া ওয়াজিব।

-রদ্দুল মুহতার ১/৪৫৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৪

শেয়ার লিংক

ইয়াসিন - টেকনাফ

৪২৪৮. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তির উপর গোসল ফরয হয়। তবে তিনি অসুস্থতার কারণে গোসল করতে সক্ষম নন। কিন্তু অযু করতে সক্ষম এবং তার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানিও আছে। জানার বিষয় হল, উক্ত লোকটি গোসলের জন্য যে তায়াম্মুম করবে সেটাই কি অযুর জন্য যথেষ্ট হবে। নাকি ভিন্নভাবে অযু করতে হবে?

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গোসলের জন্য তায়াম্মুম করলে তা গোসল এবং অযু উভয়টির জন্য যথেষ্ট হবে। ভিন্নভাবে অযু করতে হবে না। তবে পরবর্তীতে অযু ভঙ্গের কোনো কারণ দেখা দিলে তখন অযু করতে হবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৭৮৮; কিতাবুল আছল ১/৮৭; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১১৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৩৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৩৯৪; রদ্দুল মুহতার ১/২৩২

শেয়ার লিংক

আহমাদ জারীফ - মিরপুর, ঢাকা

৪২৪৭. প্রশ্ন

বেশ কিছুদিন যাবৎ একটি বিষয়ে সংশয়ে ভুগছি। অযুতে চেহারা ও হাত ধোয়ার সময় কিছু পানি কাপড়ে পড়ে ভিজে যায়। আবার কখনো কখনো অযুর পরপরই নামাযে দাঁড়িয়ে যাই। টাওয়াল ব্যবহার না করার কারণে তখন হাতের অবশিষ্ট পানিতে জামার আস্তিন ভিজে যায়। দাড়ি থেকেও পানি পড়তে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, অযুর পানিতে কাপড় ভেজা অবস্থায় নামায পড়লে নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি? আশা করি দ্রুত জানিয়ে সংশয় দূর করবেন।

 

উত্তর

অযুর পানি অপবিত্র নয়। তা কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হয় না। তাই অযুর পানি কাপড়ে লাগলে সে কাপড় পরে নামায পড়া যাবে। তবে যেহেতু তা ব্যবহৃত পানি তাই কাপড়ে যেন অধিক পরিমাণে না লাগে সে দিকে খেয়াল রাখা ভাল।

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ১/২৩৭; বাদায়েউস সনায়ে ১/২১২; ফাতহুল কাদীর ১/৭৫; আলমুহীতুল বুরহানী ১/২৭৮

শেয়ার লিংক

আবদুল মুয়ীদ - মধুখালী, ফরিদপুর

৪২৪৬. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে বাজার থেকে গোশত কিনে ফেরার পথে গোশতের ব্যাগ চুয়ে আমার কাপড়ে কিছু রক্ত লাগে। যোহরের নামাযের সময় মসজিদে গেলে একজন বললেন, রক্ত যেহেতু নাপাক তাই এই কাপড়ে আপনার নামায হবে না। তখন আমি সেই কাপড় পরিবর্তন করে নামায পড়ি। এখন আমি জানতে চাই, তার কথা কি ঠিক? গোশতের মধ্যে থাকা রক্ত কি নাপাক?

 

উত্তর

জবাইয়ের সময় যে রক্ত বের হয় কেবল সে প্রবাহিত রক্তই নাপাক। গোশতের ভেতর থেকে যে রক্ত বের হয় তা নাপাক নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার কাপড়ে প্রবাহিত রক্ত লেগে না থাকলে গোশত থেকে বের হওয়া রক্ত লাগার কারণে কাপড় নাপাক হয়নি।

-আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ১/১২৩; আলজামে লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ২/১৪৯; বাদায়েউস সনায়ে ১/১৯৬; আলমুহীতুল বুরহানী ১/৩৬৭; রদ্দুল মুহতার ১/৩১৯

শেয়ার লিংক

নাফীসা তাসনীম - মগবাজার, সিলেট

৪২৪৫. প্রশ্ন

আমি একজন গৃহিণী। বাসায় বড় মাছ কাঁটতে গেলে অনেক সময় কাপড়ে মাছের রক্ত লাগে। সাধারণত এমন হলে আমি সে কাপড় পরিবর্তন করে নামায পড়ি। কিন্তু একদিন ভুলবশত মাছের রক্তযুক্ত কাপড় পরেই সেদিনের আসরের নামায পড়ে ফেলি। পরে মাগরিবের সময় স্মরণ হলে সে কাপড় পরিবর্তন করি। এখন জানার বিষয় হল, আমার সেদিনের আসর নামায কি আদায় হয়নি? এখন কি তা কাযা করতে হবে?

 

উত্তর

মাছের রক্ত অপবিত্র নয়। কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হয় না। সুতরাং মাছের রক্ত মাখা কাপড় নিয়ে যে নামায পড়েছেন তা সহীহ হয়েছে। তা কাযা করতে হবে না। তবে কাপড় যে পরিষ্কার থাকা উচিত তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ২০৩৬; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৮৭; বাদায়েউস সনায়ে ১/১৯৫; ফাতহুল কাদীর ১/১৭৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৪৪

শেয়ার লিংক

সিদ্দিকুর রহমান - শ্যামলি, ঢাকা

৪২৪৪. প্রশ্ন

আমি চামড়ার মোজার উপর মাসেহ করি। অনেক সময় এমন হয় যে, অযু থাকতেই মাসেহের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। এখন জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমার জন্য পুনরায় অযু করা আবশ্যক নাকি শুধু মোজা খুলে পা ধুয়ে নিলেই চলবে?

 

উত্তর

অযু থাকা অবস্থায় যদি মাসেহের সময়সীমা শেষ হয়ে যায় তাহলে মোজা খুলে উভয় পা ধুয়ে নিলেই চলবে। পুনরায় অযু করা আবশ্যক নয়। তবে নতুন করে অযু করে নেওয়া উত্তম।

-কিতাবুল আসার, বর্ণনা ১৫; কিতাবুল আছল ১/৭৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪১৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৭৬

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement