মুহাররম-১৪৩৩ . ডিসেম্বর-২০১১

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ০৭ . সংখ্যা: ১১

সকল প্রশ্ন-উত্তর »

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

  • ২৩৪৬ . হাজেরা খাতুন . লাকসাম, কুমিল্লা
    প্রশ্ন:

    আমরা জানি, নামাযে মহিলাদের হাতের তালু ও পিঠ কোনোটিই সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়। এজন্য অনেক সময় হাত অনাবৃত রেখেও নামায পড়তাম। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে আমাদের গ্রামের এক মহিলা বলল যে, হাতের পিঠ নাকি সতর। তার কথা কি ঠিক? এব্যাপারে সঠিক মাসআলা জানিয়ে বাধিত করবেন।


    উত্তর:

    বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী মহিলাদের হাতের তালু ও পিঠ নামাযে ঢেকে রাখা জরুরি নয়। বরং খোলা রাখার অবকাশ আছে। সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত মহিলার কথাটি সঠিক নয়।

    -আসসিআয়াহ ২/৭২; শরহুল মুনইয়া ২১১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৯-২৭০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ১৩১; মিনহাতুল খালেক ১/২৬৯-২৭০; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৫-৪০৬
  • ২৩৪৭ . আবদুল গাফফার . নড়িয়া, শরীয়তপুর
    প্রশ্ন:

    কোনো মাসবুক যদি ইমাম সাহেবকে রুকুতে পায় অতপর মাসবুক ইমামের সাথে মাত্র একবার রুকুর তাসবীহ পড়তে পেরেছে, দ্বিতীয় তাসবীহ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেছেন তাহলে মাসবুকের নামাযের হুকুম কি?


    উত্তর:

    ইমামকে স্বল্প সময়ের জন্য রুকুতে পেলেই রাকাত পেয়েছে বলে ধর্তব্য হয়। ইমামের সাথে রুকুর তাসবীহ পড়া জরুরি নয়; তবে এক্ষেত্রে ইমামকে রুকু অবস্থায় পাওয়ার পর ইমাম উঠে গেলেও সে একবার তাসবীহ পড়ে উঠবে। কেননা রুকুতে এক তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব করা ওয়াজিব। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি ঐ রাকাত পেয়েছে এবং তার নামায সহীহভাবেই আদায় হয়েছে।

    হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেয়ে ইমাম (রুকু থেকে) মাথা উঠানোর পূর্বে রুকুতে শামিল হল সে (ঐ) রাকাত পেয়ে গেল।

    -সুনানে কুবরা, বায়হাকী ২/৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/২৭৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ২৪৭; রদ্দুল মুহতার ২/৬১
  • ২৩৪৮ . মুহাম্মাদ হামীদুল্লাহ . মাধবপুর, হবিগঞ্জ
    প্রশ্ন:

     

    ঈদের খুতবার সময় কথাবার্তা বলা কি জায়েয আছে? না এক্ষেত্রে চুপ থেকে খুতবা শ্রবণ করা জরুরি?


     

    উত্তর:

    ঈদের খুতবাও চুপ থেকে শ্রবণ করা ওয়াজিব। এ সময় কোনো কথাবার্তা বলা নাজায়েয। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চার ক্ষেত্রে চুপ থাকা ওয়াজিব : জুমআ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও সালাতুল ইসতিসকার (খুতবার) সময়।

    -মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/২৮২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৪/২১১; ইলাউস সুনান ৮/১৪৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৯; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ২৮২
  • ২৩৪৯ . মুহাম্মাদ জুনায়েদ . শরীফপুর, শহীদ বাড়িয়া
    প্রশ্ন:

    আমার চাচা ঢাকায় চাকরি করতেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। ফলে সেখানে একবার জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নামাযে চাচার ছেলেরা উপস্থিত ছিল। গ্রামের বাড়িতে লাশ আনার পর তার অন্যান্য আত্মীয়রা দ্বিতীয়বার জানাযার নামায আদায় করে। জানার বিষয় হল, তাদের জন্য দ্বিতীয়বার জানাযা আদায় করা জায়েয হয়েছে কি?


    উত্তর:

    যে কোনো মাইয়েতের জন্য একবার জানাযা পড়াই শরীয়তের হুকুম। একাধিকবার জানাযা আদায় করা শরীয়তসম্মত নয়। অবশ্য কখনো যদি মৃতের অভিভাবকদের অনুপস্থিতিতে তাদের অনুমতি ছাড়া জানাযা হয়ে যায় তাহলে তাদের জন্য দ্বিতীয়বার জানাযা পড়ার অনুমতি আছে।

    অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও প্রথম জামাতে যেহেতু মৃতের ছেলেরা শরিক ছিল তাই আত্মীয়দের জন্য দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়া ঠিক হয়নি। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের বক্তব্য ও আমল দ্বারা বিষয়টি প্রমানিত। নাফে রা. থেকে বর্ণিত, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. যদি জানাযার নামায হয়ে যাওয়ার পর উপস্থিত হতেন তাহলে (মৃতের জন্য) দুআ করেই চলে আসতেন। দ্বিতীয়বার জানাযা পড়তেন না। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৫১৯)

    অন্য বর্ণনায় এসেছে, প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ইবরাহীম রাহ. বলেন, এক মৃত ব্যক্তির দুবার জানাযা পড়া যায় না। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৭/৪২০)

    অপর বর্ণনায় এসেছে, বিখ্যাত তাবেয়ী  হাসান বসরী রাহ. যদি কখনো জানাযার নামায না পেতেন তাহলে মৃতের জন্য কেবল ইস্তিগফার করতেন। (প্রাগুক্ত)

     সুতরাং যে কোনো মাইয়্যেতের জানাযা কেবল একবারই পড়া যাবে। আর যারা জানাযা পায়নি তারা সাহাবায়ে কেরামের নিয়ম অনুযায়ী মৃতের জন্য দুআ ও ইস্তিগফার করবে। এটিই শরীয়তের শিক্ষা।

    -ইলাউস সুনান ৮/২৮৮; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/২১৮; আযযখীরা ২/৪৭২; কিতাবুল উম্ম ১/৩১৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৩; রদ্দুল মুহতার ২/২২৩
  • ২৩৫০ . মুহাম্মাদ সজিব মিয়া . আহরন্দ, শহীদ বাড়িয়া
    প্রশ্ন:

    আমাদের এলাকায় একটি প্রচলন আছে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া হয়। অনেকে এর পিছনে এই যুক্তি পেশ করে যে, আযান শুনলে শয়তান পলায়ন করে তাই মুনকার-নাকিরের প্রশ্নের সময় শয়তান যাতে মৃত ব্যক্তিকে কুমন্ত্রণা না দিতে পারে সেজন্য আযান দিয়ে শয়তানকে বিতাড়িত করা হয়। জানার বিষয় হল, এই প্রচলনটি কি শরীয়তসম্মত? জানিয়ে বাধিত করবেন।


    উত্তর:

    দাফনের পর কবরে আযান দেওয়ার প্রচলনটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীন কারো থেকেই এ ধরনের আমল বা বক্তব্য প্রমাণিত নয়। সুতরাং এ  কাজটি কু-রসম ও বিদআত। এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি এই দ্বীনের মাঝে কোনো নতুন বিষয় আবিষ্কার করবে, যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়- তা প্রত্যাখ্যাত। (সহীহ বুখারী ১/৩৭১)

    উল্লেখ্য যে, কোনো আমলের জন্য মনগড়া যুক্তি পেশ করা তা বৈধ হওয়া প্রমাণ করে না; বরং কোনো আমল প্রমাণের জন্য শরীয়তের যথাযথ দলীল-প্রমাণ থাকা জরুরি।

    -সহীহ বুখারী ১/৩৭১; রদ্দুল মুহতার ১/৩৮৫, ২/২৩৫