শাওয়াল ১৪৩৭   ||   জুলাই ২০১৬

মাহে রমাযান আমাদের জীবনে অক্ষয় হোক

অশেষ রহমত ও বরকত নিয়ে মাহে রমাযানের আগমন হয়েছিল। আল্লাহর আদেশে, তাঁর সাধারণ নিয়মে তা আমাদের মধ্য থেকে বিদায়ও নিয়ে গেল। তবে নানা ইবাদত-বন্দেগী, আমল ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে এ পুন্যের মাস আমাদের জন্য রেখে গেছে এক বড় শিক্ষা, মহা পয়গাম। এই শিক্ষা ও পয়গামকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করে এর উপর গোটা বছর অবিচল থাকতে পারলেই এ মাসের পূর্ণ শোকরগোযারী হয় এবং আবার তা ফিরে পাবার আকাক্সক্ষা সত্য ও যথার্থ হয়।

ইস্তিকামাতও অবিচলতা মুমিনের এক কাম্য গুণ। মুমিন কীসের উপর অবিচল থাকবে? মুমিন অবিচল থাকবে ঈমানের মাধ্যমে যে সত্য সে লাভ করেছে তার উপর।

اِنَّ الَّذِیْنَ قَالُوْا رَبُّنَا اللهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوْا فَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ، اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ۚ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ.

যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতপর অবিচল থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী, ওখানে তারা স্থায়ী হবে, তারা যা করত তার পুরস্কার স্বরূপ। -সূরা আহকাফ (৪৬) : ১৩-১৪

কী অপূর্ব  সহজ ভাষায় কুরআন বর্ণনা করেছে অবিচলতার অর্থ। আল্লাহকে রব মেনে এরই উপর অবিচল থাকা। আল্লাহই আমার রব। তিনিই সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা। জগৎ-মহাজগতের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা। আর তিনিই প্রভু। জীবনের সকল অঙ্গনে তাঁরই বিধান শিরোধার্য।

قُلْ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ یُوْحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ فَاسْتَقِیْمُوْۤا اِلَیْهِ وَ اسْتَغْفِرُوْهُ ؕ وَ وَیْلٌ لِّلْمُشْرِكِیْنَ.

বল, আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষই। আমার প্রতি ওহী হয় যে, তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ। সুতরাং তাঁরই দিকে অবিচল হও এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর দুর্ভোগ মুশরিকদের জন্য। -সূরা হা-মীম আসসাজদাহ (৪১) : ৬

সুতরাং তাওহীদ ও আল্লাহমুখিতায় অবিচল থাকা মুমিনের কর্তব্য।

وَّ اَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُوْنَ وَ مِنَّا الْقٰسِطُوْنَ ؕ فَمَنْ اَسْلَمَ فَاُولٰٓىِٕكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا، وَ اَمَّا الْقٰسِطُوْنَ فَكَانُوْا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا.

আমাদের মাঝে কতক অত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) আর কতক সীমালংঘনকারী। তো যারা আত্মসমর্পণ করেছে (ইসলাম কবুল করেছে) তারা তো সত্যপথ বেছে নিয়েছে। অপরপক্ষে সীমালংঘনকারীরা তো জাহান্নামের ইন্ধন...। -সূরা জিন্ন (৭২) : ১৩-১৬

এই সত্যপথ প্রাপ্তির পর জগতের নানা মতবাদ ও মানব মস্তিষ্কের নানা খেয়াল-খুশির কী মূল্য থাকতে পারে! ইসলামই ঐ চূড়ান্ত সত্য, যার পর অন্য কোথাও সত্য সন্ধানের না কোনো প্রয়োজন থাকে না অবকাশ। বাতিল পন্থা ও বাতিল-পন্থীদের প্রতি ঝোঁকার তো প্রশ্নই আসে না। কুরআন মাজীদের কঠিন হুঁশিয়ারি-

فَاسْتَقِمْ كَمَاۤ اُمِرْتَ وَ مَنْ تَابَ مَعَكَ وَ لَا تَطْغَوْا ؕ اِنَّهٗ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ، وَ لَا تَرْكَنُوْۤا اِلَی الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ  وَ مَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللهِ مِنْ اَوْلِیَآءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ.

সুতরাং তুমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছ তাতে স্থির থাক। এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তারাও স্থির থাকুক। এবং সীমালংঘন করো না। তোমরা যা কর নিশ্চয়ই তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা।

যারা সীমালংঘন করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, পড়লে অগ্নি তোমাদের স্পর্শ করবে। এ অবস্থায় আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক থাকবে না। অতপর তোমাদের সাহায্য করা হবে না। -সূরা হূদ (১১) : ১১২-১১৩

মাহে রমাযান আমাদের তাকওয়ার বার্তা শুনিয়ে গেছে। তাকওয়া অর্থ অত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মরক্ষ্মা। বিশ্বাস ও কর্মের অনাচার থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলা, যেভাবে কাঁটাঝোপ বেষ্টিত পথের পথিক নিজের আঁচল বাঁচিয়ে চলে।

সওম আমাদের দিয়েছে মিথ্যা ও অন্যায় কর্ম বর্জনের সবক এবং দেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গোনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখার সবক। এই অত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আত্মরক্ষ্মা করা যাবে জাহান্নামের আগুন থেকে। সুতরাং এই সবক শুধু এক মাসকালের জন্য নয়, গোটা বছরের জন্য এবং গোটা জীবনের জন্য। সওম ও রমাযানের এই সবক যার জীবনে সত্য হয় সেই তো রমাযানের পূর্ণ রহমত প্রকৃতরূপে লাভ করে। তাই মাহে রমাযানের বিদায়ে আমাদের কর্তব্য, এ মাসের শিক্ষাকে বিশ্বাস ও কর্মে ধরে রাখতে সচেষ্ট হওয়া এবং ইস্তিকামাত ও অবিচলতার গুণ অর্জনে সক্ষম হওয়া।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের তাওফীক দিন এবং মাহে রমাযানকে আমাদের জীবনে সার্থক ও মহিমান্বিত করুন। আমীন 

 

 

advertisement